বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * গণপরিবহন সংকটে দুর্ভোগ   * উত্তরপ্রদেশে ব্যাপক বন্যা, ২৪ ঘণ্টায় নিহত ১০   * কমপ্লিট শাটডাউনেও বাস চালানোর নির্দেশনা   * ঢাকায় ১৬ প্লাটুন আনসার ব্যাটালিয়ন মোতায়েন   * কমপ্লিট শাটডাউন ঘিরে কাউকে সহিংসতা করতে দেওয়া হবে না   * আজ সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’   * দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র যাত্রাবাড়ী, টোল প্লাজায় আগুন   * প্রাণহানির প্রতিটি ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে : প্রধানমন্ত্রী   * কোটা সংস্কার আন্দোলন : বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা   * সাম্য, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান রাষ্ট্রপতির  

   কৃষি সংবাদ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
কৃষিক্ষেত্রে অবদানে ‘এআইপি’ সম্মাননা পাচ্ছেন ২২ জন

কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের দ্বিতীয়বারের মতো সম্মাননা দিচ্ছে সরকার। পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ২২ জনকে ২০২১ সালের জন্য ‘কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (এগ্রিকালচারাল ইম্পর্ট্যান্ট পারসন- এআইপি)’ সম্মাননা দেবে কৃষি মন্ত্রণালয়।

কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় এসিআই লিমিটেডের কর্ণধার এ কে এম ফারায়েজুল হক আনসারী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজসহ ২২ জন ব্যক্তিকে এআইপি হিসেবে মনোনীত করে আদেশ জারি করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। সোমবার (২৪ জুন) তালিকাটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। ‘কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নীতিমালা, ২০১৯’ অনুযায়ী এ সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।

সিআইপি’র (বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) মতো স্বীকৃতি দিতে ২০২০ সাল থেকে কৃষিক্ষেত্রে এআইপি সম্মাননা দিচ্ছে সরকার। ২০২০ সালের সম্মাননা ২০২২ সালে দেওয়া হয়। প্রথমবার ১৩ জনকে এআইপি সম্মাননা দেওয়া হয়।

এআইপি নির্বাচনের জন্য সুপারিশ দিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি রয়েছে। সেই কমিটির সুপারিশের পর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

সিআইপি’র (বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) মতো স্বীকৃতি দিতে ২০২০ সাল থেকে কৃষিক্ষেত্রে এআইপি সম্মাননা দিচ্ছে সরকার। ২০২০ সালের সম্মাননা ২০২২ সালে দেওয়া হয়। প্রথমবার ১৩ জনকে এআইপি সম্মাননা দেওয়া হয়

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মলয় চৌধুরী বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের এআইপি সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। এবার পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ২২ জন এ সম্মাননা পাচ্ছেন। আগামী ৭ জুলাই ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মনোনীতদের হাতে এআইপি কার্ড তুলে দেওয়া হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী ‘কৃষি (উদ্ভাবন জাত/প্রযুক্তি)’ ক্যাটাগরিতে ৪ জন, ‘কৃষি উৎপাদন/বাণিজ্যিক খামার স্থাপন ও কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প’ ক্যাটাগরিতে ১০ জন, ‘রপ্তানিযোগ্য কৃষি পণ্য উৎপাদন’ ক্যাটাগরিতে ২ জন, ‘স্বীকৃত বা সরকার কর্তৃক রেজিস্ট্রিকৃত কৃষি (ফসল/ মৎস্য/প্রাণিসম্পদ/বনজসম্পদ উপখাতভুক্ত) সংগঠন’ ক্যাটাগরিতে ৩ জন এবং ‘বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কারে স্বর্ণপদক প্রাপ্ত’ ক্যাটাগরিতে ৩ জন এআইপি নির্বাচিত হয়েছেন।

কৃষি (উদ্ভাবন জাত/প্রযুক্তি)
এ ক্যাটাগরিতে সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন এসিআই লিমিটেডের কর্ণধার এ কে এম ফারায়েজুল হক আনসারী। তিনি এসিআই লিমিটেডের কর্ণধার হিসেবে ৩৫ বছর ধরে কৃষির বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণা এবং সম্প্রসারণে অবদান রেখেছেন। এসিআই লিমিটেড ১৯৯৯ সালে সর্বপ্রথম দেশে হাইব্রিড ধানের প্রবর্তন করে। এ পর্যন্ত তাদের নিজস্ব গবেষণালব্ধ ১৩টি হাইব্রিড ধানের জাত বাজারজাত করেছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

কুমিল্লা দাউদকান্দির কৃষি উদ্যোক্তা এম এ মতিন (মতিন সৈকত) সম্মাননা পাচ্ছেন। তিনি দাউদকান্দিতে ২০০৬ সালে ১০ হাজার কৃষক নিয়ে আইপিএম (সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা)-আইসিএম (সমন্বিত শস্য ব্যবস্থাপনা) ক্লাব গঠন করেন। তার এই উদ্যোগের ফলে ২০১৭ সালে বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) দাউদকান্দি উপজেলাকে বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করে। তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০১০ এবং ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক এবং ২০২১ সালে জাতীয় পরিবেশ পদক পেয়েছেন।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নিয়ে গবেষণার কারণে এ ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পাচ্ছেন চুয়াডাঙ্গার জনতা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. ওলি উল্লাহ। তিনি সরকারি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যুক্ত থেকে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ক্ষেত্রে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি ও সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

বাগেরহাট ফকিরহাটের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান স্বপন কুমার দাশও সম্মাননার জন্য মনোনীত হয়েছেন। তিনি তার এলাকায় ১২০ একর জমিকে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের আওতায় নিয়ে আসেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় রাস্তার পাশে এবং পতিত জমিতে নিজস্ব উদ্যোগে বনজ ও ঔষধি (অর্জুন, বহেড়া) গাছ এবং বজ্রপাত নিরোধের জন্য খেজুরের চারা রোপন করেন।

কৃষি উৎপাদন/বাণিজ্যিক খামার স্থাপন ও কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প
টাঙ্গাইল মধুপুরের কৃষি উদ্যোক্তা মো. ছানোয়ার হোসেন এ ক্যাটাগরিতে মনোনীত হয়েছেন। তিনি কৃষি বিভাগের পরামর্শে উন্নত জাতের জাম্বুরা, আনারস, পেয়ারা, ড্রাগন, সৌদি খেজুর, ভিয়েতনামী খাটো জাতের নারকেল, মিশরীয় ডুমুর ইত্যাদি বিভিন্ন অর্থকরী ফসলের বাগান গড়ে তুলেছেন। তার উৎপাদিত ফসল দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রির পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়।

ফরিদপুরের পেঁয়াজ ও পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনকারী উদ্যোক্তা শাহীদা বেগম সম্মাননা পাচ্ছেন। তিনি ২০২০-২১ অর্থবছরে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করে মোট এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা আয় করেন। তিনি খাঁন বীজ ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী।

খুলনা ডুমুরিয়ার কৃষি উদ্যোক্তা সুরেশ্বর মল্লিক সম্মাননা পাচ্ছেন। তিনি আধুনিক কলাকৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে একই জমিতে বিষমুক্ত তিনটি সাথী ফসল উৎপাদন করে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার করেছেন। সুরেশ্বর মল্লিক ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার অর্জন করেন।

পেঁয়াজ ও পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনকারী উদ্যোক্তা শাহীদা বেগম সম্মাননা পাচ্ছেন। তিনি ২০২০-২১ অর্থবছরে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করে মোট এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা আয় করেন। তিনি খাঁন বীজ ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের গ্রিন প্ল্যানেট এগ্রোর মালিক মো. রুহুল আমিন এআইপি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আধুনিক পদ্ধতিতে স্ট্রবেরি, ড্রাগন, পেয়ারা, মাল্টার বাগান করে একজন তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার সৃজিত বাগানে বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থান হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ রায়গঞ্জের মো. সাখাওয়াত হোসেন এআইপি মনোনীত হয়েছেন। তিনি অ্যাগ্রো বেইজড সোসিও ইকোনোমিক্যাল ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেসের চেয়ারম্যান। সাখাওয়াত হোসেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা বোর্ডের সদস্য হিসেবে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষি উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলাধীন বিস্তীর্ণ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের মাধ্যমে অনাবাদি জমিকে তিন ফসলি আবাদি জমিতে পরিণত করেছেন।

পাবনার ঈশ্বরদীর সফল দুগ্ধ খামারি মো. আমিরুল ইসলাম এআইপি হচ্ছেন। তিনি ২০১২ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার এবং ২০২৩ সালে জাতীয় সমবায় পুরস্কার পেয়েছেন।

নোয়াখালী বেগমগঞ্জের মাছুদুল হক চৌধুরী কৃষি উৎপাদন, বাণিজ্যিক মৎস্য খামার ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় এআইপি সম্মাননা পাচ্ছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারও পেয়েছেন।

ঠাকুরগাঁও সদরের কৃষি উদ্যোক্তা মো. রফিকুল ইসলামকেও এ ক্যাটাগরিতে মনোনীত করা হয়েছে। তিনি একজন সফল মৌ-চাষি এবং জৈবসারের বাণিজ্যিক উৎপাদনকারী। পতিত জমি আবাদের আওতায় এনে ২০১৯-২০ অর্থবছরে তিনি মোট ১০ লাখ টাকা আয় করেছেন।

সিলেট ফেঞ্জুগঞ্জের আরেক সফল কৃষি উদ্যোক্তা মো. সিরাজুল ইসলাম রেখন সম্মাননা পাচ্ছেন। তিনি বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা, থাই পেয়ারা, আম, কাঁঠাল, লিচু, কমলা, সফেদা, কুল বরই, সবজি ইত্যাদি অর্থকারী ফসল চাষ করে ২০২১ অর্থবছরে এক কোটি ৩৬ লাখ টাকা আয় করেছেন।

এছাড়া শেরপুরের মো. হযরত আলী ফল চাষ করে ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা আয় করেছেন। তিনিও এআইপি নির্বাচিত হয়েছেন।

রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদন
‘রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদন’ ক্যাটাগরিতে এআইপি সম্মাননা পাচ্ছেন গাজীপুর সদরের বনসাই শিল্পী কে এম সবুজ। তিনি লিভিং আর্ট গার্ডেন-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। সবুজ বাণিজ্যিকভাবে বনসাই নার্সারি গড়ে তুলেছেন এবং বনসাই রপ্তানি করেন। তিনি বৃক্ষরোপণ জাতীয় পুরস্কার এবং সার্ক কালচারাল সোসাইটি থেকে বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন।

এ ক্যাটাগরিতে আরও নির্বাচিত হয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের কৃষি উদ্যোক্তা মোহা. রফিকুল ইসলাম। তিনি বছরব্যাপী বারোমাসি আম উৎপাদন করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। ২০২১ সালে তার খামার থেকে আয় ছিল প্রায় তিন কোটি ৭৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।

স্বীকৃত বা সরকার কর্তৃক রেজিস্ট্রিকৃত কৃষি (ফসল/ মৎস্য/প্রাণিসম্পদ/বনজসম্পদ উপখাতভুক্ত) সংগঠন
মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাইখ সিরাজ এ ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তিনি এ সম্মাননা পাচ্ছেন।

সম্মাননা পাচ্ছেন চট্টগ্রামের পরিবেশ বিষয়ক সংগঠক সাহেলা আবেদীন (রিমা)। তিনি সংগঠন ‘তিলোত্তমা চট্টগ্রাম’ এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহরে প্রায় ২০০ ছাদ বাগান স্থাপন করেছেন। তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি অফিসের পরিত্যক্ত স্থানে প্রায় ৩ লাখের বেশি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপন করেছেন।

এ ক্যাটাগরিতে আরও পুরস্কার পাচ্ছেন সাতক্ষীরা কলারোয়ার একজন সফল নারী কৃষি উদ্যোক্তা শিখা রানী চক্রবর্তী। কৃষি বিভাগ থেকে সম্প্রসারিত বিভিন্ন আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ এবং সাধারণ কৃষকের মধ্যে সম্প্রসারণে তার অবদান রয়েছে বলে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কারে স্বর্ণপদক প্রাপ্ত
নীলফামারীর ডোমারের জৈব সার উৎপাদক ও গবেষক রাম নিবাস আগরওয়ালা সম্মাননা জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ১৯৯৫ সাল থেকে বিভিন্ন উন্নত মানের কেঁচো ও বিভিন্ন জৈব সার যেমন- গোবর, কচুরিপানা, কলাগাছ, খড়, হাড়ের গুঁড়া, শিংয়ের গুঁড়া, নিম খৈল, সয়াবিন খৈল, কাষ্ঠচূর্ণ, ঝিনুক চূর্ণ ইত্যাদি কাঁচামাল দিয়ে জৈব সার উন্নয়নে গবেষণা করে যাচ্ছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারে স্বর্ণপদক পেয়েছেন।


নবাবগঞ্জের কমলাকান্দার অমিত ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী মায়া রানী বাউল এআইপি হচ্ছেন। তিনি একজন সফল বাণিজ্যিক কৃষি খামারি। মায়া রানী বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারে স্বর্ণপদক পেয়েছেন।

এ ক্যাটাগরিতে মনোনীত হয়েছেন পাবনা আটঘড়িয়ার সফল বীজ উৎপাদনকারী মো. আব্দুল খালেক। বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণে অসামান্য অবদান রাখায় তিনি বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার পেয়েছেন।


যে সুবিধা পাবেন এআইপিরা
‘কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নীতিমালা, ২০১৯’ অনুযায়ী, মনোনীতরা এআইপি কার্ডের সঙ্গে মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রশংসাপত্র পাবেন। এআইপির মেয়াদ হবে এক বছর (চলতি বছরের জুলাই থেকে পরের বছরের জুন মাস পর্যন্ত)।

এআইপিরা সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য প্রবেশ পাস পাবেন। বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান ও সিটি/মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পাবেন। বিমান, রেল, সড়ক ও জলপথে ভ্রমণকালীন সরকার পরিচালিত গণপরিবহনে আসন সংরক্ষণ অগ্রাধিকার পাবেন।

একজন এআইপির ব্যবসা বা দাপ্তরিক কাজে বিদেশে ভ্রমণের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসা পেতে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে উদ্দেশ্য করে লেটার অব ইন্ট্রোডাকশন ইস্যু করবে। একজন এআইপি তার স্ত্রী-সন্তান, বাবা-মা ও নিজের চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালের কেবিন সুবিধা প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পাবেন; এবং বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ-২ ব্যবহারের সুবিধা পাবেন।

কৃষিক্ষেত্রে অবদানে ‘এআইপি’ সম্মাননা পাচ্ছেন ২২ জন
                                  

কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের দ্বিতীয়বারের মতো সম্মাননা দিচ্ছে সরকার। পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ২২ জনকে ২০২১ সালের জন্য ‘কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (এগ্রিকালচারাল ইম্পর্ট্যান্ট পারসন- এআইপি)’ সম্মাননা দেবে কৃষি মন্ত্রণালয়।

কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় এসিআই লিমিটেডের কর্ণধার এ কে এম ফারায়েজুল হক আনসারী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজসহ ২২ জন ব্যক্তিকে এআইপি হিসেবে মনোনীত করে আদেশ জারি করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। সোমবার (২৪ জুন) তালিকাটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। ‘কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নীতিমালা, ২০১৯’ অনুযায়ী এ সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।

সিআইপি’র (বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) মতো স্বীকৃতি দিতে ২০২০ সাল থেকে কৃষিক্ষেত্রে এআইপি সম্মাননা দিচ্ছে সরকার। ২০২০ সালের সম্মাননা ২০২২ সালে দেওয়া হয়। প্রথমবার ১৩ জনকে এআইপি সম্মাননা দেওয়া হয়।

এআইপি নির্বাচনের জন্য সুপারিশ দিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি রয়েছে। সেই কমিটির সুপারিশের পর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

সিআইপি’র (বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) মতো স্বীকৃতি দিতে ২০২০ সাল থেকে কৃষিক্ষেত্রে এআইপি সম্মাননা দিচ্ছে সরকার। ২০২০ সালের সম্মাননা ২০২২ সালে দেওয়া হয়। প্রথমবার ১৩ জনকে এআইপি সম্মাননা দেওয়া হয়

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মলয় চৌধুরী বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের এআইপি সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। এবার পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ২২ জন এ সম্মাননা পাচ্ছেন। আগামী ৭ জুলাই ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মনোনীতদের হাতে এআইপি কার্ড তুলে দেওয়া হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী ‘কৃষি (উদ্ভাবন জাত/প্রযুক্তি)’ ক্যাটাগরিতে ৪ জন, ‘কৃষি উৎপাদন/বাণিজ্যিক খামার স্থাপন ও কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প’ ক্যাটাগরিতে ১০ জন, ‘রপ্তানিযোগ্য কৃষি পণ্য উৎপাদন’ ক্যাটাগরিতে ২ জন, ‘স্বীকৃত বা সরকার কর্তৃক রেজিস্ট্রিকৃত কৃষি (ফসল/ মৎস্য/প্রাণিসম্পদ/বনজসম্পদ উপখাতভুক্ত) সংগঠন’ ক্যাটাগরিতে ৩ জন এবং ‘বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কারে স্বর্ণপদক প্রাপ্ত’ ক্যাটাগরিতে ৩ জন এআইপি নির্বাচিত হয়েছেন।

কৃষি (উদ্ভাবন জাত/প্রযুক্তি)
এ ক্যাটাগরিতে সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন এসিআই লিমিটেডের কর্ণধার এ কে এম ফারায়েজুল হক আনসারী। তিনি এসিআই লিমিটেডের কর্ণধার হিসেবে ৩৫ বছর ধরে কৃষির বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণা এবং সম্প্রসারণে অবদান রেখেছেন। এসিআই লিমিটেড ১৯৯৯ সালে সর্বপ্রথম দেশে হাইব্রিড ধানের প্রবর্তন করে। এ পর্যন্ত তাদের নিজস্ব গবেষণালব্ধ ১৩টি হাইব্রিড ধানের জাত বাজারজাত করেছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

কুমিল্লা দাউদকান্দির কৃষি উদ্যোক্তা এম এ মতিন (মতিন সৈকত) সম্মাননা পাচ্ছেন। তিনি দাউদকান্দিতে ২০০৬ সালে ১০ হাজার কৃষক নিয়ে আইপিএম (সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা)-আইসিএম (সমন্বিত শস্য ব্যবস্থাপনা) ক্লাব গঠন করেন। তার এই উদ্যোগের ফলে ২০১৭ সালে বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) দাউদকান্দি উপজেলাকে বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করে। তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০১০ এবং ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক এবং ২০২১ সালে জাতীয় পরিবেশ পদক পেয়েছেন।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নিয়ে গবেষণার কারণে এ ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পাচ্ছেন চুয়াডাঙ্গার জনতা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. ওলি উল্লাহ। তিনি সরকারি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যুক্ত থেকে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ক্ষেত্রে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি ও সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

বাগেরহাট ফকিরহাটের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান স্বপন কুমার দাশও সম্মাননার জন্য মনোনীত হয়েছেন। তিনি তার এলাকায় ১২০ একর জমিকে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের আওতায় নিয়ে আসেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় রাস্তার পাশে এবং পতিত জমিতে নিজস্ব উদ্যোগে বনজ ও ঔষধি (অর্জুন, বহেড়া) গাছ এবং বজ্রপাত নিরোধের জন্য খেজুরের চারা রোপন করেন।

কৃষি উৎপাদন/বাণিজ্যিক খামার স্থাপন ও কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প
টাঙ্গাইল মধুপুরের কৃষি উদ্যোক্তা মো. ছানোয়ার হোসেন এ ক্যাটাগরিতে মনোনীত হয়েছেন। তিনি কৃষি বিভাগের পরামর্শে উন্নত জাতের জাম্বুরা, আনারস, পেয়ারা, ড্রাগন, সৌদি খেজুর, ভিয়েতনামী খাটো জাতের নারকেল, মিশরীয় ডুমুর ইত্যাদি বিভিন্ন অর্থকরী ফসলের বাগান গড়ে তুলেছেন। তার উৎপাদিত ফসল দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রির পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়।

ফরিদপুরের পেঁয়াজ ও পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনকারী উদ্যোক্তা শাহীদা বেগম সম্মাননা পাচ্ছেন। তিনি ২০২০-২১ অর্থবছরে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করে মোট এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা আয় করেন। তিনি খাঁন বীজ ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী।

খুলনা ডুমুরিয়ার কৃষি উদ্যোক্তা সুরেশ্বর মল্লিক সম্মাননা পাচ্ছেন। তিনি আধুনিক কলাকৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে একই জমিতে বিষমুক্ত তিনটি সাথী ফসল উৎপাদন করে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার করেছেন। সুরেশ্বর মল্লিক ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার অর্জন করেন।

পেঁয়াজ ও পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনকারী উদ্যোক্তা শাহীদা বেগম সম্মাননা পাচ্ছেন। তিনি ২০২০-২১ অর্থবছরে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করে মোট এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা আয় করেন। তিনি খাঁন বীজ ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের গ্রিন প্ল্যানেট এগ্রোর মালিক মো. রুহুল আমিন এআইপি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আধুনিক পদ্ধতিতে স্ট্রবেরি, ড্রাগন, পেয়ারা, মাল্টার বাগান করে একজন তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার সৃজিত বাগানে বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থান হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ রায়গঞ্জের মো. সাখাওয়াত হোসেন এআইপি মনোনীত হয়েছেন। তিনি অ্যাগ্রো বেইজড সোসিও ইকোনোমিক্যাল ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেসের চেয়ারম্যান। সাখাওয়াত হোসেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা বোর্ডের সদস্য হিসেবে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষি উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলাধীন বিস্তীর্ণ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের মাধ্যমে অনাবাদি জমিকে তিন ফসলি আবাদি জমিতে পরিণত করেছেন।

পাবনার ঈশ্বরদীর সফল দুগ্ধ খামারি মো. আমিরুল ইসলাম এআইপি হচ্ছেন। তিনি ২০১২ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার এবং ২০২৩ সালে জাতীয় সমবায় পুরস্কার পেয়েছেন।

নোয়াখালী বেগমগঞ্জের মাছুদুল হক চৌধুরী কৃষি উৎপাদন, বাণিজ্যিক মৎস্য খামার ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় এআইপি সম্মাননা পাচ্ছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারও পেয়েছেন।

ঠাকুরগাঁও সদরের কৃষি উদ্যোক্তা মো. রফিকুল ইসলামকেও এ ক্যাটাগরিতে মনোনীত করা হয়েছে। তিনি একজন সফল মৌ-চাষি এবং জৈবসারের বাণিজ্যিক উৎপাদনকারী। পতিত জমি আবাদের আওতায় এনে ২০১৯-২০ অর্থবছরে তিনি মোট ১০ লাখ টাকা আয় করেছেন।

সিলেট ফেঞ্জুগঞ্জের আরেক সফল কৃষি উদ্যোক্তা মো. সিরাজুল ইসলাম রেখন সম্মাননা পাচ্ছেন। তিনি বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা, থাই পেয়ারা, আম, কাঁঠাল, লিচু, কমলা, সফেদা, কুল বরই, সবজি ইত্যাদি অর্থকারী ফসল চাষ করে ২০২১ অর্থবছরে এক কোটি ৩৬ লাখ টাকা আয় করেছেন।

এছাড়া শেরপুরের মো. হযরত আলী ফল চাষ করে ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা আয় করেছেন। তিনিও এআইপি নির্বাচিত হয়েছেন।

রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদন
‘রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদন’ ক্যাটাগরিতে এআইপি সম্মাননা পাচ্ছেন গাজীপুর সদরের বনসাই শিল্পী কে এম সবুজ। তিনি লিভিং আর্ট গার্ডেন-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। সবুজ বাণিজ্যিকভাবে বনসাই নার্সারি গড়ে তুলেছেন এবং বনসাই রপ্তানি করেন। তিনি বৃক্ষরোপণ জাতীয় পুরস্কার এবং সার্ক কালচারাল সোসাইটি থেকে বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন।

এ ক্যাটাগরিতে আরও নির্বাচিত হয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের কৃষি উদ্যোক্তা মোহা. রফিকুল ইসলাম। তিনি বছরব্যাপী বারোমাসি আম উৎপাদন করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। ২০২১ সালে তার খামার থেকে আয় ছিল প্রায় তিন কোটি ৭৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।

স্বীকৃত বা সরকার কর্তৃক রেজিস্ট্রিকৃত কৃষি (ফসল/ মৎস্য/প্রাণিসম্পদ/বনজসম্পদ উপখাতভুক্ত) সংগঠন
মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাইখ সিরাজ এ ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তিনি এ সম্মাননা পাচ্ছেন।

সম্মাননা পাচ্ছেন চট্টগ্রামের পরিবেশ বিষয়ক সংগঠক সাহেলা আবেদীন (রিমা)। তিনি সংগঠন ‘তিলোত্তমা চট্টগ্রাম’ এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহরে প্রায় ২০০ ছাদ বাগান স্থাপন করেছেন। তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি অফিসের পরিত্যক্ত স্থানে প্রায় ৩ লাখের বেশি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপন করেছেন।

এ ক্যাটাগরিতে আরও পুরস্কার পাচ্ছেন সাতক্ষীরা কলারোয়ার একজন সফল নারী কৃষি উদ্যোক্তা শিখা রানী চক্রবর্তী। কৃষি বিভাগ থেকে সম্প্রসারিত বিভিন্ন আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ এবং সাধারণ কৃষকের মধ্যে সম্প্রসারণে তার অবদান রয়েছে বলে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কারে স্বর্ণপদক প্রাপ্ত
নীলফামারীর ডোমারের জৈব সার উৎপাদক ও গবেষক রাম নিবাস আগরওয়ালা সম্মাননা জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ১৯৯৫ সাল থেকে বিভিন্ন উন্নত মানের কেঁচো ও বিভিন্ন জৈব সার যেমন- গোবর, কচুরিপানা, কলাগাছ, খড়, হাড়ের গুঁড়া, শিংয়ের গুঁড়া, নিম খৈল, সয়াবিন খৈল, কাষ্ঠচূর্ণ, ঝিনুক চূর্ণ ইত্যাদি কাঁচামাল দিয়ে জৈব সার উন্নয়নে গবেষণা করে যাচ্ছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারে স্বর্ণপদক পেয়েছেন।


নবাবগঞ্জের কমলাকান্দার অমিত ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী মায়া রানী বাউল এআইপি হচ্ছেন। তিনি একজন সফল বাণিজ্যিক কৃষি খামারি। মায়া রানী বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারে স্বর্ণপদক পেয়েছেন।

এ ক্যাটাগরিতে মনোনীত হয়েছেন পাবনা আটঘড়িয়ার সফল বীজ উৎপাদনকারী মো. আব্দুল খালেক। বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণে অসামান্য অবদান রাখায় তিনি বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার পেয়েছেন।


যে সুবিধা পাবেন এআইপিরা
‘কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নীতিমালা, ২০১৯’ অনুযায়ী, মনোনীতরা এআইপি কার্ডের সঙ্গে মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রশংসাপত্র পাবেন। এআইপির মেয়াদ হবে এক বছর (চলতি বছরের জুলাই থেকে পরের বছরের জুন মাস পর্যন্ত)।

এআইপিরা সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য প্রবেশ পাস পাবেন। বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান ও সিটি/মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পাবেন। বিমান, রেল, সড়ক ও জলপথে ভ্রমণকালীন সরকার পরিচালিত গণপরিবহনে আসন সংরক্ষণ অগ্রাধিকার পাবেন।

একজন এআইপির ব্যবসা বা দাপ্তরিক কাজে বিদেশে ভ্রমণের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসা পেতে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে উদ্দেশ্য করে লেটার অব ইন্ট্রোডাকশন ইস্যু করবে। একজন এআইপি তার স্ত্রী-সন্তান, বাবা-মা ও নিজের চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালের কেবিন সুবিধা প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পাবেন; এবং বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ-২ ব্যবহারের সুবিধা পাবেন।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ১ হাজার ৩৪৪ মেট্রিক টন অতিরিক্ত ধান উৎপাদন
                                  

অনলাইন ডেস্ক : হিটসক ও নেক ব্লাস্টের পরও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ১ হাজার ৩৪৪ মেট্রিক টন ধান অতিরিক্ত উৎপাদন হয়েছে।

বোরো মৌসুমের মার্চের শেষে ও এপ্রিল মাসের শুরুতে বৃষ্টিপাতের কারণে নেক ব্লাস্ট, পাতাপোড়া, খোলপচা,খোল পোড়া রোগ, মাজড়া, গান্ধী, বাদামী ও গাছ ফড়িং পোকার আক্রমণের আশংকা দেখা দেয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাফরোজা আক্তার ওই সময় পর্যবেক্ষণ টিম গঠন করেন। এছাড়া বোরোধানের রোগ বালাই দমন ব্যবস্থাপনায় সার্বক্ষণিক মাঠ পরিদর্শনের জন্য সব ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বোরাধান মাঠে অবস্থান করার নির্দেশ দেন ওই কর্মকর্তা। ব্রিধান-২৯ ও ব্রিধান-২৯ এ নেকব্লাস্টসহ অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এছাড়া এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে টানা তাপ প্রবাহে ধান হিট সকে পড়ে। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কৃষকরে পাশে গিয়ে দাঁড়ান। তারা পরামর্শ দেন। তাদের পরামর্শে কৃষকরা কাজ করেছেন। এছাড়া উচ্চ ফলনশীল উফশী ও হাইব্রিড ধানের চাষ সম্প্রসারিত হওয়ায় গোপালগঞ্জে ধানের অতিরিক্ত ফলন পাওয়া সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাফরোজা আক্তার বলেন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ২০ হাজার ৭৩৬ হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৪৫ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন ধান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবানে সাড়া দিয়ে কৃষকরা প্রণোদনার বীজ সার পেয়ে ২০ হাজার ৯২৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করে। তারা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৯২ হেক্টর জমিতে বেশি বোরোধানের আবাদ করেন। ইতিমধ্যেই শতভাগ জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

২০ হাজার ৯২৮ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৬ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়েছে। এতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৩৪৪ মেটিক টন ধান অতিরিক্ত উৎপাদিত হয়েছে। কৃষক আমাদের পরমর্শে কাজ করেছেন তাই অতিরিক্ত ধান উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি এ জন্য কৃষকদের ধন্যবাদ জানান।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ হামিদুল ইসলাম বলেন, বোরো মৌসুমে এ উপজেলায় ৮১% জমিতে হাইব্রিড ধানের আবাদ হয়েছিল। এছাড়া উচ্চ ফলনশীল জাতের ব্রিধান-৯২, ব্রিধান-৫০, ব্রিধান-৮৮,ব্রিধান-৮৯, ব্রিধান-৭৪,ব্রিধান-৮৪, বঙ্গবন্ধু ধান-১০০সহ বিভিন্ন জাতের ধানের চাষাবাদ করেন কৃষক। এ কারণে ধানের অতিরিক্ত ফলন পাওয়া গেছে। ব্রিধান-২৮ ও ব্রিধান-২৯ জাতে নেক ব্লাস্ট ও প্রায় সব জাতের ধান হিট সকে পড়ে। তারপরও কৃষক সচেতন হওয়ায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ কৃতিত্ব আমাদের কৃষকদের । অতিরিক্ত ধান উৎপাদন করায় আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বলাকইড় গ্রামের আশরাফুল মিয়া (৫৫) বলেন, বোরো মৌসুমে ধানক্ষেতে পোকার আক্রমণ হয়েছে। ক্ষেতে কিছু ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি লক্ষ্য কারা গেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা আমাদের পরামর্শ দিয়েছে। তাদের পরামর্শে কাজ করে ক্ষেতের ফসল রক্ষা করতে পেরেছি। শেষ পর্যন্ত ধানের বাম্পার ফলন পেয়েছি। বাম্পার ফলন পেয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি। এ জন্য কৃষি বিভাগকে ধন্যবাদ জানাই। ওই কৃষক আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের বিনামূল্যে বীজ, সার, সেচে ভর্তুকি দিয়েছেন। তাই আল্লাহর রহমতে ধানের ভালো ফলন পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য আমরা ধন্য। তাঁর জন্য সব সময় আল্লাহর কাছে দোয়া-মোনাজাত করি। আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ রাখেন। বাসস

অনলাইনে আমের ব্যবসা যেন এখন বহু রাজশাহীবাসীর কাছেই আশীর্বাদ
                                  

অনলাইন ডেস্ক : আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করে বর্তমান মৌসুমে তরুণ-তরুণী ও ছাত্র-ছাত্রীসহ রাজশাহীর অনেক মানুষের কাছেই অনলাইনে আমের ব্যবসায়ে অর্থ উপার্জন আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে।

অনলাইন আম ব্যবসায়ে একদিকে যেমন তাদের কর্মসংস্থান হয়েছে, অন্যদিকে আম চাষীরাও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। এ ছাড়া ভোক্তারা তাদের চাহিদা অনুযায়ী ফরমালিনমুক্ত ও তাজা আম পাচ্ছেন সময়মতো। অনলাইনে অর্ডার পাওয়ার পর, তারা বাগান থেকে আম পেড়ে নিয়ে ঘটনাস্থলেই প্যাকেজিং করে এবং পরে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পাঠান।

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক সদরুল ইসলাম বলেন, অনেক শিক্ষার্থী ও অন্যান্য তরুণ-তরুণী আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করে সরাসরি অনলাইনে আম কেনাবেচা করে লাভবান হচ্ছে।
শহর ও গ্রামীণ উভয় ক্ষেত্রেই আমের ব্যবসা কেন্দ্রে ক্রেতাদের উপস্থিতি নগণ্য তবে ফোন-কল, ইমো, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ এবং মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ব্যবসার ব্যাপ্তি অনেকাংশে দৃশ্যমান হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ তার তিন বন্ধুকে নিয়ে বর্তমানে ‘রাজশাহী ম্যাঙ্গো প্রোডাক্টস’ নামে তাদের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে জমজমাট আমের ব্যবসা করছেন। চারঘাট উপজেলার মীরগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা আহমেদ বলেন, ‘ ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে আমরা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আম সরবরাহের অর্ডার পাচ্ছি।’ তারা ইতিমধ্যে প্রায় ১,৫০০ কেজি আম ডেলিভারি করেছে এবং আরও ৭,৫০০ কেজির অর্ডার পেয়েছে। আহমেদ বলেন, অনলাইনে আমের কেনাবেচা এই অঞ্চলের সর্বত্রই শীর্ষে পৌঁছেছে, যার ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই উপকৃত হয়েছে।

বর্তমান ভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে ক্রেতাদের দোরগোড়ায় আম পৌঁছে দিতে বিজনেস অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মতো ফেসবুক ও হোয়াটস অ্যাপের সর্বোত্তম ব্যবহারের পর, এই অঞ্চলের তরুণ উদ্যোক্তাদের অনেকেই অনলাইনে আম বিক্রি শুরু করেছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক ছাত্র রাশেদুল ইসলাম তার ফেসবুক পেজ `ম্যাঙ্গো শপ`-এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় সাত টন আম বিক্রি করেছেন। চলতি মৌসুমে প্রায় দেড়শ টন আম বিক্রির লক্ষ্য রয়েছে তার। তিনি মাঠ পর্যায়ে ২০ জন এবং বিভিন্ন এলাকায় আম সংগ্রহ ও প্যাকেজিং করার জন্য ৩৫ জন ব্যক্তিকে কাজ লাগিয়েছেন। আইসিটি খাতকে গ্রাম পর্যায়ে সম্প্রসারণের জন্য তিনি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাবেক সংবাদ উপস্থাপক সিয়াম রেজওয়ান গত কয়েক বছর ধরে রাজশাহীতে অনলাইন আমের ব্যবসা করছেন এবং চলতি মৌসুমে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে ইতিমধ্যে ৫০ মণ আম বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি ফেসবুক বন্ধু ও ফলোয়ারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন এবং বিভিন্ন বাগান থেকে সরাসরি আম কিনে প্যাকেজিং করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আম পাঠাচ্ছেন তিনি। তিনি বলেন, কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানো আম নষ্ট হওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর, প্যাকেজিং ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হয়েছে। রেজওয়ান উল্লেখ করেন যে, আমের ডেলিভারি যাতে নিখুঁত থাকে, সেজন্য সম্পূর্ণ কুরিয়ার পরিষেবাগুলোকে স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক হতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক শামসুল ওয়াদুদ বলেন, এ অঞ্চলে ২ লাখ ৬২ হাজারের বেশি আম চাষি ও বাগান মালিক রয়েছে এবং প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ আম সংগ্রহ, বিচ্ছিন্নকরণ, প্যাকেজিং, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ডিএই চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলে ৮০,৫০০ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ১০ লাখ টন আম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যেখানে গত বছর ৭২,৯০৯ হেক্টর জমি থেকে উৎপাদন হয়েছিল ৮,৩১,৯৪০ টন। কৃষি বিশেষজ্ঞ ওয়াদুদ বলেন, আম আহরণের মৌসুম অনেক শিক্ষার্থীর আয়ের পথ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। চলতি মৌসুমে বিপুল সংখ্যক লোককে আম কুড়ানো, পরিবহন, বিচ্ছিন্নকরণ ও প্যাকেজিং-এর কাজে ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। বাসস

মাগুরায় ৭০ কোটি টাকার লিচু বিক্রির আশা
                                  

জেলা প্রতিনিধি : মাগুরার লিচু বছরের পর বছর ধরে ফলপ্রেমীদের তৃপ্তি মিটিয়ে আসছে। এ জেলার লিচুর খ্যাতি রয়েছে দেশজুড়ে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর মাগুরায় লিচুর বাম্পার ফলন ও ন্যায্য দাম পেয়ে খুশি চাষিরা। লিচু সব বয়সীদের মুখরোচক ফল হওয়ায় বিষমুক্ত লিচু সরবরাহে আশা জাগাচ্ছেন মাগুরার চাষিরা।

মাগুরায় লিচু চাষে সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় বিস্তৃর্ণ অঞ্চলজুড়ে শতশত লিচু বাগান করা হয়েছে। এসব লিচু বাগান দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। জেলার সদর উপজেলার হাজরাপুর, ইছাখাদা, মির্জাপুর, হাজিপুর, মিঠাপুর, নড়িহাটি, শিবরামপুর ও শ্রীপুর উপজেলার প্রায় ৪০ গ্রামে হচ্ছে লিচু চাষ। আকারে বড় আর সুস্বাদু হওয়ায় দেশজুড়ে এই লিচুর চাহিদা রয়েছে।

লিচু পাকতে শুরু করায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কিনতে আসছেন পাইকাররা। এবছর প্রতি হাজার দেশি লিচু ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা এবং মোজাফ্ফরি ও বোম্বাই ২৫০০ থেকে ২৮০০ টাকা দরে বাগান থেকে পাইকাররা কিনছেন। লিচুর ব্যাপক ফলন হলেও সার কীটনাশক থেকে শুরু করে গাছ থেকে লিচু সংগ্রহ করে পাইকাররা ট্রাক বোঝাই করা পর্যন্ত শ্রমিক খরচ প্রতি বছরের তুলনায় এ বছর দ্বিগুণ হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবার জেলায় ৬৩৯ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লিচুর ফলন হয়েছে আশানুরূপ। জেলায় হাজরাপুরী, মোজাফ্ফরী, বোম্বায়, চায়না-৩ সহ বিভিন্ন জাতের লিচুর এবার ভালো ফলন হয়েছে । তবে বাজারে গুঞ্জন আছে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা অপরিপক্ক লিচু খেয়ে মানুষ অসুস্থ হচ্ছে।

যার প্রেক্ষিতে ফুল আসা থেকে শুরু করে ফল ধারণ ও ফল পরিপক্ক হওয়া পর্যন্ত দেখভাল করছে কৃষি বিভাগ। বিশেষ করে লিচুতে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগের পর অপেক্ষমান সময় মেনে লিচু বাজারজাত করলে সেই লিচুতে কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না, এমন পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের উৎসাহিত করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় উৎপাদিত লিচু ৭০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন কৃষি বিভাগ।

মাগুরা সদরের শিবরামপুরের লিচু চাষি ফেরদৌস আহম্মেদ দিদার জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর তার বাগানে লিচুর ভালো ফলন হয়েছে। তবে সার কীটনাশক বেশি দাম ও চড়া দামে শ্রমিক নেওয়ায় লাভের পরিমাণ কিছুটা কম হচ্ছে।

সদর উপজেলার নড়িহাটির লিচু চাষি ফারুখ আহম্মেদ বাবুল জানান, গাছ থেকে লিচু পাড়ার দশ থেকে বারো দিন আগে লিচুতে কীটনাশক প্রয়োগ বন্ধ করেছি। কারণ লিচুটা যখন বাজারে আসবে তখন বাচ্চা থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও এই লিচু খাবে। লিচু খেয়ে তারা যাতে অসুস্থ না হয় সেই বিষয়টি বিবেচনা করেই আমি কীটনাশক প্রয়োগ বন্ধ করি।

ঢাকা থেকে আসা লিচুর পাইকার আলম শেখ জানান, মাগুরায় এবার লিচুর অনেক ভালো ফলন হয়েছে। আর এখানকার লিচুর মানও অনেক ভালো। আশা করছি ঢাকায় নিয়ে ভালো দামে বিক্রি করতে পারব।

লিচু ক্রেতা মীর মেহেদী হাসান রুবেল বলেন, একশত লিচু তিনশত টাকায় কিনেছি। এবার লিচু খুব স্বুসাদু হয়েছে। তবে একটি বিষয়ে আমরা সন্দেহ করছি লিচু কীটনাশকমুক্ত কিনা। আমরা চাষিদের কাছে অনুরোধ করব শিশুদের কথা চিন্তা করে কীটনাশকমুক্ত লিচু উৎপাদন করুন।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. হায়াত মাহমুদ জানান, মাগুরা জেলায় এবছর ৬৩৯ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। হাজরাপুরি, মোজাফফরি, চায়না-৩ ও বোম্বাই জাতের লিচুর ফলন ভালো হয়েছে।

কীটনাশক মিশ্রিত অপরিপক্ক লিচু খেয়ে যাতে মানুষ অসুস্থ না হয় সে বিষয়টি আগে থেকেই চাষিদের পরামর্শ দিয়েছি তারা যাতে গাছ থেকে লিচু পাড়ার অন্তত দশ থেকে বারো দিন আগে কীটনাশক প্রয়োগ বন্ধ করে।

কৃষিতে কীটনাশক ব্যবহারে প্রতিনিয়ত মানুষ রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছে। এমনটি চিন্তা করে মাগুরার লিচু চাষিরা লিচু বাজারজাত করার পূর্বে কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধ করে বিষমুক্ত পরিপক্ক লিছু বাজারে আনবে এমনটি প্রত্যাশা লিচুপ্রেমীদের।

জৈবকৃষির বিস্তারে ভ্রাম্যমান কৃষি হসপিটাল
                                  

রাশেদুজ্জামান রিমন, কুষ্টিয়া ॥ দেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের সংস্কৃতি, সামজিক রীতি-নীতি এবং সার্বিক জীবন প্রবাহ কৃষিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। কৃষি বিজ্ঞানী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বাংলাদেশের ১৮.৫ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ পুষ্টি নিয়ে ভাবছে। এমন সময় মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বামুন্দী ইউনিয়নের তেরাইল ব্লকের তেরাইল, অলিনগর, মহব্বতপুর, দূর্লভপুর গ্রামে নতুন নতুন ফলের জাত আলু বোখারা, জাবাটিকাবা, শরিফা, এলাচ চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিরাপদ ফল ও সবজী উৎপাদনের লক্ষে ভ্রাম্যমান কৃষি হসপিটালের মাধ্যমে জৈব কৃষির বিস্তার লাভের নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বকুল হোসেন। তেরাইল ব্লকের আয়তন ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমি। বসত ভিটার ৫৫ হেক্টর অব্যবহৃত জায়গায় পুষ্টিকর সবজি বাগানের পরিণত করেন। ভ্রাম্যমান কৃষি হসপিটারে মাধ্যমে এলাকার কৃষাণীরা অতি সহজে পরামর্শ নিয়ে পেয়ারা, ডালিম, বেদানা, বেল, আম সহ বিভিন্ন প্রকার ফল ও শাকসবজির মধ্যে ১০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ করে ৮শ’ টন লাউ, ৫ হেক্টর জমিতে করলা চাষ করে ১শ’ টন করলা, ৫ হেক্টর জমিতে শষা চাষ করে ২শ’ টন শষা, ৫ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ করে ৫শ’ টন টমেটো, ৭ হেক্টর জমিতে মুলা চাষ করে ২শ’ ৪৫ টন মুলা, ৩ হেক্টর জমিতে পালং চাষ করে ১শ’ ৮০ টন পালং, ১ হেক্টর জমিতে বরবটি চাষ করে ৬০ টন বরবটি, ৪ হেক্টর জমিতে লালশাক চাষ করে ৬০ টন লালশাক, ৫ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষ করে ৩শ’ ৫০ টন পেঁপে, ২ হেক্টর জমিতে গাজর চাষ করে ৪০ টন গাজর, ৩ হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষ করে ১শ’ ৫০ টন ফুলকপিসহ নিরাপদ সবজি উৎপাদন করেন। অলিনগর গ্রামরে কৃষাণী মাজেদা খাতুন, শেফালী, শ্যামলী, রুমা, চায়না বলেন ভ্রামমান কৃষি হসপিটালের মাধ্যমে ফল ও সবজির মাছি পোকা দমনের জন্য বিষটোপ তৈরি, অন্যান্য ক্ষতিকর পোকা দমনের জন্য জৈব বালাইনাশক তৈরির কৌশল শিখেছি। এ সকল পোকা দমন পদ্ধতির মাধ্যমে শাক সবজি ও ফলমুল উৎপাদন করে পরিবারের চাহিদা মিটায়। অন্যদিকে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব কৃষির বিস্তার ঘটিয়েছি। এ প্রক্রিয়ায় চাষাবাদের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৬-৭ হাজার টাকা উপার্জন করছি। ভ্রাম্যমান কৃষি হসপিটালের উদ্যোক্তা বকুল হোসেন বলেন জৈব কৃষির বিস্তার অতিদ্রুত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দাড়প্রান্তে পৌছানোর লক্ষ্যে ভ্রম্যমান কৃষি হসপিটালের মাধ্যমে পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছি। ফলে গ্রাম অঞ্চলের মানুষ কম খরচে বিষ মুক্ত সবজি সল্পমেয়াদি নতুন নতুন জাতের ফল উৎপাদন করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে কালেকশন পয়েন্টের মাধ্যমে বাজার জাত করে কৃষক কৃষাণীরা অর্থনৈতিক ভাবে স্বাম্ভলম্বী হচ্ছে।

অপ্রচলিত ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সহযোগিতা করা হবে: কৃষিমন্ত্রী
                                  

কাজু বাদাম, কফি, ড্রাগন ফলসহ দেশে অপ্রচলিত ফসলের চাষাবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রক্রিয়াজাতে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। বৃহস্পতিবার তার সরকারি বাসভবন থেকে উপজেলা পর্যায়ে কৃষি কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি অফিসারদের অনুকূলে গাড়ি বিতরণকালে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রচলিত ফসলের সাথে কাজু বাদাম,কফি, ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন অপ্রচলিত ফসলের চাষাবাদ, উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলের অনেক জেলাতে কাজু বাদাম, কফি প্রভৃতি চাষ সম্ভব। আন্তর্জাতিক বাজারে এগুলোর চাহিদা অনেক বেশি, দামও বেশি। সেজন্য এসব ফসলের চাষাবাদ ও প্রক্রিয়াজাত বাড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চাষাবাদের জমি বাড়ানোর সুযোগ খুব একটা নেই, বরং জমি দিন দিন কমে যাচ্ছে। সেজন্য একই জমিতে বার বার ফসল উৎপাদন করতে হবে, ফসলের নিবিড়তা বাড়াতে হবে এবং ফসলে বৈচিত্র্য আনতে হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ ও যান্ত্রিকীকরণে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। কৃষিতে এ সরকারের এখন মূল লক্ষ্য হলো খোরপোশের কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ ও লাভজনক করা।

এ সময় কৃষিকাজ করে কৃষকেরা যাতে লাভবান হতে পারেন, নিজেদের জীবনে গুণগত পরিবর্তন আনতে পারেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উন্নত-সমৃদ্ধ জীবন উপহার দিতে পারে সে লক্ষ্যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিকে নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

বগুড়ায় মরিচের বাম্পার ফলন
                                  

বগুড়ায় হাসতে শুরু করেছে মরিচ চাষীরা। মরিচের মত লাল হাসিতে ভরে উঠতে শুরু করেছে চাষীদের মনও। বগুড়ায় এবারও মরিচের বাম্পার ফলন পেতে যাচ্ছি চাষীরা। কৃষি বিভাগ বলছে চলতি বছর জেলায় এবার প্রায় ১৮ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি মরিচ উৎপাদন হবে। বগুড়ায় ভাল মরিচের ফলন পেতে চাষীরা রোদে শুকিয়ে নিচ্ছে মরিচ। জেলার সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলায় চাষীরা সবচেয়ে বেশি মরিচ চাষ করে থাকে। এখন সেই চাষের পর মরিচ রোদে শুকিয়ে নিচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যে সেসব বাজারে তুলে বিক্রি করা হবে। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, অর্থকরী ফসল মরিচ চাষ করে কৃষক লাভবান হয় বলে মরিচ চাষে তারা প্রতিবছর আগ্রহ দেখায়। চলতি বছর জেলায় ৭ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। ফলন পাওয়া গেছে প্রতি হেক্টরে ২.৫ মে.টন করে। সেই হিসেবে ফলন পাওয়া যাবে এবছর ১৮ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন। ২০১৮-১৯ মৌসুমে জেলায় মরিচ চাষ হয় ৭ হাজার ৬৬৬ হেক্টর জমিতে। ফলন পাওয়া যায় প্রায় ১৭ হাজার মেট্রিক টন।

কৃষি অফিস বলছে, মরিচ চাষে প্রতি বিঘায় ফলন পাওয়া যায় ৮ থেকে ৯ মন। জমি উর্বরা হলে ১০ মন মরিচ পাওয়ার সম্ভবানা থাকে। জমি থেকে লাল মরিচ উঠে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মন। সেই মরিচ শুকিয়ে ১০ মন পাওয়া যায়। বিঘা প্রতি খরচ হয় ১৮ থেকে ২০ টাকা হাজার টাকা। শুকনা মরিচ এবছর বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার টাকা মন। জেলার মরিচ চাষীদের উঠানে এখন মরিচ শুকানোর কাজ চলছে। বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ আহমেদ জানান, বগুড়ার সোনাতলায় এবার ১৩৬০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ করা হয়েছে। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। ওই উপজেলার কৃষকেরা তিনটি হাইব্রিড জাতের মধ্যে সনিক, ১৭০১ ও বিজলী প্লাস এবং স্থানীয় উন্নত জাতের মরিচের ব্যাপক করেছে।

এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। মরিচের বীজ বপনের ৩০-৪০ দিনের মধ্যে গাছে ফুল আসে এবং ৬০-৭০ দিনের মধ্যে কৃষক গাছ থেকে মরিচ উত্তোলন শুরু করে। এটি একটি অর্থকরী মসলা জাতীয় ফসল। এই উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে রাক্ষুসী যমুনা ও বাঙালী নদী। তাই বন্যার পর চরাঞ্চলে এবং অন্য জমিতে পলি জমায় প্রতিবছর সেগুলো জমিতে মরিচের বাম্পার ফলন হয়। প্রতিবিঘা জমিতে ১২/১৫ মন মরিচ উৎপন্ন হয়। প্রতিমন কাচা মরিচ হাটে বাজারে ১৬শ টাকা থেকে ১৮শ টাকায় বিক্রয় করতে দেখা গেছে। আবার টোপা ও সুট মচির ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ও বালুয়া হাট সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষক তাদের উৎপাদিত কাঁচা মরিচ ও শুকনা মরিচ বাজারজাত করণ করছে। সোনাতলায় উৎপন্ন মরিচ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেচা বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এবার কৃষক ভালো দাম পেয়ে নগদ অর্থ ঘরে তুলতে সক্ষম হচ্ছে।

বগুড়ার সোনাতলা খাবুলিয়া এলাকায় সাইদুর রহমান জানান, এবার তিনি ৬/৭ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন। প্রতিবছর তিনি ওই পরিমাণ জমিতে মরিচ চাষ করেন। মরিচ চাষে লাভ ভাল হয়। এমনকি সারাবছর খাওয়া চলে। সোনাতলার পাকুল্যা এলাকার কৃষক ছলিম উদ্দিন জানান, এবার তিনি ৫/৬ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। এতে তিনি মোটা অংকের টাকা ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

ঠাকুরপাড়া এলাকার বুলু প্রামানিক জানান, এবার তিনি ৬/৭ বিঘা জমিতে হাইব্রিড জাতের মরিচ বপন করেছেন। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। ইতিমধ্যেই তিনি প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা মরিচ বিক্রি করেছেন। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আবুল কাশেম আযাদ জানান, চলতি বছর জেলায় ৭ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। ফলন পাওয়া গেছে এখন পর্যন্ত প্রতি হেক্টরে ২.৫ মে.টন করে। ফলন পাওয়ার গড় একই থাকলে জেলায় মরিচের বাম্পার ফলন হবে।

 
পেঁয়াজের বিকল্প নিয়ে গবেষণায় সফল বাংলাদেশি বিজ্ঞানী
                                  

 

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

রান্নার অন্যতম উপকরণ পেঁয়াজ। ভারত এই পণ্য রফতানি বন্ধ করে দেয়ার পর থেকে এর ঝাঁজ (দাম) বেড়েছে কয়েক গুণ। এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। তাই বলে বাঙালির রান্নায় পেঁয়াজ থাকবে না তা কেমন করে হয়। এমন অবস্থায় পেঁয়াজের বিকল্প খুঁজছিলেন কৃষি বিজ্ঞানীরা।

পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে ‘চিভ’ নামে এক মসলার জাত চাষে সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মসলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

দীর্ঘদিন ‘চিভ’ নিয়ে গবেষণা শেষে উত্তর চীন, সাইবেরিয়া ও মঙ্গোলিয়া অঞ্চলের মসলা জাতীয় বহুবর্ষজীবী ফসল চাষে এ সাফল্য পেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির আঞ্চলিক মশলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. নূর আলম চৌধুরী। এ কাজে তার সহযোগী ছিলেন ড. মোস্তাক আহমেদ, ড. আলাউদ্দিন খান ও মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।

 

তারা উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন চিভের ওপর গবেষণা করেন। এতে তারা সফলও হয়েছেন। উদ্ভাবন করেছেন বছর জুড়েই চাষ ও ফলনের উপযোগী বারি চিভ-১ নামের একটি জাত।

পেঁয়াজ ও রসুনের স্বাদ বা গুণাগুণ থাকায় আপৎকালীন সময়ে এর বিকল্প হয়ে উঠতে পারে ‘চিভ’- এমন ভাবনায় ২০১৭ সালে গবেষণা শুরু করেন বারি’র বিজ্ঞানীরা। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় তারা বারি চিভ-১ নামের একটি উচ্চ ফলনশীল জাত অবমুক্ত করেছেন। এই ফসলকে ঘিরে অনেকটা পেঁয়াজ-রসুনের বিকল্প তৈরিতে আশার সঞ্চার হয়েছে।


বারির ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. নূর আলম চৌধুরী জানান, পৃথিবীর অনেক দেশে চিভ সাধারণত স্যুপ, সালাদ ও চাইনিজ ডিসে ব্যবহৃত হয়। এর পাতা লিলিয়ান আকৃতির ফ্ল্যাট, কিনারা মসৃণ ও এর ভালভ লম্বা আকৃতির। চিভের স্বাদ অনেকটা পেঁয়াজ-রসুনের মতো। পণ্যটি হজমে সাহায্য ও রোগ নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে ক্যান্সার প্রতিরোধী গুণাগুণও বিদ্যমান রয়েছে। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-১, বি-২, নায়াসিন, ক্যারোটিন ও খনিজ উপাদান বিদ্যমান। চিভ সাধারণত দেশের পাহাড়ি এলাকা সিলেট ও চট্টগ্রামে চাষ হয়ে থাকে। এছাড়াও এখন দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, মাগুরা, বগুড়া ও লালমনিরহাট এলাকায় চিভ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। চিভ গাছ একবার লাগালে দীর্ঘদিন ধরে ফল পাওয়া যায়। বাড়ির আঙিনায় বা টবে এই ফসলের চাষ করা যায়।

 

এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আরও জানান, বিবিএস ২০১৭ এর তথ্য অনুযায়ী আমাদের দেশে বর্তমানে বাৎসরিক পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ১৭.৩৫ লাখ মেট্রিক টন। চাহিদা রয়েছে ২২ লাখ মেট্রিক টন। বাকি পেঁয়াজ বিদেশ থেকে আনতে হয়। পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে চিভকে ব্যবহার করা গেলে আমদানি নির্ভরতা কমে আসবে। এছাড়াও চিভের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি সারা বছর ধরেই চাষ করা যায়।

 

বারি উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতের চিভ-১ গাছের উচ্চতা ৩০-৪০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। পাতার দৈর্ঘ্য হয় ২৩-৩০ সেন্টিমিটার। ভাল্ভ লম্বা আকৃতির, দৈর্ঘ্য এক থেকে দেড় সেন্টিমিটার। প্রতি হেক্টরে পাতাও গাছসহ উৎপাদন হয় ১০-১২ টন। চারা লাগানোর সময় থেকে ৬৫-৭০ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ শুরু হয়। বছরে ৪-৫বার ফসল সংগ্রহ করা যায়।

 

বারির মশলা ফসল বিশেষজ্ঞ গাজীপুর আঞ্চলিক মশলা গবেষণা কেন্দ্রের (বিএআরআই) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার জানান, পেঁয়াজ-রসুনের বিকল্প হিসেবে আদর্শ একটি মশলা জাতীয় ফসল চিভ। এর গুণাগুণ পেঁয়াজ-রসুনের চেয়েও বেশি। ব্যাপকভাবে চাষ করা গেলে দেশে পেঁয়াজ-রসুনের ঘাটতি চিভ দিয়েই মেটানো সম্ভব হবে।

আলু চাষে ব্যস্ত নীলফামারীর কৃষকেরা
                                  

অনলাইন ডেস্ক : কৃষি নির্ভর উত্তরের জেলা নীলফামারীর প্রধান ফসল ধান, আলু ও ভুট্টা। আগাম আমন ধান ঘরে তুলতে না তুলতেই আগাম আলু চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। ধানের দাম কম হওয়ায় হতাশ কৃষকেরা। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কোমর বেঁধে নেমেছেন আলু চাষে। কৃষি বিভাগ বলছে, আগাম আলু চাষ এ অঞ্চলে লাভজনক হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের।

এক সময়ের অভাবী জনপদ হিসেবে পরিচিত নীলফামারী এখন বদলে যাওয়া এক জনপদ। কৃষি বিভাগের নতুন নতুন উদ্ভাবন ও ব্যবহার, জমি এক ফসলি থেকে তিন/চার ফসলি, কৃষক ও কৃষি শ্রমিকের অক্লান্ত শ্রম আর চেষ্টায় স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এ জনপদ। কাজের অভাবে এখন আর আশ্বিন ও কার্তিক মাসে কৃষক বা কৃষি শ্রমিকরা বেকার থাকেন না। জেলার তিন উপজেলার বেশ কিছু জমিতে আগাম আমন ধান কাটার পাশাপাশি চলছে আগাম আলু চাষ। তবে জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলা আগাম আলু চাষে এগিয়ে। আগাম অলু চাষ শুরু হয়েছে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে। চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। আগাম আলু ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে বাজারে চলে আসবে। এর দামও ভালো পাওয়া যায়। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আলুর বীজ রোপণে কিছুটা দেরি হলেও ভালো ফলনে আশাবাদী কৃষকেরা।

আলু উৎপাদনে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সঠিকভাবে সার ও কীটনাশকের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, তারা সুষ্ঠুভাবে যেন চাষ করতে পারে এ বিষয়ে আমরা সহযোগিতা করে যাব।

এবার আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টর জমিতে আলু উৎপাদন হবে ১২ টন বলে আশা কৃষি বিভাগের।

 
আশ্বিন মাসের কৃষি
                                  

কাশফুলের শুভ্রতা, দিগন্ত জোড়া সবুজ আর সুনীল আকাশে ভেসে বেড়ানো চিলতে সাদা মেঘ আমাদের মনে করিয়ে দেয় বর্ষার শেষে আনন্দের বার্তা নিয়ে শরৎ এসেছে। সুপ্রিয় কৃষিজীবী ভাইবোন, আপনাদের সবার জন্য শুভকামনা। বর্ষা মৌসুমের সবটুকু ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া আর চলতি মৌসুমের পুরো পাওনা আদায় করতে কার্যকরি প্রস্তুতি নেবার সময় এখন। এ প্রেক্ষিতে আসুন সংক্ষেপে জেনে নেই আশ্বিন মাসের বৃহত্তর কৃষি ভুবনের করণীয় বিষয়গুলো।

আমন ধান
আমন ধানের বয়স ৪০-৫০ দিন হলে ইউরিয়ার শেষ কিস্তি প্রয়োগ করতে হবে।
সার প্রয়োগের আগে জমির আগাছা পরিস্কার করে নিতে হবে এবং জমিতে ছিপছিপে পানি রাখতে হবে।
এ সময় বৃষ্টির অভাবে খরা দেখা দিতে পারে। সে জন্য সম্পূরক সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। ফিতা পাইপের মাধ্যমে সম্পূরক সেচ দিলে পানির অপচয় অনেক কম হয়।
নিচু এলাকায় আশ্বিন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত স্থানীয় উন্নত জাতের শাইল ধানের চারা রোপন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রতি গুছিতে ৫-৭টি চারা দিয়ে ঘন করে রোপন করতে হবে।
শিষ কাটা লেদা পোকা ধানের জমি আক্রমণ করতে পারে। প্রতি বর্গমিটার আমন জমিতে ২-৫টি লেদা পোকার উপস্থিতি মারাত্মক ক্ষতির পূর্বাভাস। তাই সতর্ক থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ সময় মাজরা, পামরি, চুঙ্গী, গলমাছি পোকার আক্রমণ হতে পারে। এক্ষেত্রে নিয়মিত জমি পরিদর্শণ করে, জমিতে খুটি দিয়ে, আলোর ফাঁদ পেতে, হাতজাল দিয়ে পোকা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
খোলপড়া, পাতায় দাগ পরা রোগ দেখা দিতে পারে। তাছাড়া সঠিক বালাইনাশক সঠিক মাত্রায়, সঠিক নিয়মে, সঠিক সময় শেষ কৌশল হিসাবে ব্যবহার করতে হবে।


নাবি আমন রোপণ

কোন কারণে আমন সময় মতো চাষ করতে না পারলে আশ্বিনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বিআর ২২, বিআর ২৩, বিনাশাইল বা স্থানীয় জাতের চারা রোপণ করা যায়।
গুছিতে ৫-৭টি চারা রোপণ করতে হবে।
অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি ইউরিয়া প্রয়োগ ও অতিরিক্ত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে কাঙ্খিত ফলন পাওয়া যায় এবং দেরির ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যায়।
আখ

আখের চারা উৎপাদন করার উপযুক্ত সময় এখন।
সাধারণত বীজতলা পদ্ধতি এবং পলিব্যগ পদ্ধতিতে পারা উৎপাদন করা যায়।
পলিব্যাগে চারা উৎপাদন করা হলে বীজ আখ কম লাগে এবং চারার মৃত্যুহার কম হয়।
চারা তৈরি করে বাড়ির আঙ্গিনায় সুবিধাজনক স্থানে সারি করে রেখে খড় বা শুকনো আখের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।
চারার বয়স ১-২ মাস হলে মূল জমিতে রোপন করতে হবে।
কাটুই বা অন্য পোকা যেন চারার ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।

বিনা চাষে ফসল আবাদ

মাঠ থেকে বন্যার পানি নেমে গেলে উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় বিনা চাষে অনেক ফসল আবাদ করা যায়।
ভুট্টা, গম, আলু, সরিষা, মাসকালাই বা অন্যান্য ডাল ফসল, লালশাক, পালংশাক, ডাটাশাক বিনা চাষে লাভজনকভাবে অনায়াসে আবাদ করা যায়।
সঠিক পরিমান বীজ, সামান্য পরিমান সার এবং প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে লাভ হবে অনেক।
যেসব জমিতে উফশী বোরো ধানের চাষ করা হয় সেসব জমিতে স্বল্প মেয়াদি টরি-৭ ও কল্যাণী জাতের সরিষা চাষ করতে পারেন।
শাক-সবজি

আগাম শীতের সবজি উৎপাদনের জন্য উঁচু জয়গা কুপিয়ে পরিমাণ মতো জৈব ও রাসায়নিক সার বিশেষ করে ইউরিয়া প্রয়োগ করে শাক উৎপাদন করা যায়।
শাকের মধ্যে মুলা, লালশাক, পালংশাক, চিনা শাক, সরিষা শাক অনায়াসে করা যায়।
সবজির মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, শালগম, টমেটো, বেগুন, ব্রকলি বা সবুজ ফুলকপিসহ অন্যান্য শীতকালীন সবজির চারা তৈরি করে মূল জমিতে বিশেষ যতেœ আবাদ করা যায়।
কলা

অন্যান্য সময়ের থেকে আশ্বিন মাসে কলার চারা রোপণ করা সবচেয়ে বেশি লাভজনক। এতে ১০-১১ মাসে কলার ছড়া কাটা যায়।
ভাল উৎস বা বিশ্বসস্ত চাষি ভাইয়ের কাছ থেকে কলার অসি চারা সংগ্রহ করে রোপণ করতে হবে।
কলার চারা রোপণের জন্য ২-২.৫ মিটার দূরত্বে ৬০ সেমি. চওড়া এবং ৬০ সেমি গভীর গর্ত করে রোপণ করতে হবে।
গর্তপ্রতি ৫-৭ কেজি গোবর, ১২৫ গ্রাম করে ইউরিয়, টিএসপি ও এওপি সার এবং ৫ গ্রাম বরিক এসিড ভালভাবে মিশিয়ে৫-৭ দিন পর অসি চারা রোপণ করতে হবে।
কলা বাগানে সাথি ফসল হিসেবে ধান, গম, ভুট্টা ছাড়া যে কোন রবি ফসল চাষ করা যায়।
গাছপালা

বর্ষায় রোপণ করা চারা কোনো কারণে মরে গেলে সেখানে নতুন চারা রোপণের উদ্যোগ নিতে হবে।
রোপণ করা চারার যত্ন নিতে হবে এখন। যেমন- বড় হয়ে যাওয়া চারার সঙ্গে বাঁধা খুঁটি সরিয়ে দিতে হবে এবং চারার চারদিকের বেড়া প্রয়োজনে সরিয়ে বড় করে দিতে হবে। মরা বা রোগাক্রান্ত ডালপালা ছেঁটে দিতে হবে।
চারা গাছসহ অন্যান্য গাছে সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময় এখন।
গাছের গোড়ার মাটি ভালো করে কুপিয়ে সার প্রয়োগ করতে হবে। দুপুর বেলা গাছের ছায়া যতটুকু স্থানে পড়ে ঠিক ততটুকু স্থান কোপাতে হবে। পরে কোপানো স্থানে জৈব ও রাসায়নিক সার ভালো করে মিশিয়ে দিতে হবে।
প্রাণিসম্পদ

হাঁস-মুরগির কলেরা, ককসিডিয়া, রাণীক্ষেত রোগের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
প্রাথমিকভাবে টিকা প্রদান, প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়ানোসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়ে প্রাণি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া আবশ্যক।
এ মাসে হাঁস-মুরগির বাচ্চা ফুটানোর ব্যবস্থা নিতে পারেন। বাচ্চা ফুটানোর জন্য অতিরিক্ত ডিম দেবেন না। তাছাড়া ডিম ফুটানো মুরগির জন্য অতিরিক্ত বিশেষ খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
আশ্বিন মাসে গবাদিপশুকে কৃমির ওষুধ খাওয়ানো দরকার।
গবাদি পশুকে খোলা জায়গায় না রেখে রাতে ঘরের ভিতরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
পানিতে জন্মানো পশু খাদ্য এককভাবে না খাইয়ে শুকিয়ে খরের সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।
এ সময় ভুট্টা, মাসকলাই, খেসারি বুনো ঘাস উৎপাদন করে গবাদিপশুকে খাওয়াতে পারেন।
গর্ভবতী গাভীকে, সদ্য ভূূমিষ্ঠ বাছুর ও দুধালো গাভীর বিশেষ যতœ নিতে হবে।
এ সময় গবাদি প্রাণির মড়ক দেখা দিকে পারে। তাই গবাদিপশুকে তড়কা, গলাফুলা, ওলান ফুলা রোগের জন্য প্রতিষেধক, প্রতিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চত করতে হবে।
মৎস্যসম্পদ

বর্ষায় পুকুরে জন্মানো আগাছা পরিস্কার করতে হবে এবং পুকুরের পাড় ভালো করে বেধে দিতে হবে।
পুকুরের মাছকে নিয়মিত পুষ্টিকর সম্পুরক খাবার সরবরাহ করতে হবে।
এ সময় পুকুরের প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হবে।
তাছাড়া পুকুরে জাল টেনে মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং রোগ সারাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে ।
এ সময় সরকারি ও বেসরকারি মাছের খামার থেকে জিওল মাছের পোনা সংগ্রহ করে পুকুরে ছাড়ার ব্যবস্থা নিতে পারেন।
সুপ্রিয় কৃষিজীবী ভাইবোন, আশ্বিন মাসে সারা দেশ জুড়ে ইঁদুর নিধন অভিযান শুরু হয়। আমন ধান রক্ষাসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতির মাত্রা কমানোর জন্য এ অভিযান চলে। এককভাবে বা কোন নির্দিষ্ট এলাকায় ইঁদুর দমন করলে কোন লাভ হবে না। ইঁদুর দমন কাজটি করতে হবে দেশের সকল মানুষকে একসাথে মিলে এবং ইঁদুর দমনের সকল পদ্ধতি ব্যবহার করে। ইঁদুর নিধনের ক্ষেত্রে যেসব পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায় সেগুলো হলো- পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক চাষাবাদ, গর্তে ধোঁয়া দেয়া, ফাঁদ পাতা, উপকারী প্রাণী যেমন- পেঁচা, গুইসাপ, বিড়াল দ্বারা ইঁদুর দমন, বিষটোপ এবং গ্যাস বড়ি ব্যবহার করা। আসুন সবাই একসাথে ইঁদুর দমন করি। কৃষির যে কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য আপনার নিকটস্থ উপজেলা কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা ১৬১২৩ এ নম্বরে যে কোনো মোবাইল অপারেটর থেকে কল করে নিতে পারেন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ। আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা কৃষিকে নিয়ে যাবে উন্নতির শিখরে।


কৃষিবিদ মোহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন
তথ্য অফিসার (কৃষি), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫

নওগাঁয় আমের ভালো দাম পেয়ে খুশি বাগান ব্যবসায়ীরা
                                  

অনলাইন ডেস্ক : ল্যাংড়া, ক্ষিরসাপাত, মল্লিকা, নাগ ফজলি শেষে নওগাঁর বরেন্দ্রর হাটে উঠতে শুরু করেছে আম্রপলি জাতের সুস্বাদু আম। মৌসুমের মাঝামাঝি সব জাতের আম গাছ থেকে নামানোর পর এক সাথে হাটে তোলায় কেনা বেচায় জমজমাট আড়ৎগুলো। গেল দু বছর আম বেচাকেনায় নানা কারণে লোকসান দিলেও এবার অনেকটা দ্বিগুণ দর পাওয়ায় দারুণ খুশি বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। বরেন্দ্রর সুমিষ্ট আম বিদেশের রপ্তানির সুযোগ চায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিরা। আর কৃষি বিভাগ বলছে, বিদেশে রপ্তানি উপযোগী আম উৎপাদনে কাজ করছে তারা।

জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন নওগাঁর বরেন্দ্র এলাকার বাগান থেকে পঞ্চম ধাপের আম নামানো হচ্ছে। ল্যাংড়া, খিরসাপাত, নাগ ফজলি মল্লিকা শেষে সব শেষ গাছ খেকে সুমিষ্ট জাতের আম আম্রপলি গাছ থেকে নামানোর পর হাটে তোলা হচ্ছে । মৌসুমের মাঝামাঝিতে পরিপক্ব আম এক সাথে হাটে তোলায় কেনাবেচায় জমজমাট আড়ৎগুলো। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকাররা এসব আম কিনতে ভিড় করছেন জেলার সাপাহার আমের হাটে। এবার অনেকটা দ্বিগুণ দরে আম বিক্রি করতে পারায় বাড়তি লাভের আশা করছেন বাগান মালিকরা।

জেলার আড়ৎগুলোতে আম্রপালি ২৩শ থেকে ২৪শ টাকা, ল্যাংড়া ২২শ থেকে ২৩শ টাকা এবং মল্লিকা ও স্থানীয় জাতের আম ১৪শ থেকে ১৬শ টাকা মণ দরে কেনাবেচা হচ্ছে।

নওগাঁর সাপাহারের আম ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি কার্তিক চন্দ্র সাহা বলেন, এখন আমের দাম মণে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি। বর্তমানে এখানে বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসেছে।

বরেন্দ্র’র সুস্বাদু জাতের আম বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সরকারের সহায়তা চান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

নওগাঁর সাপাহারের উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান আলী বলেন, এটা আমরা আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার করতে পারলে আমরা একটা ভালো ফলাফল পাব বলে মনে করি।

পোরশা উপজেলার চেয়ারম্যান মো. মুনজুর মোরশেদ বলেন, আমাদের হিমসাগর ও খিরসাপাত যেভাবে জিআইএ সার্টিফিকেট পেয়েছে সেভাবে যাতে আমাদের ল্যাংড়া আমটাও সার্টিফিকেট পায় সেই ব্যবস্থা করার জন্য আমি তাদের দৃষ্টি কামনা করছি।

বিদেশে রপ্তানি উপযোগী নিরাপদ ও গুণগত মানের আম উৎপাদনে কৃষি বিভাগ বাগান মালিকদের সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।

নওগাঁর পোরশা উপজেলার কৃষি অফিসার মো. মাহফুজ আলম বলেন, কৃষি বিভাগের কৃষকরা যেই পরিচর্যা করেছে তাতে কৃষকরা খুশি, কৃষি বিভাগ খুশি এবং দেশবাসী নিরাপদ আম খেতে পারছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, জেলার ১৯ হাজার হেক্টর জমির আম বাগান থেকে প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছে। যার বাজার মূল্য ধরা হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা।

বরগুনায় কাঁকড়া চাষ প্রসার লাভ করছে
                                  

অনলাইন ডেস্ক : জেলার মৎস্য চাষিরা বাণিজ্যিকভাবে কাঁকড়া চাষে ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছেন। গত ১৫ বছরে এ অঞ্চলে কাঁকড়ার চাষ প্রসার লাভ করেছে। জেলার প্রায় দেড় হাজার কাঁকড়া ঘেরে কয়েক হাজার মৎস্য চাষির জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। অনুকূল পরিবেশের কারণে দিনদিন কাঁকড়া চাষ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট চাষি ও মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছে। শুরুর দিকে বরগুনা জেলার আমতলী, পাথরঘাটা, তালতলী উপজেলায় বেশীরভাগ কাঁকড়া ঘের গড়ে উঠলেও বামনা, বেতাগী ও বরগুনা সদরের মৎস্য চাষিরাও আগ্রহভরে কাঁকড়া চাষ শুরু করেছেন।

আমতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়ায় মনির গাজীর বড় সাইজের ডোবা সাদৃশ্য পুকুরটির চারপাশ বাশেঁর চাটাই ও মশারীর জাল দিয়ে ঘেরা। মাঝ বরাবর চাটাইয়ের বেড়া ও মশারীর জাল পুকুর দুইভাগে ভাগ করেছে। এ এলাকায় সাধারণত মাছ চাষের জলাশয়ে এত সুরক্ষা দেখা যায় না। সবুজ নামের এক কর্মী পুকুরে নেমে হাতরিয়ে বড় বড় সাইজের কাঁকড়াতুলে আনছে। ঐ যুবকটি জানাল এখানে ছোট ছোট কাঁকড়া পরিচর্যা করে বড় করা হয়। কাঁকড়া জন্য খুব বেশী পরিচর্যা দরকার পড়েনা। নিয়মিত খাবার দিলেই চলে। তবে পুকুরপাড়ে শক্ত ও ভাল বেড়ার দরকার পড়ে। না হলে কাঁকড়াগুলো হেটে হেটেই চলে যাবে। এখানকার কাঁকড়া খুলনা ও বাগেরহাটে চালান করা হয়।

ঘেরের পাশেই মনির গাজী’র তার মাছের আড়ত। প্রথম ব্যক্তি হিসেবে গত ১৫ বছর ধরে তিনি গলদা ও বাগদা চিংড়িসহ বিভিন্ন সাদা মাছের আড়তদারী করছেন। স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে কাঁকড়া কিনে তা খুলনা, বাগেরহাট এলাকায় চালান করতেন। জেলেদের জালে ধরা কাঁকড়াগুলো আড়তে আসতে আসতেই দুর্বল হয়ে পড়ত। কাঁকড়াগুলোকে খুলনা পাঠানোর সময়ে অর্ধেকই মারা পড়ত। সেসময় থেকেই মনির ভাবতে শুরু করলেন কীভাবে তরতাজা কাঁকড়া চালানে পাঠানো যায়। সে ভাবনা থেকেই গত বছর তিনি কাঁকড়া নাসিং শুরু করেন। মনির জানালেন, ‘চালানে পাঠালে এখনও কাঁকড়া মারা পড়ে। তবে খুবই কম পরিমানে।’ মনির গাজীর সাফল্য দেখে ঐ এলাকার শতাধিক উদ্যোগী মানুষ কাঁকড়া চাষ শুরু করেছেন।

আমতলী উপজেলার মৎস্য দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জগদিশ চন্দ্র বসু জানিয়েছেন, ‘উপকূলীয় এলাকা হিসেবে বরগুনাতে কাঁকড়া মোটাতাজা করণ ও প্রজননের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। ভার্দ্র থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত জেলেদের জালে প্রচুর কাঁকড়ার বাচ্চা ধরা পড়ে এবং অহেতুক মারা পড়ে। সেগুলোকে মোটতাজাকরণের মাধ্যমে প্রচুর অর্থ উপার্জন সম্ভব। জেলা মৎস্য বিভাগ কাঁকড়া চাষে উদ্যোগীদের প্রশিক্ষণসহ সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।’

জেলার পাথরঘাটায় কয়েক বছর আগে প্রায় তিন একর জায়গা ইজারা নিয়ে কাঁকড়ার ঘের করেছিলেন বরিশালের সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে কাঁকড়া সংগ্রহ করে ঘেরে তা বড় করা হয়। বাজার থেকে ছোট ও গুড়া মাছ কিনে কাঁকড়াকে খাওয়ানো হয়। ৪১ দিন পড়ে ঐ কাঁকড়াগুলো প্রায় ৭শ থেকে ৮শ গ্রাম ওজনের হয়। বারমাস চলে কাঁকড়ার ব্যবসা। প্রতি দেড় মাসে ৫০ হাজার টাকা মূলধনে ১ লাখের বেশী টাকা আসে বলে তিনি জানান।

উন্নত পদ্ধতিতে কাঁকড়ার চাষ ও মোটাতাজাকরণে পাথরঘাটায় এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় শতাধিক প্রশিক্ষিত চাষি রয়েছেন। যাদের আয়ের উৎসই এখন কাঁকড়া চাষ। পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) অর্থায়নে এ চাষিদের কারিগরী সহযোগিতা করছে সংগ্রাম নামের একটি স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা।

চাষিরা বলছেন, মৎস্য আহরণ ও ধান চাষের চেয়ে বেশি লাভবান হওয়াতে কাঁকড়া চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন তারা। সাধারণ শক্ত খোলসযুক্ত ও নরম খোলসযুক্ত এ দুই ধরনের কাঁকড়া রফতানি করা হয়। রফতানিকরা কাঁকড়ার ৯৫ ভাগ হলো শক্ত খোলসযুক্ত। পাথরঘাটার বিভিন্ন ছোট ছোট খাল, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীতে আহরণকারীরা আহরণ করে চাষিদের কাছে বিক্রি করে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আহরণকারীরা নদী-নালায় ছোট ছোট কাঁকড়া আহরণ করছেন। খামারে বাচ্চা কাঁকড়া বড় করা এবং খোলস পাল্টানো কাঁকড়া ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক কাঁকড়ার বিক্রয়যোগ্য আকার পর্যন্ত মোটাতাজাকরণ করা হয়।

পাথরঘাটার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিশির কুমার বড়াল জানান, কৃষি চাষের বিকল্প কাঁকড়া চাষ। এ ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের কোনো আইনগত বাধা নেই। চাষি যেটাকে লাভবান মনে করবে সেটিই করতে পারবে।
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সরদার মহিউদ্দিন জানিয়েছেন, কাঁকড়া চাষ লাভজনক। সরকারিভাবে আমরা কিছু সংখ্যক কাঁকড়া চাষিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আমরা সব সময় তাদের পরমার্শ দিচ্ছি। অনেকেই কাঁকড়া চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। বাসস

গম চাষে ভালো ফলন পেয়ে খুশি হিলির চাষিরা
                                  

আবহাওয়া অনুকূলে থাকার পাশাপাশি পোঁকা মাকড়ের প্রকোপ না থাকায় দিনাজপুরের হিলিতে গম চাষে প্রত্যাশামতো ফলন পেয়েছেন চাষিরা।

উপজেলায় বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১২ মণ গম উৎপাদন হওয়ায় বেশ খুশি কৃষক। এতে আবাদ খরচ উঠে আসার পাশাপাশি আগামী মৌসুমের জন্য উন্নতমানের বীজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলেও মনে করছেন তারা। স্থানীয় কৃষি অফিস বলছে, চলতি বছর শুধু হিলিতেই দেড়শো হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে কয়েক জাতের গম।

যশোরের গদখালিতে ৫০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির সম্ভাবনা
                                  

অনলাইন ডেস্ক : জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালিতে জমে ওঠেছে ফুলের বেচাকেনা।এ বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এ বাজারে ৫০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানালেন বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম। সামনের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বসন্ত উৎসব ও ভ্যালেনটাইন দিবস উপলক্ষে ফুল বেচা-কেনায় ব্যস্ত ফুল চাষি ও ক্রেতারা। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকারি ফুল ক্রেতারা আসতে শুরু করেছেন গদখালিতে।সারা বছর ফুলচাষিরা ফুল বিক্রি করলেও তাদের মূল লক্ষ্য থাকে ফেব্রুয়ারি মাসের তিনটি উৎসব। এছাড়া বাংলা নববর্ষেও ফুলের জমজমাট বেচাকেনা হয়ে থাকে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গদখালি ও পানিসার এলাকায় সাড়ে ৬ হাজারের বেশি কৃষক বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন রজনীগন্ধ্যা, গোলাপ, রডস্টিক, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, জিপসি, কেলেনডোলা, চন্দ্রমল্লিকাসহ ১২ ধরনের ফুল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার ৩ উপজেলায় ফুল চাষ হয়ে থাকে।এ জেলায় মোট ৬৪৬ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ঝিকরগাছা উপজেলায় ফুল চাষ হয়েছে ৬৩৫ হেক্টর জমিতে। ঝিকরগাছায় ফুল চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ৮শ’ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়েছে বলে জানান ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম ।এ উপজেলার গদখালি, পানিসারা, হাড়িয়া, নীলকন্ঠ নগর, চাওরা, কৃষ্ণচন্দ্রপুর, চাঁদপুর, বাইশা, পাটুয়াপাড়া, নারানজালি গ্রামসহ প্রায় ৫০টি গ্রামে ফুল চাষ হয়ে থাকে। এছাড়া শার্শা উপজেলায় ১০ হেক্টর জমিতে এবং কেশবপুর উপজেলায় ফুল চাষ হয়েছে ১ হেক্টরের সামান্য বেশি জমিতে।
পানিসারা গ্রামের ফুলচাষি হারুন-অর-রশিদ ও আবু মুসা জানান, তারা প্রত্যেকে এক একরের বেশি জমিতে ফুল চাষ করেছেন। ফুলের উৎপাদনও ভালো হয়েছে।ইংরেজি নববর্ষসহ সামনের তিনটি উৎসবে তারা সবচেয়ে বেশি ফুল বিক্রি করে থাকেন।গদখালি বাজারের ফুলের পাইকারি ব্যবসায়ী আবু সাইদ জানান, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম থেকেই ফুলের বাজার দর বেশ ভালো। চলতি মাসে সামনের তিন উৎসবের আগে ফুলের দাম আরো বাড়বে। ফলে চাষিরা লাভবান হবে বলে তিনি জানান। এ বাজারের ফুলের আরেক পাইকারি ব্যবসায়ী শেখ আহমেদ বাসসকে বলেন, তিনি প্রতিদিন ঢাকা ও চট্রগ্রামে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার ফুল পাইকারি বিক্রি করেন।

ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপংকর দাস বাসসকে জানান,এ উপজেলার গদখালি, পানিসারা, নাভারন ও মাগুরা ইউনিয়নে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ হয়ে থাকে।এ চারটি ইউনিয়নের সাড়ে ৬ হাজারের বেশি ফুল চাষি ফুল চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন।এ বছর উপজেলায় ৬৩৫ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হয়েছে। ফুলের চাষ বাড়াতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রদর্শনীসহ ফুলচাষিদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং নিয়মিতভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে। বাসস

সীমান্ত এলাকায় গম চাষে নিষেধাজ্ঞা
                                  


অনলাইন ডেস্ক
ভারতে আগামী দুই বছর বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে গম চাষ করা যাবে না বলে জানিয়েছে সে দেশের কৃষি দপ্তর। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে গমের ফসলে হুইট ব্লাস্ট নামের একটি ছত্রাক রোগ ছড়িয়ে পড়ার পরে কৃষি বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে ওই রোগ ভারতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত অঞ্চলের যেসব এলাকায় এবছর গম চাষ করেছিলেন, তা ইতিমধ্যেই জ্বালিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আর পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকায় পরের দুবছর যাতে কেউ গম চাষ না করেন, তার জন্য এলাকাগুলিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রচার।
পশ্চিমবঙ্গের দুটি জেলা - নদীয়া এবং মুর্শিদাবাদের ওপরে কৃষি দপ্তরের বিশেষ নজর দিচ্ছে - কারণ সেখান থেকেই ভারতে রোগ ছড়ানোর সবথেকে বেশী সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।
মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ ও সীমান্তবর্তী এলাকা হরিহরপাড়ার জন প্রতিনিধি মোশারফ হোসেন জানান, "গত মরসুমে শুধু আমাদের মুর্শিদাবাদ জেলাতেই প্রায় ৪৮০ হেক্টর জমিতে বোনা গম এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিল।
প্রথমে ব্রাজিলে গমের ফলনে এই ছত্রাক রোগ দেখা যায় - তারপরে সেটি দক্ষিণ আমেরিকার নানা দেশেও ছড়ায়। এটা এশিয়ার এই অঞ্চলের রোগ নয়। তবে বাংলাদেশও সম্প্রতি ওই রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

এশিয়ার দেশগুলোর জন্য যৌথ গবেষণা কেন্দ্র চালু
                                  

অনলাইন ডেস্ক : এশিয়ার দেশগুলোর জন্য একটি যৌথ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র চালু হয়েছে। 

চীন-দক্ষিণ এশিয়ার এক্সপো কর্তৃপক্ষের একটি ওয়েব পোস্ট অনুযায়ী দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই যৌথ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি কৃষিখাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন উদ্ভাবনে যৌথভাবে কাজ করবে।
গত ১২ থেকে ১৮ জুন কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়া কমিউনিটি এক্সপো এন্ড ইনভেস্টমেন্ট ফেয়ার (এসএসএসিইআইএফ) -এ ইউনান প্রদেশের ভাইস-গভর্নর ঝাং ঝুলিন এ কথা জানান।
ইউনান একাডেমি অফ এগ্রিকালচার সায়েন্স এবং জিয়াংসু একাডেমি এগ্রিকালচার সায়েন্স সেন্টারটি প্রতিষ্ঠায় একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।
এ সময় ভাইস-গভর্নর ঝাং বলেন, ইউনান দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জলবায়ু ও পরিবেশের অংশ, তাই টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষির উন্নয়নে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।বাসস


   Page 1 of 2
     কৃষি সংবাদ
কৃষিক্ষেত্রে অবদানে ‘এআইপি’ সম্মাননা পাচ্ছেন ২২ জন
.............................................................................................
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ১ হাজার ৩৪৪ মেট্রিক টন অতিরিক্ত ধান উৎপাদন
.............................................................................................
অনলাইনে আমের ব্যবসা যেন এখন বহু রাজশাহীবাসীর কাছেই আশীর্বাদ
.............................................................................................
মাগুরায় ৭০ কোটি টাকার লিচু বিক্রির আশা
.............................................................................................
জৈবকৃষির বিস্তারে ভ্রাম্যমান কৃষি হসপিটাল
.............................................................................................
অপ্রচলিত ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সহযোগিতা করা হবে: কৃষিমন্ত্রী
.............................................................................................
বগুড়ায় মরিচের বাম্পার ফলন
.............................................................................................
পেঁয়াজের বিকল্প নিয়ে গবেষণায় সফল বাংলাদেশি বিজ্ঞানী
.............................................................................................
আলু চাষে ব্যস্ত নীলফামারীর কৃষকেরা
.............................................................................................
আশ্বিন মাসের কৃষি
.............................................................................................
নওগাঁয় আমের ভালো দাম পেয়ে খুশি বাগান ব্যবসায়ীরা
.............................................................................................
বরগুনায় কাঁকড়া চাষ প্রসার লাভ করছে
.............................................................................................
গম চাষে ভালো ফলন পেয়ে খুশি হিলির চাষিরা
.............................................................................................
যশোরের গদখালিতে ৫০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির সম্ভাবনা
.............................................................................................
সীমান্ত এলাকায় গম চাষে নিষেধাজ্ঞা
.............................................................................................
এশিয়ার দেশগুলোর জন্য যৌথ গবেষণা কেন্দ্র চালু
.............................................................................................
দক্ষিণাঞ্চলের ৫ জেলার ধানে `ব্লাস্টের সংক্রমণ`
.............................................................................................
হালদায় ডিম ছেড়েছে কার্প জাতীয় মাছ
.............................................................................................
এবার ধানে ব্লাস্ট রোগ সংক্রমণ
.............................................................................................
ভোলায় যে কারণে অসময়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তরমুজ
.............................................................................................
কিশোরগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতির মুখে পড়েছে বোরো আবাদ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: [email protected]
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Dynamic Scale BD