বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * গণপরিবহন সংকটে দুর্ভোগ   * উত্তরপ্রদেশে ব্যাপক বন্যা, ২৪ ঘণ্টায় নিহত ১০   * কমপ্লিট শাটডাউনেও বাস চালানোর নির্দেশনা   * ঢাকায় ১৬ প্লাটুন আনসার ব্যাটালিয়ন মোতায়েন   * কমপ্লিট শাটডাউন ঘিরে কাউকে সহিংসতা করতে দেওয়া হবে না   * আজ সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’   * দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র যাত্রাবাড়ী, টোল প্লাজায় আগুন   * প্রাণহানির প্রতিটি ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে : প্রধানমন্ত্রী   * কোটা সংস্কার আন্দোলন : বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা   * সাম্য, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান রাষ্ট্রপতির  

   জাতীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
গণপরিবহন সংকটে দুর্ভোগ

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটা। রাজধানীর পোস্তগোলায় বাসের অপেক্ষায় করছেন শত শত মানুষ। ২০ থেকে ৩০ মিনিট অপেক্ষার পর আসছে একটি-দুটি বাস। সেই বাসেও যাত্রীতে ঠাসা। দরজার হাতল ধরে ঝুলে আছে অনেকে। মোড়ে অপেক্ষারত মানুষ যে ঝুলে কোনোভাবে বাসে উঠবে সেই সুযোগও নেই। হঠাৎ কেউ নেমে পড়লে দু-একজন দৌড়ে উঠলেও অনেকে ‘ব্যর্থ হয়ে’ ফিরে আসছেন। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসের শুরুতেই রাজধানীতে এমন বাস সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও গন্তব্যে যেতে বাস না পেয়ে সকালেই দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে এমন বাস সংকট দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে রাজধানীর জুরাইন, পোস্তগোলা, পল্টন, রামপুরা, নতুনবাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছে শত শত মানুষ। মাঝেমধ্যে দু-একটি বাস এলেও সেগুলো যাত্রীতে পরিপূর্ণ। বিভিন্ন স্থানে দু-একজন নেমে গেলেও হুড়োহুড়ি করে উঠছে অনেক বেশি। অনেকে বাসে উঠতে পারবে না এমন আশঙ্কা থেকে হেঁটেই গন্তব্যে রওনা হন। আবার কেউ কেউ রিকশা বা সিএনজি অটোরিকশায় করে গন্তব্যে যাচ্ছেন। এজন্য তাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।

Dhaka-3পোস্তাগোলা মোড়ে প্রায় আধা ঘণ্টার মতো অপেক্ষার পরও বাসে উঠতে না পারা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী আসাদ জানান, প্রায় ২৫ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে আছি, বাসে উঠতে পারছি না। যেসব বাস আসছে, তার সবই যাত্রীতে পূর্ণ। কোনোভাবে যে ঝুলে বাসে উঠব, সেই সুযোগও নেই।

আসাদ আরও বলেন, যে দাবি নিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে সরকারের উচিত তাদের সঙ্গে বসে সমস্যার সমাধান করা।

দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের তুমুল আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং জেলা কোটা ১০ শতাংশ বাতিল করে পরিপত্র জারি করে সরকার। সেখানে বলা হয়েছিল, ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। ওইসব গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা বাতিল করা হলো।

এ পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলামসহ সাত শিক্ষার্থী। এর প্রেক্ষিতে গত ৫ জুন ২০১৮ সালের জারিকৃত পরিপত্রটিকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

Dhaka-4এরপর থেকেই সারাদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফুঁসে ওঠেন। কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে নানা স্থানে বিক্ষোভ করেন কোটাবিরোধীরা। ঢাবি ছাড়াও বিক্ষোভ হয় জাবি, জবি, রাবি, সাত কলেজসহ দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন কলেজে।

এরমধ্যে গত মঙ্গলবার দিনব্যাপী রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ছয়জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে চট্টগ্রামে তিনজন, ঢাকায় দুজন ও রংপুরে একজন রয়েছেন।

পরিস্থিতির যেন আরও অবনতি না হয় সেজন্য দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করলেও সেই সিদ্ধান্ত না মানেননি অনেক শিক্ষার্থী।

এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবার সারাদেশে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীরা। এই কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকে গণপরিবহন কম দেখা গেছে রাজধানীর সড়কে। শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির মধ্যে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ আসছে বলে সড়ক পরিবহন ও মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েতউল্লাহ জানালেও রাজধানীর সড়কে অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বাস দেখা গেছে।

শিকড় পরিবহনের চালকের এক সহকারী বলেন, দুই-তিন দিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে গাড়ি চালাতে সমস্যা হয়েছে। রাস্তায় শিক্ষার্থীরা অবরোধ করায় গাড়ি থেকে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। আজকের কর্মসূচিতে যদি ঝামেলা হয় সেজন্য হয়তো গাড়ি কম চলছে।

গণপরিবহন সংকটে দুর্ভোগ
                                  

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটা। রাজধানীর পোস্তগোলায় বাসের অপেক্ষায় করছেন শত শত মানুষ। ২০ থেকে ৩০ মিনিট অপেক্ষার পর আসছে একটি-দুটি বাস। সেই বাসেও যাত্রীতে ঠাসা। দরজার হাতল ধরে ঝুলে আছে অনেকে। মোড়ে অপেক্ষারত মানুষ যে ঝুলে কোনোভাবে বাসে উঠবে সেই সুযোগও নেই। হঠাৎ কেউ নেমে পড়লে দু-একজন দৌড়ে উঠলেও অনেকে ‘ব্যর্থ হয়ে’ ফিরে আসছেন। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসের শুরুতেই রাজধানীতে এমন বাস সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও গন্তব্যে যেতে বাস না পেয়ে সকালেই দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে এমন বাস সংকট দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে রাজধানীর জুরাইন, পোস্তগোলা, পল্টন, রামপুরা, নতুনবাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছে শত শত মানুষ। মাঝেমধ্যে দু-একটি বাস এলেও সেগুলো যাত্রীতে পরিপূর্ণ। বিভিন্ন স্থানে দু-একজন নেমে গেলেও হুড়োহুড়ি করে উঠছে অনেক বেশি। অনেকে বাসে উঠতে পারবে না এমন আশঙ্কা থেকে হেঁটেই গন্তব্যে রওনা হন। আবার কেউ কেউ রিকশা বা সিএনজি অটোরিকশায় করে গন্তব্যে যাচ্ছেন। এজন্য তাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।

Dhaka-3পোস্তাগোলা মোড়ে প্রায় আধা ঘণ্টার মতো অপেক্ষার পরও বাসে উঠতে না পারা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী আসাদ জানান, প্রায় ২৫ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে আছি, বাসে উঠতে পারছি না। যেসব বাস আসছে, তার সবই যাত্রীতে পূর্ণ। কোনোভাবে যে ঝুলে বাসে উঠব, সেই সুযোগও নেই।

আসাদ আরও বলেন, যে দাবি নিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে সরকারের উচিত তাদের সঙ্গে বসে সমস্যার সমাধান করা।

দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের তুমুল আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং জেলা কোটা ১০ শতাংশ বাতিল করে পরিপত্র জারি করে সরকার। সেখানে বলা হয়েছিল, ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। ওইসব গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা বাতিল করা হলো।

এ পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলামসহ সাত শিক্ষার্থী। এর প্রেক্ষিতে গত ৫ জুন ২০১৮ সালের জারিকৃত পরিপত্রটিকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

Dhaka-4এরপর থেকেই সারাদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফুঁসে ওঠেন। কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে নানা স্থানে বিক্ষোভ করেন কোটাবিরোধীরা। ঢাবি ছাড়াও বিক্ষোভ হয় জাবি, জবি, রাবি, সাত কলেজসহ দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন কলেজে।

এরমধ্যে গত মঙ্গলবার দিনব্যাপী রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ছয়জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে চট্টগ্রামে তিনজন, ঢাকায় দুজন ও রংপুরে একজন রয়েছেন।

পরিস্থিতির যেন আরও অবনতি না হয় সেজন্য দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করলেও সেই সিদ্ধান্ত না মানেননি অনেক শিক্ষার্থী।

এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবার সারাদেশে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীরা। এই কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকে গণপরিবহন কম দেখা গেছে রাজধানীর সড়কে। শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির মধ্যে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ আসছে বলে সড়ক পরিবহন ও মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েতউল্লাহ জানালেও রাজধানীর সড়কে অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বাস দেখা গেছে।

শিকড় পরিবহনের চালকের এক সহকারী বলেন, দুই-তিন দিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে গাড়ি চালাতে সমস্যা হয়েছে। রাস্তায় শিক্ষার্থীরা অবরোধ করায় গাড়ি থেকে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। আজকের কর্মসূচিতে যদি ঝামেলা হয় সেজন্য হয়তো গাড়ি কম চলছে।

মেট্রোরেল কমপ্লিট শাটডাউনেও চলবে : ডিএমটিসিএল
                                  

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের হত্যা এবং ঢাবি প্রশাসনের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্বিচার হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এ কর্মসূচির মধ্যেও যথারীতি মেট্রোরেল চলবে বলে জানিয়েছে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

বুধবার (১৭ জুলাই) রাতে ডিএমটিসিএলের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, মেট্রোরেল নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী চলবে। মেট্রোরেল ও যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা দেয়।

এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীতে গত কয়েকদিন ধরে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে নগরবাসীসহ অফিসগামী চাকরিজীবীরা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়ছেন। এ পরিস্থিতিতে তাদের একমাত্র ভরসার যানবাহন হয়ে উঠেছে এই মেট্রোরেল।

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণত প্রতিদিন মেট্রোরেলে প্রায় তিন লাখ যাত্রী চলাচল করেন। কিন্তু গত কয়েক দিনে প্রতিদিন সাড়ে তিন লাখ থেকে তিন লাখ ৬০ হাজার যাত্রী মেট্রোতে চলাচল করেছেন। এর মধ্যে মতিঝিল, সচিবালয়, কারওয়ান বাজার ও উত্তরা উত্তর স্টেশনে সবচেয়ে বেশি যাত্রী ছিল।

কমপ্লিট শাটডাউনেও বাস চালানোর নির্দেশনা
                                  

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের হত্যা এবং ঢাবি প্রশাসনের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্বিচার হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তবে তাদের এ কর্মসূচিতেও বাস চালানোর নির্দেশনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও মালিক সমিতি।

বুধবার (১৭ জুলাই) রাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আমরা গাড়ি বন্ধ করিনি। গাড়ি চলার নির্দেশ আছে। যদি রাস্তার অবস্থা ভালো থাকে, তবে গাড়ি চলবে। কোথাও কোনো সমস্যা হলে তখন দেখা যাবে। তখন বন্ধ থাকতে পারে।

এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীতে গত কয়েকদিন ধরে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে নগরবাসীসহ অফিসগামী চাকরিজীবীরা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়ছেন।

এর আগে, বুধবার রাত পৌনে ৮টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল হাসপাতাল ও জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছু বন্ধ থাকবে এবং রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কোনো যানবাহন চলবে না বলে জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, সোয়াটের ন্যাক্কারজনক হামলা, খুনের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এবং কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে ১৮ জুলাই সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করছি।

প্রসঙ্গত, চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বেশ সহিংস রূপ নেয়। এদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে ৬ জন মারা যান। আহত হন কয়েকশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

এ অবস্থায় মঙ্গলবারই সারা দেশের স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার বন্ধ ঘোষণা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হল ও ক্যাম্পাস ত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন। হলগুলোর ভেতরে অবস্থান করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বেশিরভাগ হল থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বের করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা প্রসঙ্গে কথা বলার সময় মন্তব্য করেন ‘মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতিরা কিছুই পাবে না, রাজাকারের নাতিপুতিরা সব পাবে?’

প্রধানমন্ত্রীর এ মন্তব্যে ক্ষিপ্ত হন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। তারা ধরে নিয়েছেন ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ তাদেরকেই বলা হয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে এবং কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে রোববার মধ্যরাত থেকেই আন্দোলনে নামেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সেই আন্দোলন এখনো চলছে। বুধবারও ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানী ঢাকাসহ ৬ জেলায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

আজ সাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে মার্কিন দূতাবাস
                                  

ঢাকার মার্কিন দূতাবাস বৃহস্পতিবার সাধারণ মানুষের জন্য কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) রাতে দূতাবাসের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে ঢাকাসহ আশেপাশের এলাকায় সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার চেয়ে চলমান আন্দোলন সহিংস হয়ে উঠেছে। এখন পর্যন্ত সারাদেশে কয়েকজন নিহত ও হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি ভয়াবহ। বিক্ষোভের কারণে ঢাকায় যান চলাচলে সমস্যা হতে পারে এবং এতে ঘরে বাহিরে আসা কঠিন হয়ে যাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ পরিস্থিতিতে মার্কিন নাগরিকদের সহনশীল আচরণ করা উচিত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এলাকায় ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত। এছাড়াও বিক্ষোভ এবং বৃহৎ জমায়েত হয় এমন জায়গা এড়িয়ে যাওয়া ভালো।

এতে আরও বলা হয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় বৃহস্পতিবার মার্কিন দূতাবাস সাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে। দূতাবাসকর্মীদের কূটনৈতিক এলাকার মধ্যেই অবস্থান করতে অনুরোধ করতে বলা হচ্ছে।

ঢাকায় ১৬ প্লাটুন আনসার ব্যাটালিয়ন মোতায়েন
                                  

বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ঢাকা মহানগরীতে ৪০ জন নারী আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যসহ ১৬ প্লাটুন আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য মোতায়েন করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

বুধবার (১৭ জুলাই) রাতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহকারী পরিচালক (ভিডিপি প্রশিক্ষণ) ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. রুবেল হোসাইন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ১৭ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের রাজনৈতিক শাখা-২ এর নির্দেশনা মোতাবেক আনসার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

বাহিনীর সদরদপ্তর থেকে আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব ও দেশপ্রেম নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। জনগণের জানমাল ও সরকারি সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার নিমিত্তে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে তাদের সমন্বয় করে কাজ করতে বলা হয়েছে।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এ কর্মকর্তা আরও বলেন, দুষ্কৃতকারীরা যেন সাধারণ ছাত্র ও জনতার কোনো ধরনের ক্ষতি করতে না পারে সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সারাদেশে বাহিনীর সব ইউনিটেও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আজ সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’
                                  

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ পালন করবেন আন্দোলনকারীরা।

বুধবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

ওই পোস্টে বলা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, সোয়াটের ন্যক্কারজনক হামলা, খুনের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত ও এক দফা দাবিতে ১৮ জুলাই সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করছি।

সেখানে আরও বলা হয়, কর্মসূচি চলাকালে শুধু হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ব্যতীত কোনো প্রতিষ্ঠানের দরজা খুলবে না, অ্যাম্বুলেন্স ব্যতীত সড়কে কোনো গাড়ি চলবে না। সারাদেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাচ্ছি আগামীকালকের কর্মসূচি সফল করুন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পোস্টে আরও বলা হয়, আমাদের অভিভাবকদের বলছি, আমরা আপনাদেরই সন্তান। আমাদের পাশে দাঁড়ান, রক্ষা করুন। এ লড়াইটা শুধু ছাত্রদের নয়, দলমত নির্বিশেষে এদেশের আপামর জনসাধারণের।

এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ দেন তিনি।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের সুযোগ রয়েছে। এরপরও রাস্তায় আন্দোলনে নেমে দুষ্কৃতকারীদের সংঘাতের সুযোগ করে দেবেন না। সর্বোচ্চ আদালতের রায় আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার জন্য সকলকে অনুরোধ জানাচ্ছি। আমার বিশ্বাস, আমাদের ছাত্রসমাজ উচ্চ আদালত থেকে ন্যায়বিচারই পাবে, তাদের হতাশ হতে হবে না।

এদিকে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণার পর রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশের সঙ্গে কতিপয় আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। বুধবার (১৭ জুলাই) রাত ১০টা থেকে উভয়পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। এরপর হানিফ ফ্লাইওভারের টোল প্লাজায় আগুন দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানা থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকটি মোটরসাইকেল ও সিএনজি পুড়িয়ে দেয় আন্দোলনকরীরা। এর আগে যাত্রাবাড়ী থানায় হামলার ঘটনা ঘটে।

রাতে আন্দোলনকারীদের দখলে থাকা রাস্তা ফাঁকা করতে যৌথ টহল শুরু করেছে র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবি। টহল শুরুর কিছু সময়ের মধ্যেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। বুধবার দিনগত রাত সোয়া ৩টায় যান চলাচল শুরু হয়।

কিন্তু টহলের কিছুক্ষণ পর ফের একত্র হয়ে রাস্তা দখলে নেয় আন্দোলনকারীরা। পুলিশ-র‍্যাব-বিজিবির টহল শেষে রায়েরবাগ, শনির আখড়ায় আটকে থাকা অনেক যানবাহন যাত্রাবাড়ী আসতে পারলেও কিছুক্ষণ পর ফের একত্র হয়ে গাড়ি ভাঙচুর ও সড়কে আগুন জ্বালায় আন্দোলনকারীরা।

প্রাণহানির প্রতিটি ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে : প্রধানমন্ত্রী
                                  

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সংঘর্ষে সারা দেশে যেসব প্রাণহানি ঘটেছে প্রতিটি ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


বুধবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, কিছু মহল কোটা আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। এর ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, তা খুবই বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক।


তিনি আরও বলেন, একটি আন্দোলন ঘিরে অহেতুক কতগুলো মূল্যবান জীবন ঝরে গেল। আপনজন হারানোর বেদনা যে কত কষ্ট, তা আমার চেয়ে আর কেউ বেশি জানে না।

বক্তব্যের শুরুতে শেখ হাসিনা বলেন, আজকে অত্যন্ত বেদনা ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণের আত্মসামাজিক উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছি। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ব্যবস্থা করে জনগণকে উন্নত জীবনযাত্রা দিতে শুরু করেছি। অনেক সাফল্য অর্জন করেছি। বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে একটা মর্যাদার আসনে আসীন করতে সক্ষম হয়েছি। তারপর আমাদের অনেক দূর যেতে হবে।

বাংলাদেশের মানুষ যখন স্বস্তি-শান্তিতে ফিরে তখন তাদের মাঝে এমন কোনো ঘটনা ঘটে যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিল করে একটা পরিপত্র জারি করে সরকার। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে উচ্চ আদালত ২০১৮ সালের জারি করা সরকারি পরিপত্র বাতিল করে দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে পরিপত্র বহাল রাখার জন্য সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করা হয়। আদালত শুনানির দিন ধার্য করেন। এ সময় ছাত্ররা কোটা বাতিলের দাবি নিয়ে আবারো আন্দোলন শুরু করে। এ আন্দোলনের শুরু থেকেই সরকার যথেষ্ট ধৈর্য ও সহশীলতার পরিদর্শন করেছে।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশ সহযোগিতা করেছে। রাষ্ট্রপতির কাছে যখন আন্দোলনকারীরা স্মারকলিপি প্রদানের ইচ্ছাপোষণ করে সেক্ষেত্রে তাদের সুযোগ করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সরকারপ্রধান বলেন, যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আমি প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাই।

ছাত্ররা উচ্চআদালত থেকে ন্যায়বিচার পাবে, তাদের হতাশ হতে হবে না

উচ্চ আদালত থেকে ছাত্রসমাজ ন্যায়বিচার পাবে এবং তাদের হতাশ হতে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকারপ্রধান বলেন, আমার বিশ্বাস আমাদের ছাত্রসমাজ উচ্চ আদালত থেকে ন্যায় বিচারই পাবে। তাদের হতাশ হতে হবে না। আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রাস্তায় আন্দোলনে নেমে দুষ্কৃতকারীদের সুযোগ করে দেবেন না। সর্বোচ্চ আদালতের রায় আসা পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছে। আপিলে আদালতে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কোনো বক্তব্য থাকলে আদালত তা শোনার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের সুযোগ রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাই। যে ঘটনা ঘটেছে সেটা কাম্য ছিল না। চট্টগ্রামের বহুতল ভবন থেকে সন্ত্রাসীরা ছাত্রকে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্মমভাবে নিচে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। অনেক ছাত্রের হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়। তাদের ওপর লাঠিপেটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তাদের একজন মৃত্যুবরণ করেছে এবং অনেকে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। ঢাকা, রংপুর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়। সাধারণ পথচারী ও দোকানেদারকে আক্রমণ করা হয়। এমনকি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে বাধা প্রদান করা হয়। মেয়েদের হলে ছাত্রীদের আক্রমণ করা হচ্ছে এবং লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। আবাসিক হলে প্রভোস্টদের হুমকি এবং আক্রমণ করা হয়েছে। শিক্ষকদের উপর চড়াও হয়ে তাদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি যারা কোটা সংস্কার আন্দোলনে জড়িত তাদের সঙ্গে এই সন্ত্রাসীদের কোনো সম্পর্ক নেই। সন্ত্রাসীরা এদের মধ্যে ঢুকে সংঘাত ও নৈরাজ্যমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। যারা শহীদ হয়েছে তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহের জন্য যা করা দরকার তা আমি করব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করছি— যারা সন্ত্রাস, লুটপাট এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে তারা যেই হোক না কেন তাদের শাস্তির আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কাদের উদ্দেশ্যে সংঘাতের সূত্রপাত হলো; তারা কোন উদ্দেশ্যে এমন অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করলো তা তদন্ত করে বের করা হবে। আমি আন্দোলনরত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এ সন্ত্রাসীরা যেকোনো সময় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে এই শিক্ষার্থীদের প্রতি সাধন করতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতা অভিভাবক এবং শিক্ষকদের প্রতি আমার আবেদন তারা যেন তাদের সন্তানদের নিরাপত্তার বিষয়ে সজাগ থাকে

প্রসঙ্গত, চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন গতকাল মঙ্গলবার বেশ সহিংস রূপ নেয়। এদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে ৬ জন মারা যান। আহত হন কয়েকশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

এ অবস্থায় মঙ্গলবারই সারা দেশের স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ বুধবার বন্ধ ঘোষণা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হল ও ক্যাম্পাস ত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন। হলগুলোর ভেতরে অবস্থান করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বেশিরভাগ হল থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বের করে দেওয়া হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানী ঢাকাসহ ৬ জেলায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলন : বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা
                                  

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের হত্যা এবং ঢাবি প্রশাসনের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্বিচার হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

বুধবার (১৭ জুলাই) রাত পৌনে ৮টায় সংগঠনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল হাসপাতাল ও জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছু বন্ধ থাকবে এবং রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কোনো যানবাহন চলবে না বলে জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, “শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, সোয়াটের ন্যাক্কারজনক হামলা, খুনের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এবং কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে আগামীকাল (১৮ জুলাই) সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করছি।”

দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে কর্মসূচি সফল করতে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, “শুধুমাত্র হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ব্যতীত কোনো প্রতিষ্ঠানের দরজা খুলবে না, অ্যাম্বুলেন্স ব্যতীত সড়কে কোনো গাড়ি চলবে না। সারা দেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাচ্ছি, আগামীকালের কর্মসূচি সফল করুন।”

প্রসঙ্গত, চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বেশ সহিংস রূপ নেয়। এদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে ৬ জন মারা যান। আহত হন কয়েকশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

এ অবস্থায় মঙ্গলবারই সারা দেশের স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ বুধবার বন্ধ ঘোষণা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হল ও ক্যাম্পাস ত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন। হলগুলোর ভেতরে অবস্থান করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বেশিরভাগ হল থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বের করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা প্রসঙ্গে কথা বলার সময় মন্তব্য করেন ‘মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতিরা কিছুই পাবে না, রাজাকারের নাতিপুতিরা সব পাবে?’

প্রধানমন্ত্রীর এ মন্তব্যে ক্ষিপ্ত হন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। তারা ধরে নিয়েছেন ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ তাদেরকেই বলা হয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে এবং কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে রোববার মধ্যরাত থেকেই আন্দোলনে নামেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সেই আন্দোলন এখনো চলছে। আজ বুধবারও ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানী ঢাকাসহ ৬ জেলায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

সাম্য, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
                                  

পবিত্র আশুরা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য এক তাৎপর্যময় ও শোকের দিন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। ‘পবিত্র আশুরা’ উপলক্ষে মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। আজ ১৭ জুলাই সারাদেশে ‘পবিত্র আশুরা’ পালিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি পবিত্র আশুরা উপলক্ষে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রাঃ) সহ কারবালা প্রান্তরে শাহাদতবরণকারী সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

মোঃ সাহাবুদ্দিন বলেন, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় হিজরি ৬১ সনের ১০ মহরম হজরত ইমাম হোসেন (রাঃ), তাঁর পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সহচরবৃন্দ বিশ্বাসঘাতক ইয়াজিদের সৈন্যদের হাতে কারবালার প্রান্তরে শহীদ হন। ইসলামের সুমহান আদর্শকে সমুন্নত রাখার জন্য তাঁদের এই আত্মত্যাগ ইতিহাসে চিরদিন সমুজ্জ্বল হয়ে থাকবে। কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মৃতিতে ভাস্বর পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী আমাদেরকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করে, প্রেরণা যোগায় সত্য ও সুন্দরের পথে এগিয়ে চলার। পবিত্র আশুরার মহান শিক্ষা সকলের জীবনে প্রতিফলিত হোক-এ প্রত্যাশা করেন রাষ্ট্রপতি।

মোঃ সাহাবুদ্দিন বলেন, ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম। সকল ধর্মই হানাহানি, হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ ভুলে মানুষকে শান্তির পথে আহ্বান করে।

পবিত্র আশুরার এই দিনে সাম্য, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও অব্যাহত অগ্রগতি কামনা করেন রাষ্ট্রপ্রধান।

কোটা সংস্কার আন্দোলন : দিনভর সংঘর্ষে প্রাণ গেলো ৬ জনের
                                  

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে সারাদেশে ছয়জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রামে তিনজন, ঢাকায় দুজন ও রংপুরে একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

সোমবার (১৫ জুলাই) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার ও একদফা দাবিতে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

অপরদিকে মহান স্বাধীনতাকে কটাক্ষ, রাজাকারের সাফাই এবং সাধারণ শিক্ষার্থী ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে একই দিন বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

দিনভর সংঘর্ষে প্রাণ গেলো ৬ জনের

উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি ঘোষণার জেরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উত্তেজনা বিরাজ করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান নেন।

রংপুরে বেরোবি শিক্ষার্থী নিহত
এদিন রংপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদ (২৫) বেরোবির ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে বেরোবির কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শহরের লালবাগ এলাকা থেকে ক্যাম্পাসের দিকে যান। পরে তারা ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। তখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে একজন মারা যান।

চট্টগ্রামে সংঘর্ষে তিনজনের প্রাণহানি
চট্টগ্রামে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী, একজন পথচারী এবং অন্যজনের পরিচয় জানা যায়নি। নিহত শিক্ষার্থীর নাম ওয়াসিম আকরাম (২৩)। তিনি চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। নিহত পথচারীর নাম মো. ফারুক (৩৩)।

নিহতদের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিন চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর-ষোলশহর এলাকায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের সঙ্গে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। থেমে থেমে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। ছাত্রলীগের কারও কারও হাতে অস্ত্রও দেখা যায়।

ঢাকায় দুই যুবক নিহত
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে মঙ্গলবারের সংঘর্ষে ঢাকায় দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা সিটি কলেজের পাশ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় শাজাহান (২৬) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের খালু মোসলেম জানান, শাজাহান নিউমার্কেটের ফুটপাতে পাপসের ব্যবসা করতেন।

শাজাহানকে উদ্ধার করে প্রথমে পপুলার হাসপাতাল নেওয়া হয়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন চালক আলী ও তার সহযোগী শাকিল।

এর আগে ঢাকা কলেজ এলাকায় সংঘর্ষে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক (২৭) নিহত হন। মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ওই যুবককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন এক পথচারী। পরে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিন কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় পথচারীসহ এখন পর্যন্ত ১০৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে পাঁচজনকে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দিনভর রাজধানী ঢাকা ছিল রণক্ষেত্র। কোথাও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। আবার কোথাও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

সন্ধ্যার পরও রাজধানীজুড়ে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ চলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা কলেজ এলাকা, সায়েন্সল্যাব মোড়, মহাখালী এলাকায় থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে।

ঢাকার বাইরেও দিনভর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে।

এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনে চলমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।

মঙ্গলবার রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পাশাপাশি চলমান এইচএসসি ও সমমানের বৃহস্পতিবারের (১৮ জুলাই) সব পরীক্ষা স্থগিত করেছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। ফলে ওইদিন ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। তবে আগামী ২১ জুলাইয়ের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।

কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় অ্যামনেস্টির নিন্দা
                                  

কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক এই মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

সোমবার (১৬ জুলাই) মধ্যরাতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দক্ষিণ এশিয়া শাখার ফেসবুক পেজ থেকে এক স্ট্যাটাসে এ নিন্দা জানানো হয়।

ওই স্ট্যাটাসে অ্যামনেস্টি জানায়, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সারা দেশের অন্যান্য ক্যাম্পাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। হামলায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আমরা অবিলম্বে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বর্ণনাটি অতীতে অ্যামনেস্টি যে ধরনের সহিংসতার নথিভুক্ত করেছে তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে বেসামরিক পোশাকে থাকা ব্যক্তিরা হাতুড়ি, লাঠি ও অস্ত্র দেখিয়ে বিক্ষোভে বাধা দেয় এবং বিক্ষোভকারীদের মারধর করে।

স্ট্যাটাসে আরও লেখা হয়, বাংলাদেশকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন ও নিজস্ব সংবিধানের অধীনে জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকে সম্পূর্ণভাবে সম্মান করতে হবে। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের আরও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।

ক্যাম্পাস থেকে সরে গেলো পুলিশ, এখনো বাইরে শিক্ষার্থীরা
                                  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। তবে, রাতে ক্যাম্পাস চত্বর থেকে ফিরে গেছেন পুলিশ সদস্যরা।

সোমবার (১৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে দোয়েল চত্বর এলাকা থেকে সরে যান পুলিশ সদস্যরা। সরেজমিনে দেখা যায়, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের সামনে থেকে চাঁনখারপুল পর্যন্ত অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।

পুলিশকে অনুরোধ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। এসময় পুলিশ তাদের অনুরোধ জানিয়ে এ রাতে শহীদ মিনারে যেতে নিষেধ করে।

এ বিষয়ে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) লিটন কুমার সাহা বলেন, এ মুহূর্তে পুলিশের অবস্থান ক্যাম্পাসে নেই। এ রাতে শিক্ষার্থীদের শহীদ মিনারে যাওয়া ঠিক হবে না। এতে করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতেও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
                                  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনভর ছাত্রলীগ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর রাতেও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুলাই) রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিক থেকে ধাওয়া করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

তারা চাঁনখারপুল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেন। অন্যদিকে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলের সামনে থাকা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, এসময় উভয়পক্ষেই উত্তপ্তকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শহীদুল্লাহ্ হল থেকে ৩০ গজ দূরত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরাও এসময় সামনের দিকে আসতে থাকেন। উভয়ের হাতেই লাঠিসোঁটা দেখা যায়।

ঢাবির প্রভোস্ট কমিটির জরুরি সভায় ৫ সিদ্ধান্ত
                                  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রভোস্ট কমিটির একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শিক্ষার্থীদের বিষয়ে পাঁচটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঢাবির প্রভোস্ট কমিটির জরুরি সভায় ৫ সিদ্ধান্ত
সোমবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৫টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ/ওয়ার্ডেন উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সিদ্ধান্তগুলো হলো-
১. শিক্ষার্থীরা স্ব স্ব হলে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করবেন;
২. প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধানে সার্বক্ষণিকভাবে হলে অবস্থান করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন;
৩. হলসমূহে কোনো বহিরাগত অবস্থান করতে পারবেন না;
৪. যেকোনো ধরনের গুজব ও অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানানো হচ্ছে; এবং
৫. সকলকে নাশকতামূলক কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য বলা যাচ্ছে। কেউ নাশতকতামূলক কাজে জড়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়।

দেশে ফিরলেন ৬৯ হাজার ৭৪২ হাজি
                                  

পবিত্র হজ পালন শেষে এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজার ৭৪২ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। মারা গেছেন ৬৫ জন।

সোমবার (১৫ জুলাই) হজ পোর্টালের সবশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, সৌদি থেকে ১৯৬টি ফ্লাইটে এসব হাজি বাংলাদেশে এসেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৯৪টি ফ্লাইটে ৩০ হাজার ৯৬৬ জন, সৌদি এয়ারলাইনসের ৭৪টি ফ্লাইটে ২৫ হাজার ৫১১ এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২৮টি ফ্লাইটে ১০ হাজার ৩৪৭ হাজি দেশে ফিরেছেন।

চলতি বছর হজ পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৬৫ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৫২ এবং মহিলা ১৩ জন।

হজ শেষে গত ২০ জুন থেকে দেশে ফেরার ফ্লাইট শুরু হয়। ওইদিন বাংলাদেশ বিমানের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ৪১৭ হাজি নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট অব্যাহত থাকবে।

এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৫ হাজার ২২৫ জন (ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ) হজযাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। হজে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৪৭ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে পুুরুষ ৩৬ এবং মহিলা ১১ জন।

এদিকে, আগামী বছর বাংলাদেশের জন্য এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটা দিয়েছে সৌদি আরব।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম জানান, নির্ধারিত সংখ্যার মধ্যে কতজন সরকারি ব্যবস্থাপনায় আর কতজন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাবেন তা বাংলাদেশ সরকার পরে নির্ধারণ করে দেবে।

কোটা আন্দোলনে রাজনীতি যুক্ত হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
                                  

সরকার যে কোটা বাতিল করেছিল সেটিই বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্ট। এর পরও যখন আন্দোলন হয় তখন বুঝতে হবে এর সঙ্গে রাজনীতি যুক্ত হয়েছে- এমন মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

রোববার (১৪ জুলাই) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিমসটেক দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দ্বিতীয় রিট্রিট বিষয়ে ব্রিফিং করেন মন্ত্রী।

কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘কোটার বিষয়টি হাইকোর্টের মাধ্যমে এসেছে। সরকার শিক্ষার্থীদের ওপর সহানুভূতিশীল হয়ে পুরো কোটাই বাতিল করে দিয়েছিল। কোটা পদ্ধতি বাতিল করার পর কোটাবিহীনভাবেই চাকরিতে অন্তর্ভুক্তি হচ্ছিল। সরকার সেটিকে পুনর্বহাল করেনি, সে ব্যাপারে সরকারের কোনো উদ্যোগও ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট রায় দিয়েছিলেন সেটিকে পুনর্বহাল করতে হবে। আবার সেটিকে স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। যেহেতু আদালতের কারণে বিষয়টি সামনে এসেছে, সামাধান আদালতের মাধ্যমেই হতে হবে। আদালতে বিচারাধীন বিষয়ের ওপর সরকার কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। আদালত অবমাননা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এখন যে আন্দোলন হচ্ছে সেটির কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে মনে করি না। এটি আসলে আদালতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলিও বটে। সরকার সবসময় ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল। সে কারণে কোটা পদ্ধতি বাতিল করেছিল। তবে বাতিল করার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক সমস্যাও দেখা দিয়েছে। যেমন দেখা যায় অনেক জেলা থেকে সরকারি চাকরিতে অনেক ক্যাডারে কেউ সুযোগ পাচ্ছে না। মেয়েদের অংশগ্রহণ কমে গেছে। এসব সমস্যা দেখা দিয়েছে। সরকার কিন্তু কোটা পদ্ধতি বাতিল করেছিল।’

কোটা আন্দোলনে ভর করে বিএনপি সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে দাবি করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি তো সবসময় চায়... নিজেদের তো কিছু করার ক্ষমতা নেই। তারা অপরের ঘাড়ে চেপে কোনো সময় কোটার ওপর ভর করে, কোনো সময় তেল-গ্যাসের ওপর ভর করে, কোনো সময় আবার অন্য কিছুর ওপর ভর করে। বিএনপি এখান থেকে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর সুপ্রিম কোর্ট স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার আদেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ যে কোটা সরকার বাতিল করেছে সেটিই বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্ট। এরপরও যখন আন্দোলন হয় বুঝতে হবে এর সঙ্গে রাজনীতি যুক্ত হয়েছে।’


   Page 1 of 622
     জাতীয়
গণপরিবহন সংকটে দুর্ভোগ
.............................................................................................
মেট্রোরেল কমপ্লিট শাটডাউনেও চলবে : ডিএমটিসিএল
.............................................................................................
কমপ্লিট শাটডাউনেও বাস চালানোর নির্দেশনা
.............................................................................................
আজ সাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে মার্কিন দূতাবাস
.............................................................................................
ঢাকায় ১৬ প্লাটুন আনসার ব্যাটালিয়ন মোতায়েন
.............................................................................................
আজ সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’
.............................................................................................
প্রাণহানির প্রতিটি ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে : প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
কোটা সংস্কার আন্দোলন : বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা
.............................................................................................
সাম্য, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
.............................................................................................
কোটা সংস্কার আন্দোলন : দিনভর সংঘর্ষে প্রাণ গেলো ৬ জনের
.............................................................................................
কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় অ্যামনেস্টির নিন্দা
.............................................................................................
ক্যাম্পাস থেকে সরে গেলো পুলিশ, এখনো বাইরে শিক্ষার্থীরা
.............................................................................................
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতেও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
.............................................................................................
ঢাবির প্রভোস্ট কমিটির জরুরি সভায় ৫ সিদ্ধান্ত
.............................................................................................
দেশে ফিরলেন ৬৯ হাজার ৭৪২ হাজি
.............................................................................................
কোটা আন্দোলনে রাজনীতি যুক্ত হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
.............................................................................................
কোটাবিরোধী ও শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে ‌‘কঠোর’ প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন বিকেলে
.............................................................................................
ফুটবলের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
রাস্তা বন্ধ না করে আদালতে আসুন : শিক্ষার্থীদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
.............................................................................................
বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
শিগগির ক্লাসে ফিরছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা
.............................................................................................
মজুতদারি করে কারসাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী
.............................................................................................
আজ সারাদেশে ১২ ঘণ্টা ইন্টারনেটে ধীরগতি থাকতে পারে
.............................................................................................
নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা ধারণ করেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা এনেছিলেন
.............................................................................................
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ভর করেছে: কাদের
.............................................................................................
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ভর করেছে: কাদের
.............................................................................................
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ভর করেছে: কাদের
.............................................................................................
বৃষ্টির মধ্যেই আবহাওয়া অফিসের দুঃসংবাদ
.............................................................................................
শাহবাগে এবার পাল্টা কর্মসূচি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের
.............................................................................................
কোটা আন্দোলনে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ভর করেছে: কাদের
.............................................................................................
কোটা ইস্যু: সংসদে আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের ঘোষণা
.............................................................................................
ভারী বৃষ্টির পানি সরাতে কাজ করছে ডিএনসিসির ৫ হাজার কর্মী
.............................................................................................
ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনের মেরামত সম্পন্ন, স্বাভাবিক হচ্ছে গ্যাস সরবরাহ
.............................................................................................
ঢাকার ২৩ সড়ক ডুবে বিকল যানবাহন, তীব্র ভোগান্তিতে নগরবাসী
.............................................................................................
শুক্রবার সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে আন্দোলনকারীরা
.............................................................................................
উত্তাল কোটাবিরোধী আন্দোলন
.............................................................................................
শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নিতে ভিসিদের নির্দেশ
.............................................................................................
কোটাবিরোধী আন্দোলন : ব্যারিকেড ভেঙে শাহবাগে শিক্ষার্থীদের অবস্থান
.............................................................................................
অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ বসে থাকবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
.............................................................................................
আজ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
.............................................................................................
চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে: শি জিনপিং
.............................................................................................
কালও সারাদেশে ‘বাংলা ব্লকেড’
.............................................................................................
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএসসিসির অভিযান
.............................................................................................
বাংলাদেশকে এক বিলিয়ন চীনা মুদ্রা সহায়তার ঘোষণা
.............................................................................................
চীনের গ্রেট হলে শেখ হাসিনাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা
.............................................................................................
আপিল বিভাগের আদেশ প্রত্যাখ্যান : আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
.............................................................................................
কারওয়ানবাজারে রেললাইনের ওপর বসে পড়লেন শিক্ষার্থীরা
.............................................................................................
ঢাকা-বেইজিং ৭ ঘোষণাপত্র, ২১ চুক্তি-সমঝোতা স্মারক সই
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: [email protected]
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Dynamic Scale BD