বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * ‘গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর ফর ডায়াবেটিস’ পুরস্কার পেলেন প্রধানমন্ত্রী   * ঢাকায় ব্রিটিশ নাগরিকদের চলাচলে সতর্কতা জারি   * ৬৫ বছরের বেশি বয়সীরাও হজে যেতে পারবেন: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী   * ছাত্রলীগকে গুজবের জবাব দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর   * বাংলাদেশ ৩০০ কোটির বেশি মানুষের বাজার হতে পারে: প্রধানমন্ত্রী   * গাইবান্ধা-৫ আসনে উপনির্বাচনে ফের ভোট ৪ জানুয়ারি   * বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ করলো ইন্দোনেশিয়া   * সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, ১২ ডিগ্রির নিচে নামলো তাপমাত্রা   * ছাত্রলীগের সম্মেলন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী   * কুমিল্লায় ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত  

   ইসলাম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার পরিণাম কী?

মিয়া আবদুল হান্নান : দুনিয়া ও আখেরাতের অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সাক্ষ্য দেওয়া। দুনিয়াতে যেভাবে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার-ফয়সালা করা হয়। তেমনি পরকালেও বিচার-ফয়সালায় এ সাক্ষ্যের বিষয়টি থাকবে। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে সত্য সাক্ষ্য দেওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। মিথ্যা সাক্ষ্য থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। কারণ মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া মারাত্মক অপরাধ। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় তিনটি বড় (কবিরা) গুনাহ সম্পর্কে অবহিত করব না? উপস্থিত সবাই বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল! অবশ্যই বলুন। তিনি বললেন, (সেগুলো হলো)-

১. আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা;

২. পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, তিনি হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় ছিলেন। এবার সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, শুনে রাখ

৩. মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া। এ কথাটি এত অধিকবার বলতে থাকলেন যে, সাহাবাগণ মনে মনে বলতে লাগলেন, ‘আর যদি তিনি না বলতেন। (বুখারি)

মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া মারত্মক অপরাধ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হেলান দিয়ে বসা থেকে সোজা হয়ে বসে একাধিকবার মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার ব্যাপারে তাগিদ করাই প্রমাণিত হয় যে, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া মারাত্মক অপরাধ। পাশাপাশি সত্য সাক্ষ্যকে গোপন করাও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া নামান্তর।


মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার পরিণাম

১. কবিরা গুনাহ

কবিরা গুনাহের অন্যতম হলো মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করা। হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কবিরা গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, ‘আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, কাউকে হত্যা করা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া।’ (বুখারি ২৬৫৩; মুসলিম৮৮) ।

২. শিরকের সমতুল্য আপরাধ

মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া শিরকের ন্যায় মহাপাপ। এ সম্পর্কে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-

‘মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া আল্লাহর সঙ্গে শিরক করার সাথে সমতুল্য। এরপর তিনি কোরআনের আয়াত পড়লেন- ‘অতএব তোমরা মূর্তির অপবিত্রতা থেকে দূরে থাক, মিথ্যা কথা পরিহার কর, একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর বান্দা হয়ে যাও। তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক কর না (সুরা হজ : আয়াত ৩০-৩১)। (বায়হাকি)

৩. অন্যের প্রতি জুলুম

মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া অন্যের প্রতি জুলুম করার শামিল। এই জুলুমের দ্বারা কখনো অন্যের সম্পদ এমনকি কখনো অন্যের জীবনও চলে যেতে পারে। হজরত উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, ‘একদিন দুই ব্যক্তি উত্তরাধিকার সম্পর্কীয় ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়ে সাক্ষী ছাড়া শুধু প্রাপ্যের দাবি নিয়ে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসেছিল। এমতাবস্থায় তিনি বললেন-

‘আমি যদি তোমাদের কাউকে তার ভাইয়ের হক (তোমাদের একজনের মিথ্যা বলার কারণে) দিয়ে দেই, তখন আমার সে ফয়সালা দোষী ব্যক্তির জন্য হবে জাহান্নামের একখন্ড আগুন। এ কথা শুনে তারা উভয়েই বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমার অংশটি আমার সঙ্গীকে দিয়ে দিন। তখন তিনি বললেন, না, বরং তোমরা উভয়ে (সমানভাবে) বণ্টন করে নাও। আর বণ্টনে হক পন্থা অবলম্বন করবে এবং পরস্পরের মধ্যে লটারি করে নেবে। এরপর তোমরা একে অপরকে ঐ অংশ থেকে ক্ষমা করে দেবে।’ (আবু দাউদ ৩৫৮৪; মিশকাত ৩৭৭০)

৪. অন্যের হক নষ্ট করা হয়

মিথ্যা সাক্ষ্যর দেওয়ার মাধ্যমে অন্যের হক নষ্ট করা হয়। একজনের হক অন্যকে দিয়ে দেওয়া হয় এবং অন্যকে তার প্রাপ্য হক থেকে বঞ্চিত করা হয়। আর এটা যেহেতু বান্দার হক সেহেতু বান্দা ক্ষমা না করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তোমরা কি জান নিঃস্ব কে? সাহাবীগণ বললেন, আমাদের মাঝে নিঃস্ব সেই ব্যক্তি যার কোনো অর্থ ও বাহন নেই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে নিঃস্ব হচ্ছে ঐ ব্যক্তি, যে নামাজ, রোজা ও জাকাতের নেকি নিয়ে কেয়ামতের মাঠে উপস্থিত হবে। অপরদিকে সে (দুনিয়াতে) অন্যায়ভাবে কাউকে গালি দিয়েছে, অপবাদ দিয়েছে, কারো সম্পদ ভক্ষণ করেছে, কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে, এমন ব্যক্তিরাও উপস্থিত হবে। তখন তার নেকি থেকে তাদের এক এক করে পরিশোধ করা হবে। কিন্তু তাদের পাপ্য পরিশোধের আগে তার নেকি শেষ হয়ে গেলে তাদের পাপ থেকে (জুলুম পরিমাণ) নিয়ে তার উপর চাপানো হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ (মুসলিম ২৫৮১; তিরমিজি ২৪১৮; মিশকাত ৫১২৮)

৫. মিথ্যা সাক্ষ্যদাতার ভাল আমল কবুল হবে না

মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে ব্যক্তির ভাল আমলও আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোজা সম্পকে বলেন-

‘যে লোক মিথ্যা কথা বলে এবং সে অনুসারে কাজ করা আর মূর্খতা পরিহার করে না, আল্লাহর কাছে তার পানাহার বর্জনের কোনো প্রয়োজন নেই।’ (বুখারি ৬০৫৭; আবু দাউদ ২৩৬২; তিরমিজি ৭০৭; ইবনু মাজাহ ১৬৮৯)

৬. হালাল-হারামে রদবদল হয়

মিথ্যা সাক্ষ্যের দ্বারা আল্লাহর হালালকৃত বিষয় অনেক সময় হারাম করা হয় আবার অনেক সময় হারামকে হালাল করা হয়।

৭. কেয়ামতের অন্যতম আলামত

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

‘কেয়ামতের কাছাকাছি সময়ে ব্যক্তি বিশেষকে নির্দিষ্ট করে সালাম দেওয়ার প্রচলন ঘটবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। ফলে স্বামীর ব্যবসায়ে স্ত্রীও সহযোগিতা করবে। রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তা ছিন্ন করা হবে। মিথ্যা সাক্ষ্যদানের প্রচলন হবে এবং সত্য সাক্ষ্য গোপন করা হবে, লেখনীর প্রসার ঘটবে।’ (মুসনাদে আহমাদ ৩৮৭০; আদাবুল মুফরাদ ৮০১)

৮. জাহান্নামে যাওয়ার কারণ

মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে অনেকেরই জাহান্নামে যাওয়ার কারণও হতে পারে। হজরত আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন, কোনো লোক জ্ঞাতসারে নিজ পিতাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে পিতা বলে দাবি করলে সে আল্লাহর সঙ্গে কুফরি করলো এবং যে ব্যক্তি নিজেকে এমন বংশের সঙ্গে সম্পর্কিত দাবি করল যে বংশের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নিল।’ (বুখাবি ৩৫০৮; মুসলিম ৬১)

সুতরাং সব সময় সত্য সাক্ষ্য প্রদান করতে হবে। সত্য সাক্ষ্য গোপন থেকে বিরত থাকতে হবে। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে সত্য সাক্ষ্য দেয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার পরিণাম কী?
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : দুনিয়া ও আখেরাতের অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সাক্ষ্য দেওয়া। দুনিয়াতে যেভাবে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার-ফয়সালা করা হয়। তেমনি পরকালেও বিচার-ফয়সালায় এ সাক্ষ্যের বিষয়টি থাকবে। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে সত্য সাক্ষ্য দেওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। মিথ্যা সাক্ষ্য থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। কারণ মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া মারাত্মক অপরাধ। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় তিনটি বড় (কবিরা) গুনাহ সম্পর্কে অবহিত করব না? উপস্থিত সবাই বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল! অবশ্যই বলুন। তিনি বললেন, (সেগুলো হলো)-

১. আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা;

২. পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, তিনি হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় ছিলেন। এবার সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, শুনে রাখ

৩. মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া। এ কথাটি এত অধিকবার বলতে থাকলেন যে, সাহাবাগণ মনে মনে বলতে লাগলেন, ‘আর যদি তিনি না বলতেন। (বুখারি)

মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া মারত্মক অপরাধ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হেলান দিয়ে বসা থেকে সোজা হয়ে বসে একাধিকবার মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার ব্যাপারে তাগিদ করাই প্রমাণিত হয় যে, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া মারাত্মক অপরাধ। পাশাপাশি সত্য সাক্ষ্যকে গোপন করাও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া নামান্তর।


মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার পরিণাম

১. কবিরা গুনাহ

কবিরা গুনাহের অন্যতম হলো মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করা। হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কবিরা গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, ‘আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, কাউকে হত্যা করা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া।’ (বুখারি ২৬৫৩; মুসলিম৮৮) ।

২. শিরকের সমতুল্য আপরাধ

মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া শিরকের ন্যায় মহাপাপ। এ সম্পর্কে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-

‘মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া আল্লাহর সঙ্গে শিরক করার সাথে সমতুল্য। এরপর তিনি কোরআনের আয়াত পড়লেন- ‘অতএব তোমরা মূর্তির অপবিত্রতা থেকে দূরে থাক, মিথ্যা কথা পরিহার কর, একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর বান্দা হয়ে যাও। তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক কর না (সুরা হজ : আয়াত ৩০-৩১)। (বায়হাকি)

৩. অন্যের প্রতি জুলুম

মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া অন্যের প্রতি জুলুম করার শামিল। এই জুলুমের দ্বারা কখনো অন্যের সম্পদ এমনকি কখনো অন্যের জীবনও চলে যেতে পারে। হজরত উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, ‘একদিন দুই ব্যক্তি উত্তরাধিকার সম্পর্কীয় ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়ে সাক্ষী ছাড়া শুধু প্রাপ্যের দাবি নিয়ে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসেছিল। এমতাবস্থায় তিনি বললেন-

‘আমি যদি তোমাদের কাউকে তার ভাইয়ের হক (তোমাদের একজনের মিথ্যা বলার কারণে) দিয়ে দেই, তখন আমার সে ফয়সালা দোষী ব্যক্তির জন্য হবে জাহান্নামের একখন্ড আগুন। এ কথা শুনে তারা উভয়েই বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমার অংশটি আমার সঙ্গীকে দিয়ে দিন। তখন তিনি বললেন, না, বরং তোমরা উভয়ে (সমানভাবে) বণ্টন করে নাও। আর বণ্টনে হক পন্থা অবলম্বন করবে এবং পরস্পরের মধ্যে লটারি করে নেবে। এরপর তোমরা একে অপরকে ঐ অংশ থেকে ক্ষমা করে দেবে।’ (আবু দাউদ ৩৫৮৪; মিশকাত ৩৭৭০)

৪. অন্যের হক নষ্ট করা হয়

মিথ্যা সাক্ষ্যর দেওয়ার মাধ্যমে অন্যের হক নষ্ট করা হয়। একজনের হক অন্যকে দিয়ে দেওয়া হয় এবং অন্যকে তার প্রাপ্য হক থেকে বঞ্চিত করা হয়। আর এটা যেহেতু বান্দার হক সেহেতু বান্দা ক্ষমা না করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তোমরা কি জান নিঃস্ব কে? সাহাবীগণ বললেন, আমাদের মাঝে নিঃস্ব সেই ব্যক্তি যার কোনো অর্থ ও বাহন নেই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে নিঃস্ব হচ্ছে ঐ ব্যক্তি, যে নামাজ, রোজা ও জাকাতের নেকি নিয়ে কেয়ামতের মাঠে উপস্থিত হবে। অপরদিকে সে (দুনিয়াতে) অন্যায়ভাবে কাউকে গালি দিয়েছে, অপবাদ দিয়েছে, কারো সম্পদ ভক্ষণ করেছে, কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে, এমন ব্যক্তিরাও উপস্থিত হবে। তখন তার নেকি থেকে তাদের এক এক করে পরিশোধ করা হবে। কিন্তু তাদের পাপ্য পরিশোধের আগে তার নেকি শেষ হয়ে গেলে তাদের পাপ থেকে (জুলুম পরিমাণ) নিয়ে তার উপর চাপানো হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ (মুসলিম ২৫৮১; তিরমিজি ২৪১৮; মিশকাত ৫১২৮)

৫. মিথ্যা সাক্ষ্যদাতার ভাল আমল কবুল হবে না

মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে ব্যক্তির ভাল আমলও আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোজা সম্পকে বলেন-

‘যে লোক মিথ্যা কথা বলে এবং সে অনুসারে কাজ করা আর মূর্খতা পরিহার করে না, আল্লাহর কাছে তার পানাহার বর্জনের কোনো প্রয়োজন নেই।’ (বুখারি ৬০৫৭; আবু দাউদ ২৩৬২; তিরমিজি ৭০৭; ইবনু মাজাহ ১৬৮৯)

৬. হালাল-হারামে রদবদল হয়

মিথ্যা সাক্ষ্যের দ্বারা আল্লাহর হালালকৃত বিষয় অনেক সময় হারাম করা হয় আবার অনেক সময় হারামকে হালাল করা হয়।

৭. কেয়ামতের অন্যতম আলামত

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

‘কেয়ামতের কাছাকাছি সময়ে ব্যক্তি বিশেষকে নির্দিষ্ট করে সালাম দেওয়ার প্রচলন ঘটবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। ফলে স্বামীর ব্যবসায়ে স্ত্রীও সহযোগিতা করবে। রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তা ছিন্ন করা হবে। মিথ্যা সাক্ষ্যদানের প্রচলন হবে এবং সত্য সাক্ষ্য গোপন করা হবে, লেখনীর প্রসার ঘটবে।’ (মুসনাদে আহমাদ ৩৮৭০; আদাবুল মুফরাদ ৮০১)

৮. জাহান্নামে যাওয়ার কারণ

মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে অনেকেরই জাহান্নামে যাওয়ার কারণও হতে পারে। হজরত আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন, কোনো লোক জ্ঞাতসারে নিজ পিতাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে পিতা বলে দাবি করলে সে আল্লাহর সঙ্গে কুফরি করলো এবং যে ব্যক্তি নিজেকে এমন বংশের সঙ্গে সম্পর্কিত দাবি করল যে বংশের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নিল।’ (বুখাবি ৩৫০৮; মুসলিম ৬১)

সুতরাং সব সময় সত্য সাক্ষ্য প্রদান করতে হবে। সত্য সাক্ষ্য গোপন থেকে বিরত থাকতে হবে। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে সত্য সাক্ষ্য দেয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জুমার প্রথম খুতবা : জুমার দিন উম্মতের জন্য বিশেষ উপহার
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : আজ শুক্রবার। জুমার দিন। ২৫ নভেম্বর ২০২২ ইংরেজি, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বাংলা, ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৪ হিজরি। রবিউস সানি মাসের শেষ জুমা আজ। আজকের জুমার আলোচ্য বিষয়- জুমার দিন উম্মতের জন্য বিশেষ উপহার। আল্লাহ তাআলা কোরআন-সুন্নায় জুমার দিনের অনেক নেয়ামতের কথা উল্লেখ করেছেন। এ দিনের আমল ইবাদতের কথা বলেছেন। এ প্রার্থনা প্রসঙ্গে কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা কী?

সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি একক, তার কোনো অংশীদার নেই। যিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক। যার পরে আর কোনো নবি নেই। আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমে জুমা পড়ার নির্দশ দিয়ে বলেন-

হে মুমিনগণ, যখন জুমার দিনে নামাজের জন্য আহবান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। আর বেচা-কেনা বর্জন কর। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে।’ (সুরা জুমআ : আয়াত ৯)

আল্লাহ তাআলা আগের সব জাতিকে ইবাদতের জন্য একটি দিন নির্ধারণের সুযোগ দিয়েছেন। তারা সবাই ইবাদতের দিন নির্ধারণে ভুল করেছেন। ইহুদিরা আল্লাহর ইবাদতের জন্য শনিবারকে নির্বাচন করেছে আর নাসারারা নির্ধারণ করেছে রোববারকে। অথচ সবচেয়ে সম্মানিত দিন হল জুমাবার। এ দিনের অনেক ফজিলত, অনেক বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তাআলা মেহেরবানী করে সে দিনটি উম্মতে মুহাম্মদীকে দান করেছেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
আমরা পরে আগমনকারীরাই কেয়ামতের দিন অগ্রগামী হব। তবে অন্যদেরকে (আসমানি) কিতাব দেওয়া হয়েছে আমাদের আগে। এই দিন (অর্থাৎ শ্রেষ্ঠতম একটি দিনে সকলে একত্র হয়ে বিশেষ ইবাদত করা) তাদের উপর ফরজ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা এতে মতবিরোধ করেছে। আর আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক দিনটির পথ দেখিয়েছেন। সুতরাং এক্ষেত্রে মানুষ আমাদের অনুগামী। ইহুদিদের শ্রেষ্ঠ দিন জুমার পরের দিন শনিবার আর খ্রিস্টানদের শ্রেষ্ঠ দিন এর পরের দিন রোববার। (বুখারি ৮৭৬; মুসলিম ৮৫৫)

আরেক হাদিসে বিষয়টি এভাবে এসেছে- নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
আল্লাহ তাআলা আমাদের আগের উম্মতকে জুমার (সপ্তাহের এক দিন জমা হয়ে ইবাদত করার) ব্যাপারে সঠিক দিনের পথ দেখাননি। ফলে ইহুদিদের জন্য হয়েছে শনিবার আর খ্রিস্টানদের জন্য হল রবিবার। এরপর আল্লাহ তাআলা আমাদের এনেছেন এবং জুমার জন্য সঠিক দিনের নির্দেশনা দান করেছেন। সুতরাং আল্লাহ তাআলা (সম্মানিত দিন) নির্ধারণ করেছেন এভাবে- জুমাবার, শনিবার, রোববার।
(শ্রেষ্ঠ দিবস নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেমন অন্যান্যরা আমাদের অনুগামী) তেমনি কেয়ামতের দিনও তারা হবে আমাদের অনুসারী। আমরা দুনিয়ায় সবার শেষে আগমণকারী, কিন্তু কেয়ামতের দিন হব সবার থেকে অগ্রগামী। সেদিন আমাদের ফায়সালা করা হবে সকলের আগে।’ (মুসলিম ৮৫৬; নাসাঈ ১৩৬৮; ইবনে মাজাহ ১০৮৩)

জুমার দিনের পাঁচটি বিশেষ ফজিলত

জুমার দিনের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার অন্যতম একটি বিষয় হল, এ দিন কালক্রমে সংঘটিত এমন কিছু মহাঘটনার নীরব সাক্ষী, যা পৃথিবীর মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল বা পৃথিবীকে নবজীবন দান করেছিল। এমনিভাবে এ দিনই সংঘটিত হবে ঐ মহাপ্রলয়, যা এই নশ্বর পৃথিবীর সমাপ্তি ঘটিয়ে এক অবিনশ্বর জগতের সূচনা করবে। হাদিসে পাকে এসেছে-
হজরত আবু লুবাবা ইবনে আবদুল মুনযির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
‘নিশ্চয় জুমার দিন হল সমস্ত দিনের সর্দার। জুমার দিন আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে মহান দিবস। এমনকি এই দিন আল্লাহ তাআলার কাছে ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর তথা ইসলামের দুই ঈদের দিন থেকেও মহান।
জুমার দিনের বিশেষ পাঁচটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এ দিন আল্লাহ তাআলা আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেছেন। এ দিন তাঁকে জান্নাত থেকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। এদিনেই আল্লাহ তাঁকে মৃত্যু দান করেছেন। জুমার দিন একটা সময় আছে, যাতে বান্দা আল্লাহর কাছে যা চাইবে আল্লাহ তাআলা তাকে তা-ই দান করবেন, যদি না সে হারাম কোনো বিষয়ের প্রার্থনা করে। তদ্রূপ, কেয়ামতও সংঘটিত হবে জুমার দিনেই।
নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ পর্যন্ত জুমার দিন (কেয়ামতের আশঙ্কায়) ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে। পৃথিবী, আকাশ, বাতাস, পাহাড়, পর্বত, সাগর সবকিছু জুমার দিন (কেয়ামতের আশঙ্কায়) উদ্বিগ্ন থাকে।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ৫৫৫৯; মুসনাদে আহমাদ ১৫৫৪৮; ইবনে মাজাহ ১০৮৪১)

অন্য হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
সূর্য যেসব দিন উদিত হয় অর্থাৎ দিনসমূহের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দিন হল জুমার দিন। এদিন আল্লাহ তাআলা আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেছেন। তাঁকে দুনিয়াতে নামানো হয়েছে। এদিন তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর তওবা কবুল হয়েছে। এ দিনই কেয়ামত সংঘটিত হবে। মানুষ ও জিন ছাড়া এমন কোনো প্রাণী নেই, যা কেয়ামত কায়েম হওয়ার ভয়ে জুমার দিন ভোর থেকে সূর্য ওঠা পর্যন্ত চিৎকার করতে থাকে না। জুমার দিন একটা সময় আছে, কোনো মুসলিম যদি সে সময় নামায আদায় করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাকে তা দান করবেন।’ (মুয়াত্তা মালেক ২৯১; মুসনাদে আহমাদ ১০৩০৩; আবু দাউদ ১০৪৬; নাসাঈ ১৪৩০; ইবনে হিব্বান ২৭৭২)

জুমার দিনে পুরো সৃষ্টিজগৎ ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে
জুমার দিন সমস্ত প্রাণী এ ভয়ে আতঙ্কিত থাকে যে, না জানি আজই কেয়ামত কায়েম হয়ে যায়। অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
সূর্যের উদয় ও অস্ত যাওয়া দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ দিন নেই। মানুষ ও জিন ছাড়া এমন কোনো প্রাণী নেই, যা জুমার দিন (কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কায়) ভীতসন্ত্রস্ত থাকে না। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৫৫৬৩; মুসনাদে আহমাদ ৭৬৮৭; মুসনাদে আবু ইয়ালা ৬৪৬৮)

জুমার দিন সপ্তাহের সব দিনের সর্দার
হজরত আবু লুবাবা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিসে উদ্ধৃত হয়েছে যে, নিশ্চয়ই জুমার দিন হল সমস্ত দিনের সর্দার। জুমার দিন আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে মহান দিবস। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিসেও উল্লিখিত হয়েছে যে, সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল জুমার দিন। বিষয়টি আরও একাধিক হাদিসে বিবৃত হয়েছে।
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত অন্য হাদিসে এসেছে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
সূর্য যে সব দিন উদিত হয় অর্থাৎ দিনসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম দিন হল জুমার দিন। এই দিন আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিন তাকে জান্নাতে দাখেল করা হয়েছে। ঐ দিনই তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে। কেয়ামতও সংঘটিত হবে এ দিনেই। (মুসলিম ৮৫৪; মুসনাদে আহমাদ ৯৪০৯; তিরমিজি ৪৮৮)

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

‘জুমার দিন হচ্ছে, সকল দিনের সর্দার। এই দিন আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিন তাঁকে জান্নাতে দাখেল করা হয়েছে এবং এই দিনই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে। আর জুমার দিনই সংঘটিত হবে কেয়ামত।’ -মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদিস ১০২৬

জুমার রাতে বান্দার আমল পেশ করা হয়

জুমার দিনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল, জুমারাতে আল্লাহ তাআলার কাছে বান্দাদের আলম পেশ করা হয়। হাদিসে পাকে এসেছে-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِنَّ أَعْمَالَ بَنِي آدَمَ تُعْرَضُ كُلّ خَمِيسٍ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ، فَلَا يُقْبَلُ عَمَلُ قَاطِعِ رَحِمٍ.
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অর্থাৎ জুমারাতে আদম সন্তানের আমল (আল্লাহর সামনে) পেশ করা হয়। তখন আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীদের আমল কবুল করা হয় না। (মুসনাদে আহমাদ ১০২৭২; আলআদাবুল মুফরাদ ৬১২)

জান্নাতের ‘ইয়াউমুল মাজিদ’
জুমার দিনের একটি বিশেষ ফজিলত হল, জান্নাতবাসীদের জন্য এ দিনটি মহা আনন্দ ও বিশেষ প্রাপ্তির দিন। জান্নাতে প্রতি জুমার দিন বিপুল আনন্দ ও প্রাপ্তির সমাহার ঘটবে। আল্লাহ তাআলার বিশেষ ব্যাবস্থাপনায় নবী-রাসুল, নেককার বান্দাগণের মিলন-উৎসব হবে।
সর্বোপরি জান্নাতিরা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দীদার পেয়ে ধন্য হবে, যা হল জান্নাতের সর্বোচ্চ নেয়ামত। তাই ফেরেশতারা জুমার দিনকে স্মরণ করেন ‘ইয়াউমুল মাযীদ’ তথা অনন্য প্রাপ্তিদিবস নামে। হাদিসে পাকে এসেছে- হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

জিবরীল আলাইহিস সালাম আমার কাছে এসেছেন শুভ্র আয়নার মত একটা জিনিস নিয়ে। আয়নাটিতে একটি কালো দাগ। আমি বললাম, এটা কী?
জিবরীল আলাইহিস সালাম বলেছেন, এটি হল জুমার দিন। এ দিনকে আল্লাহ তাআলা আপনার এবং আপনার উম্মতের জন্য ঈদের দিন বানিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং আপনারা ইহুদি ও নাসারা থেকে অগ্রগামী। (তাদের বিশেষ ইবাদতের দিন যথাক্রমে শনিবার ও রবিবার, যা জুমার দিনের পরে আসে।) এই দিন একটা সময় আছে, যে সময় বান্দা আল্লাহর কাছে যে কল্যাণই প্রার্থনা করে আল্লাহ তাকে তা-ই দান করেন।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, জুমার দিনকে কালো দাগ দিয়ে চিহ্নিত করা হল কেন?
জিবরীল আলাইহিস সালাম জবাব দিয়েছেন, এই যে কেয়ামত দিবস তা এ দিনেই সংঘঠিত হবে। আখেরাতে৩ জুমার দিনকে আমরা ‘ইয়াউমুল মাযীদ’ নামে স্মরণ করব।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, ‘ইয়াউমুল মাযীদ’ কী?
জিবরীল আলাইহিস সালাম উত্তর দিয়েছেন, জান্নাতে আল্লাহ তাআলা প্রশস্ত ও সুগন্ধময় একটা উপত্যকা বানিয়েছেন এবং এতে তিনি শুভ্র মেশকের একাধিক টিলা স্থাপন করেছেন। জুমার দিন এলে আল্লাহ তাআলা এ উপত্যকায় অবতরণ করবেন। তখন সেখানে নবীগণের জন্য স্বর্ণের মিম্বরসমূহ রাখা হবে, শহীদগণের জন্য মুক্তার অনেক চেয়ার পাতা হবে এবং জান্নাতী হুরেরা আপন আপন কক্ষ থেকে অবতরণ করবে। এরপর সকলে মিলে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও মাহাত্ম্যের স্তুতি গাইতে থাকবে।
জিবরীল আলাইহিস সালাম আরও বলেন, এরপর আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করবেন, (হে ফেরেশতারা!) আমার বান্দাদের (বিশেষ পোশাক) পরিধান করাও। সে অনুযায়ী তাদের সজ্জিত করা হবে।
তখন আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দেবেন, আমার বান্দাদের জন্য (বিশেষ) খাদ্য পরিবেশন কর। আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক তাদের জন্যই বিশেষ ভোজনের ব্যবস্থা করা হবে।
এরপর আল্লাহ তাআলা বলবেন, আমার বান্দাদের সামনে (বিশেষ) পানীয় উপস্থিত কর। সে হিসাবে তাদের সামনে পানীয় পরিবেশন করা হবে।
এরপর আল্লাহ তাআলার আদেশ, আমার বান্দাদের আতর-খোশবু লাগিয়ে দাও। তখন তাদেরকে সুরভিত করা হবে।
এবার আল্লাহ তাআলা জিজ্ঞেস করবেন, (হে আমার বান্দারা!) তোমরা আমার কাছে কী চাও?
তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমরা কেবল আপনার রিদা ও সন্তুষ্টি কামনা করি।
আল্লাহ তাআলা উত্তর দেবেন, আমি তোমাদের প্রতি রাজি হয়ে গেছি। (তবারানীর বর্ণনায় আছে, অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য এমন এমন নেয়ামতের দ্বার উন্মুক্ত করবেন, যা কখনো কোনো চোখ দেখেনি এবং কোনো হৃদয় কল্পনা করেনি।)
তারপর সবাইকে নিজ নিজ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলা নির্দেশ করবেন। সকলে আপন আপন জান্নাতে চলে যাবে এবং হুরেরা ঐসব কক্ষে আরওহণ করবে, যার প্রত্যেকটিই সবুজ (মূল্যবান রত্ন) পান্না বা লাল ইয়াকুতের তৈরি। (মুসনাদে আবু ইয়ালা ৪২২৮; তবারানি ৩/৫৫ ২১০৫৪)

মুমিন মুসলমানের উচিত, আল্লাহর কাছে বেশি বেশি জুমার দিনের নেয়ামত পাওয়ার চেষ্টা ও দোয়া করা। দুনিয়া ও পরকালের জীবন নেয়ামতে পরিপূর্ণ করে দেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দিনব্যাপী ইবাদত-বন্দেগি করা।

আল্লাহ তাআলা সবাইকে বেশি বেশি জুমার দিন আমল ইবাদতে অতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন। কোরআন-সুন্নায় ঘোষিত ফজিলত ও মর্যাদা পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ক্ষমা প্রার্থনায় যে দোয়া পড়তে ভালোবাসতেন নবিজি (সা.)
                                  

মিয়া আব্দুল হান্নান : আল্লাহ তাআলা মানুষকে ভালোবাসেন বলেই ক্ষমা চাইলে তিনি বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে ক্ষমা চাওয়ার অনেক দোয়া ও আমল শিখিয়েছেন। এরমধ্যে ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ একটি দোয়াও শিখিয়েছেন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে এ দোয়ায় ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলেছিলেন। দোয়াটি কী?

আল্লাহর কাছে ক্ষমা পাওয়ার একটি দোয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের জন্য তুলে ধরেছেন। মুমিন মুসলমান রোনাজারি ও ক্ষমা প্রার্থনায় আত্মনিয়োগ করবে আর বলবে-

অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল। ক্ষমা করে দিতে ভালোবাসেন। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন।

অনেকেই দোয়াটিকে শবে কদরের রাতের দোয়া হিসেবেই জানেন। কিন্তু প্রত্যেক রাতেই আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানান। যে কেউ প্রতি রাতে মহান আল্লাহর কাছে নবিজির শেখানো দোয়ায় ক্ষমা চাইবে, মহান আল্লাহ ওই বান্দাকে ক্ষমা করে দেবেন।

আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সুসম্পর্ক হবে ৬ আমলে
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : জীবনের সফলতা পেতে আল্লাহর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার বিকল্প নেই। ইবাদত ও আমলে বান্দার এমন কিছু অনুভূতি রয়েছে, যা তাকে আল্লাহর সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরিতে সুযোগ করে দেয়। মুমিন মুসলমানের জন্য এ অনুভূতি ও কাজগুলো খুবই জরুরি। সুসম্পর্ক তৈরির আমল ৬টি কী?

মানুষের প্রতি আল্লাহর অবিরত রহমত নাজিল হয়। মায়ের গর্ভের ভ্রুণ থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ আল্লাহর এ রহমত ভোগ করে। তাঁর রহমতেই মানুষ বেড়ে ওঠে। আল্লাহর এ রহমত ও নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনই তাঁর সঙ্গে বান্দার সুসম্পর্ক তৈরি হয়। আল্লাহর সঙ্গে বান্দার অনুভূতি ও কাজগুলো হবে এমন-

১. আল্লাহর প্রশংসা করা

আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সুসম্পর্ক স্থাপনের অন্যতম ও প্রধান কাজই হচ্ছে, প্রতি মুহূর্তে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও প্রশংসা করা। আর তা করতে হবে কথা, কাজ ও সম্মতির মাধ্যমে। কোনোভাবেই আল্লাহর কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা থেকে দূরে থাকা যাবে না। কুরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ বান্দার প্রতি এ নির্দেশই দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘কাজেই তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ (সূরা বাক্বারা : আয়াত ১৫২)

২. আল্লাহকে ভয় করা

যে মুমিন মহান আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা মিশ্রিত ভয় রাখবে, তার সঙ্গে আল্লাহর বুন্ধত্ব স্থাপন হবে। যেভাবে মহান আল্লাহ বলেন-

‘যে না দেখে দয়াময় আল্লাহ তাআলাকে ভয় করত এবং বিনীত অন্তরে তার কাছে উপস্থিত হত।’ (সুরা কাফ : আয়াত ৩৩)

আল্লাহ তাআলা বান্দার সব অবস্থা দেখেন এবং জানেন এ অনুভূতির ফলে বান্দার হৃদয়-মন আল্লাহর ভয় ও ভক্তি-শ্রদ্ধায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠে, তাঁর অবাধ্যতায় লজ্জিত হয়, তাই আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ ও আনুগত্যের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যাওয়াটাকে রীতিমতো অপমান মনে করে। এ অনুভূতিই বান্দাকে আল্লাহর বন্ধুত্বে পরিণত করে দেয়।

৩. আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা

আল্লাহ তাআলা বান্দার ওপর ক্ষমতাবান। বান্দা তাঁর অধীন এবং তাঁর দিকে ছাড়া বান্দার পালানোর, মুক্তির ও আশ্রয়ের কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং যে বান্দা সব সময় আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করে, তাঁরই দিকে ধাবিত হয়, তাঁর ওপর ভরসা করে, সে বান্দা মহান আল্লাহর বন্ধুতে পরিণত হয়। কারণ বান্দা বিশ্বাস করে যে-

- ‘এমন কোনো জীবজন্তু নেই; যে তাঁর পূর্ণ আয়ত্তাধীন নয়।’ (সুরা হুদ : আয়াত ৫৬)

- ‘আর আল্লাহর ওপরই তোমরা নির্ভর কর, যদি তোমরা মুমিন হও।’ (সুরা মায়েদা : আয়াত ২৩)

৪. আল্লাহর রহমত কামনা করা

আল্লাহর সঙ্গে ওই বান্দার সুসম্পর্ক তৈরি হয়, যে বান্দা সব সময় আল্লাহর রহমতের মুখাপেক্ষী। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও প্রতি মুখাপেক্ষী নয়। কেননা আল্লাহ তাআলা বান্দাকে অভয় দিয়ে বলেছেন, বিপদ-মুসিবত যত কিছুই আসুক না কেন তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে সরে দাঁড়িও না। আল্লাহ বলেন-

‘তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ হতে নিরাশ হইও না।’ (সরা যুমার : আয়াত ৫৩)

৫. আল্লাহর ক্ষমতায় বিশ্বাসী হওয়া

মানুষ শুধু সৃষ্টিগতভাবেই দুর্বল নয়; বরং মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর সামনে কোনো বিষয়ে মুখোমুখি হওয়ার ক্ষমতা মানুষ কেন; কারোরই নেই। তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। আল্লাহর ক্ষমতায় একান্ত বিশ্বাসী ব্যক্তিই আল্লাহর সঙ্গে সুসম্পর্ক গঠনে সক্ষম। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘আর কোনো সম্প্রদায়ের জন্য যদি আল্লাহ অশুভ কিছু ইচ্ছে করেন, তবে তা রদ হওয়ার নয় এবং তিনি ছাড়া তাদের কোনো অভিভাবক নেই। (সুরা রাদ : আয়াত ১১)

৬. আল্লাহর কাছে আশা করা

আল্লাহর সঙ্গে সুসম্পর্ক গঠনে তাঁর প্রতি আশা এবং ভয় পোষণ করার বিকল্প নেই। বান্দা যখন আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হয়, তাঁর আনুগত্য থেকে বেরিয়ে যায়, তখন মনে হয় যেন আল্লাহর দেয়া হুমকি বা আজাব তাকে চেপে ধরেছে।

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তাঁর আনুগত্য করে, অনুসরণ-অনুকরণ করে, তাঁর হুকুম-আহকাম পালন করে, মনে হয় যেন সে ব্যক্তি আল্লাহর দেয়া প্রতিশ্রুতিকে সত্যে পরিণত করছে। এ বিশ্বাসই মানুষকে তার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আল্লাহ বলেন-

- ‘আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে, তাহলে তারাই কৃতকার্য।’ (সুরা নুর : আয়াত ৫২)

- ‘কেউ কোনো সৎকাজ করলে সে তার দশ গুণ পাবে। আর কেউ কোনো অসৎ কাজ করলে তাকে শুধু তার অনুরূপ প্রতিফলই দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না। (সুরা আনআম : আয়াত ১৬০)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, আল্লাহর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে কুরআনের নির্দেশগুলো নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করা জরুরি। আর তাতেই আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সুসম্পর্ক তৈরি হবে। দুনিয়া ও পরকালে সফলতা লাভ করবে মুমিন।

হে আল্লাহ! মুমিন মুসলমানকে আপনার সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের তাওফিক দান করুন। আপনাকে অভিভাবক, তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আপনার প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তাওফিক করুন। আমিন।

আসমান-জমিনের মধ্যবর্তী স্থান সওয়াবে পূর্ণ হয় যে আমলে
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : কুরআন মানুষের জীবন বিধান। হাদিস মানের এ জীবন-বিধানকে চলার পথকে সহজ করে দেয়। কোরআন-সুন্নাহর সম্বন্বয়ে গঠিত জীবন-যাপনই পরকালের কল্যাণ সাধিত হয়। নবিজি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরকালের কল্যাণে অসংখ্য ছোট ছোট আমলের উপদেশ দিয়েছেন। দৈনন্দিন জীবনের এসব ছোট ছোট আমলের অনেক ফজিলতও বর্ণনা করেছেন তিনি। এমনই একটি ছোট্ট আমল বর্ণনা করেছেন যা মানুষের ওজন দণ্ডের জন্য যথেষ্ট ও আসমান-জমিনের মধ্যবর্তী স্থান সওয়াবে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। কী সেই ছোট্ট আমল?

হজরত আবু মালিক হারেছ ইবনে আছেম আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, পবিত্রতা ঈমানের অর্ধাংশ। আর আলহামদুলিল্লাহ ওজন দণ্ডের পরিমাপককে পরিপূর্ণ করে দেবে। আর সুবহানাল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানকে পরিপূর্ণ করে দেবে। নামাজ হচ্ছে একটি উজ্জ্বল জ্যোতি। সাদকা হচ্ছে (ঈমানের) নিদর্শন। সবর বা ধৈর্য হচ্ছে জ্যোতির্ময়। আর আল-কুরআন হবে তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে দলিল প্রমাণ স্বরূপ। বস্তুত সকল মানুষই প্রত্যেক ভোরে নিজেকে আমলের বিনিময় বিক্রি করে দেয়। তার আমল দ্বারা নিজেকে (আল্লাহর আজাব থেকে) মুক্ত করে অথবা তার নিজের ধ্বংস সাধন করে। (মুসলিম)

হাদিসটি উম্মাতে মুহাম্মাদির জন্য গুরুত্বপূর্ণ আমলি দিকনির্দেশনা। ছোট ছোট এ আমলগুলোতে পাবে পরকালীন জীবনের উন্নতি। যারাই এর বিপরীতে চলতে থাদের জন্যই হবে কঠিন বিপদ।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ফজিলতপূর্ণ জিকিরের আমলগুলো দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সচ্ছলতার জন্য যেসব আমল করবেন
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : ধনী-দরিদ্র, সচ্ছল-অসচ্ছল বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত মানুষ। কারো সম্পদশালী হওয়া আর কারো নিঃস্ব হওয়া সবই আল্লাহর ইচ্ছাধীন। অনেক সময় দেখা যায়, প্রচণ্ড পরিশ্রম ও সঠিক আমলের ফলে অনেকে জীবনে আসে সচ্ছলতা। সাংসারিক জীবন হয় সুখময়। তাই প্রচণ্ড পরিশ্রমের বিরামহীন প্রচেষ্টার পাশাপাশি করতে হবে আমল। যার বিনিময়ে দূর হবে অভাব-অনটন। ফিরে আসবে সুখ ও সমৃদ্ধি। কী সেই সব আমল?

১. আল্লাহর প্রতি ভয় ও ভরসা করা

আল্লাহর নির্দেশ পালনের সঙ্গে তাঁর নিষিদ্ধ কাজগুলো বর্জন করা। তাঁর ওপর পরিপূর্ণ আস্থা এবং ভরসা রাখা। রিজিক তালাশ করাসহ সব কাজে তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা। কারণ যে আল্লাহর ওপর অটল এবং অবিচল আস্থা ও ভরসা রাখে, তিনি তার সবকিছু ব্যবস্থা করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন। আর তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।’ (সুরা তালাক : আয়াত ২-৩)

২. ক্ষমা প্রার্থনা করা

তওবা-ইসতেগফার তথা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা দ্বারা গুনাহ মাফ হয়। যাবতীয় বিপদাপদ দূর হয়। সচ্ছলতা ও সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ হয় জীবন। আল্লাহ তাআলা নুহ আলাইহিস সালামকে এ মর্মে নির্দেশ দেন-

‘অতঃপর (আমি নুহকে) বলেছি, তোমরা তোমাদের পালন কর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর অজস্র (রিজিক উৎপাদনে) বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন, তোমাদের ধন–সম্পদ ও সন্তান–সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্য উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্য নদী–নালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ : আয়াত ১০–১২)

এ কারণেই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইসতেগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা করবে আল্লাহ তাআলা তাকে যাবতীয় বিপদাপদ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেবেন এবং তাকে অকল্পনীয় স্থান থেকে রিজিক দান করবেন।’ (আবু দাউদ ১৫১৮)

৩. সুরা ওয়াকেয়া পড়া

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সুরা ওয়াকেয়া তেলাওয়াত করবে সে কখনও অভাব-অনটনে পড়বে না। এ হাদিসের রাবি (বর্ণনাকারী) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর কন্যাদেরকে প্রতি রাতে এ সুরা তেলাওয়াত করার নির্দেশ দিতেন।’ (মিশকাত ২১৮১)

৪. সাদকা করা

আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা। আল্লাহর রাস্তায় কোনো কিছু দান করলে তা বিফলে যায় না, সে সম্পদ ফুরিয়ে যায় না। বরং তা বাড়তে থাকে। আল্লাহ বলেন-

‘বলুন, নিশ্চয়ই আমার রব তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিজিক প্রশস্ত করেন এবং সংকুচিত করেন। আর তোমরা যা কিছু আল্লাহর জন্য ব্যয় করো, তিনি তার বিনিময় দেবেন। তিনিই উত্তম রিজিকদাতা।’ (সুরা সাবা : আয়াত ৩৯)

৫. আত্মীয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা

আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রাখা মহান আল্লাহর নির্দেশ ও অন্যতম ইবাদত। এ ইবাদতে শুধু রিজিক বাড়ে এমন নয়, বরং হায়াতও বাড়ে বলে উল্লেখ করেছেন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হাদিসে পাকে এসেছে–

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শোনেছি। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার জীবিকা প্রশস্ত করতে চায় এবং আয়ু বাড়াতে চায় সে যেন অত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।’ (বুখারি ৫৯৮৫)

৬. আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া

নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা। আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলে নেয়ামত (জীবিকা/সচ্ছলতা) বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘আর যখন তোমাদের রব ঘোষণা দিলেন, ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও (নেয়ামত) বাড়িয়ে দেবো। আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয়ই আমার আজাব বড়ই কঠিন।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৭)

৭. বিয়ে করা

আল্লাহ তাআলা বান্দাকে বিয়ের মাধ্যমেও সচ্ছলতা দান করেন। কারণ সংসারে নতুন যে কেউ যুক্ত হয়, সে তার রিজিক নিয়েই আসে। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-

‘আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ ও সৎকর্মশীল দাস দাসীদের বিবাহ দাও। তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও মহাজ্ঞানী।’ (সুরা নুর : আয়াত ৩২)

মুমিন মুসলমানের উচিত, দুনিয়ার জীবনকে সচ্ছল করতে, অভাব-অনটনহীন থাকতে, আল্লাহর অনুগ্রহ ও উত্তম জীবিকা পেতে কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা মোতাবেক আমল করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত আমলগুলো যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। সচ্ছল ও অভাবমুক্ত জীবন পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

পাপকে তুচ্ছ মনে করার ভয়াবহতা
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : আল্লাহর বিধানের বিপরীত কাজই পাপ। এ পাপকে অবহেলা করা বা কোনো কিছু মনে না করা কিংবা সাধারণ বিষয় মনে করা গুনাহের কাজ। তাই পাপের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। অনেকেই আছেন, যারা পাপকে তুচ্ছ মনে করে। পাপ বা গুনাহকে তুচ্ছ মনে করা যাবে কি?

কেরামান কাতেবিন (সম্মানিত দুই লেখক) আমাদের কারো গুনাহ লেখার আগে আল্লাহ আমাদের তওবার ব্যাপারে অনেক সুযোগ দিয়েছেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই ভুলকারী মুসলিম বান্দার জন্য বামপাশের ফেরেশতা ছয় ঘন্টা পর্যন্ত কলম উঠিয়ে রাখে। বান্দা যদি অনুতপ্ত হয় এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় তাহলে তা মাফ করে দেওয়া হয়, নতুবা একটি গুনাহ লেখা হয়। (তাবারানি, বায়হাকি)

বর্তমান সময়ে মানুষ আল্লাহকে ভয় করে না, রাতদিন বিভিন্ন গুনাহ করে চলেছে। এদের কেউ কেউ আবার গুনাহ কিছুই মনে করে না। তাদের কাছে গুনাহ একেবারেই তুচ্ছ। কেউ কেউ ছোট গুনাহকে খুবই তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখে থাকে। যেমন বলে থাকে, একবার খারাপ কিছু দেখলে কিংবা কোন বেগানা নারীর সঙ্গে করমর্দন করলে ক্ষতি কী?

আবার অনেকেই আগ্রহ ভরে হারাম জিনিসের দিকে নজর দেয়। পত্র-পত্রিকায় বা টিভি সিরিয়াল বা সিনেমার দিকে; এমনকি এদের কেউ কেউ যখন জানতে পারে যে এটি হারাম, তখন খুবই রসিকতা করে প্রশ্ন করে, এতে কত গুনাহ রয়েছে? এটি কি কবিরা গুনাহ নাকি সগিরা গুনাহ? অথচ এ কথাগুলো কত মারাত্মক। যা তুলনাই করা যায় না। ইমাম বুখারি রাহমাতুল্লাহি আলাইহির এই হাদিস দুটি পড়ুন-

১. হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, ‘তোমরা এমন সব কাজ কর যা তোমাদের দৃষ্টিতে চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম। কিন্তু আমরা রাসুলুল্লাহর যুগে এগুলোকে মনে করতাম ধ্বংসকারী।’

২. হজরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, একজন মুমিন গুনাহকে এভাবে দেখে থাকে যে, সে যেন এক পাহাড়ের নিচে বসে আছে যা তার মাথার উপর ভেঙ্গে পড়বে। পক্ষান্তরে পাপী তার গুনাহকে দেখে যেন মাছি তার নাকের ডগায় বসেছে, তাকে এভাবে তাড়িয়ে দেয়।

গুনাহের বিষয়টি কত বিপজ্জনক, তা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ হাদিস থেকে প্রমাণিত। তাহলো-

‘তোমরা নগণ্য ছোট ছোট গুনাহ থেকে সাবধান হও! নগণ্য ছোট ছোট গুনাহগুলোর উদাহরণ হল ঐ লোকদের মতো যারা কোন মাঠে বা প্রান্তরে গিয়ে অবস্থান করল এবং তাদের প্রত্যেকেই কিছু কিছু করে লাকড়ি (জ্বালানি কাঠ) সংগ্রহ করে নিয়ে এলো। শেষ পর্যন্ত এতটা লাকড়ি তারা সংগ্রহ করলো যা দিয়ে তাদের খাবার পাকানো হল। নিশ্চয় নগণ্য ছোট ছোট গুনাহতে লিপ্ত থাকা ব্যক্তিদের যখন সেই নগণ্য ছোট ছোট গুনাহগুলো গ্রাস করবে (পাকড়াও করবে) তখন তাদেরকে ধ্বংস করে ফেলবে।’

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে যে, ‘তোমরা নগণ্য ছোট ছোট গুনাহ থেকে সাবধান হও; কেননা সেগুলো মানুষের কাঁধে জমা হতে থাকে এরপর তাকে ধ্বংস করে দেয়।’ (মুসনাদে আহমাদ, জামে)

এ কারণেই ইসলামিক স্কলারগণ বলেছেন, যখন সগিরা গুনাহর সঙ্গে লজ্জাশরম কমে যাবে, কোনো কিছুতে ভ্রূক্ষেপ করবে না, আল্লাহর ভয় থাকবে না এবং আল্লাহর ব্যাপারে ভক্তি হবে না তখন একে কবিরা গুনাহতে পরিণত করবে।

এজন্যই বলা হয়েছে যে, ক্রমাগত পাপ করলে তা আর সগিরা থাকে না এবং ক্ষমা প্রার্থনা করলে কবিরা থাকে না। অর্থাৎ ক্রমাগতভাবে সগিরা গুনাহ করতে থাকলে তা কবিরা গুনাহে পরিণত হয় এবং ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকলে কবিরা গুনাহ আর থাকে না তা মাফ হয়ে যায়।

পাপের রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি ও কঠিন পরিণতি। সে কারণে পাপ বা গুনাহের কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা জরুরি। আল্লাহ তাআলা ঈমানদারকে এভাবে সতর্ক করে পাপ থেকে বেঁচে থাকতে ঘোষণা করেন-

হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবাহ কর; বিশুদ্ধ তওবাহ। সম্ভবতঃ তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের মন্দ কর্মগুলোকে মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নদীমালা প্রবাহিত। সেই দিন আল্লাহ তাআলা নবি এবং তাঁর বিশ্বাসী বান্দাদেরকে অপদস্থ করবেন না। তাদের জ্যোতি তাদের সামনে ও ডানে আলোকিত হবে। তারা বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জ্যোতিকে পূর্ণতা দান কর। আর আমাদেরকে ক্ষমা কর। নিশ্চয়ই তুমি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ৮)

মনে রাখতে হবে

মানুষ গুনাহ করবেই। আর গুনাহের কারণেই বান্দা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। এমন একটি বর্ণনাও এসেছে হাদিসে। তাহলো-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যার হাতে আমার জীবন! যদি তুমি পাপ করতে না পারো তবে আল্লাহ তোমাকে অস্তিত্ব থেকে সরিয়ে নেবেন এবং তিনি এমন লোকদের দেবেন যারা পাপ করবে এবং আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা চাইবে এবং তিনি তাদের ক্ষমা করে দেবেন।’ (মুসলিম)

সে কারণে কেউ যদি পাপ বা গুনাহ করে তবে তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে। কোরআনের বর্ণনায় বিষয়টি এভাবে এসেছে-

‘হে আমাদের রব! তুমি আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা কর, আমাদের মন্দ কাজসমূহ গোপন কর এবং মৃত্যুর পর আমাদেরকে পুণ্যবানদের সাথে মিলিত কর।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৯৩)

অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা বান্দাকে আল্লাহর দয়া তথা রহমত থেকে নিরাশ হতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহর প্রতি গুনাহ থেকে মুক্তি পেতে প্রচন্ড আশাবাদী হতে বলেছেন এভাবে-

(হে রাসুল! আপনি) ঘোষণা করে দিন (আমার এ কথা), হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি (গুনাহ বা পাপ দ্বারা) জুলুম করেছ, তারা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ সব পাপ মাফ করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা যুমার : আয়াত ৫৩)

এ ঘোষণা মুমিন বান্দার জন্য, ইবাদতকারী বান্দার জন্য আশার বাণী। তাই বলে গুনাহের ব্যাপারে অবহেলা করা যাবে না। আল্লাহর কাছে ক্ষমা পেতে অনুনয়-বিনয়ের মাধ্যমে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। আল্লাহর স্মরণাপন্ন হতে হবে। বিশুদ্ধ তওবাহ করতে হবে।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, গুনাহ নিয়ে অবজ্ঞা কিংবা তুচ্ছ মনে করা কোনোভাবেই উচিত নয়। গুনাহের কাজ থেকে দূরে থাকা খুবই জরুরি। আল্লাহর কাছে ক্ষমা পেতে গুনাহমুক্ত জীবন গড়ে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত রাখার বিকল্প নেই।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে গুনাহ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তওবা করে নিজেদের শুধরিয়ে নেওয়ার তাওফিক দান করুন। গুনাহমুক্ত জীবন গঠনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

আজ পবিত্র ঈদ-ই- মিলাদুন্নবী (সা.)
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : আজ ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি,২৪ আশ্বিন ১৪২৯ বাংলা, ৯ অক্টোবর ২০২২ ঈসায়ী রোববার। রবিউল আউয়াল হলো ইসলামি বর্ষপঞ্জির তৃতীয় মাস। এটি অন্যান্য মাস থেকে বেশি গুরুত্ব বহন করে। ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মাসেই জন্মগ্রহণ করেছেন এবং এই মাসেই তিনি ইন্তেকাল করেন। এ কারণে মুসলমানদের কাছে এই মাসের গুরুত্ব অনেক বেশি।বালাগাল উলা বি কামালিহী, কাশাফাদ্দুজা বিজামালিহী, হাসুনাত জামিউ খিসালিহী,সাল্লু আ`লাইহি ওয়া আলিহী। সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছিলেন তিনি নিজ মহিমায় কাটিল তিমির রাত্রি তাঁর নূরের আভায়, চরিত্র মাধুর্য তাঁর মনোরম তাঁর উপরে ও বংশ পরে দরূদ ও সালাম।

নবীজি মুহাম্মাদ সাল্লুল্লাহ আলাইহিসসালাম জন্মগ্রহণের কারণে যেমন এই মাসের ফজিলত বেড়েছে, ঠিক তেমনি ফজিলত বেড়েছে সোমবার দিনেরও। রাসুলুল্লাহ সাল্লুল্লাহ আলাইহিসসালামঃ-
আল - কুরআনঃ--আমি আপনাকে গোটা মানব জাতির প্রতি সুসংবাদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি(সূরা সাবাঃ ২৮, আ`রাফঃ ১৮৮ আয়াত। আপনাকে প্রেরণ করছি বিশ্ব জগতের প্রতি রহমত হিসেবে(সূরা আম্বিয়াঃ ১০৭ আয়াত)। যাতে তোমরা আল্লাহর ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনো এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লুল্লাহ আলাইহিসসালামকে সাহায্য করো ও সম্মান করো( সুরা ফাত্হঃ ৯ আয়াত)। যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কে অমান্য করে তাঁদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের অগ্নি( সূরা জিনঃ ২৩ আয়াত)। আমি প্রত্যেক রাসুলকেই তাঁর স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি যাতে তিনি তাঁদের কাছে স্পষ্টভাবে (দ্বীনকে) উপস্থাপন করতে পারেন।( সূরা ইবরাহিমঃ৪ আয়াত)। নবিজী সাল্লুল্লাহ আলাইহিসসালাম এর মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ ( উসওয়াতুন হাসানা) ( সূরা আহযাবঃ ২১ আয়াত)। তুমি অবশ্যই মহান চরিত্রের উচ্চতম স্তরে অধিষ্ঠিত ( সূরা কলমঃ ৪ আয়াত)। হে মু`মিনগণ।তোমরাও নবীর জন্যে দরূদ পড় এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও( সূরা আহযাবঃ ৫৬আয়াত)। হাদিস শরীফে এসেছে,আবূ কাতাদা আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘সোমবারের রোজা সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি, আর এই দিনেই আমাকে রাসুল হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে (কিংবা তিনি বলেছেন) এই দিনেই আমার ওপর (প্রথম) ওহী নাজিল করা হয়েছে।’-(মুসলিম: ১১৬২, আবু দাউদ: ২৪২৬) এই মাসের আগমনে মুমিনদের অন্তরে নবীজি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা তাজা হয়। তাই রবিউল আওয়াল মাসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে বিভিন্ন আয়োজন। আল্লাহর বড় ধরনের কোনো নেয়ামতের স্মরণে আনন্দ প্রকাশ খারাপ জিনিস নয়। তবে এগুলো শরীয়তের গণ্ডির ভেতরে হওয়া আবশ্যক।
বর্তমানে একশ্রেণীর মানুষ এই মাসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রথা, রীতি-নীতি ও শরীয়ত পরিপন্থী কর্ম-কাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। দ্বীনের নামে বিদআতে লিপ্ত হচ্ছে। ইসলাম এসব কতটুকু সমর্থন করে সেদিকে তাদের বিন্দুমাত্রও ভ্রুক্ষেপ নেই। অথচ রবিউল আওয়াল মাসকে কেন্দ্র করে বর্তমানে যে আচার অনুষ্ঠান মেতে ওঠেন অনেকে ইসলামী শরীয়তে এসবের কোনো প্রমাণ নেই। এ সম্পর্কে নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রবিউল আওয়াল মাসের ফজিলত ও আমল রবিউল আউয়াল হলো ইসলামি বর্ষপঞ্জির তৃতীয় মাস। এটি অন্যান্য মাস থেকে বেশি গুরুত্ব বহন করে। ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মাসেই জন্মগ্রহণ করেছেন এবং এই মাসেই তিনি ইন্তেকাল করেন। এ কারণে মুসলমানদের কাছে এই মাসের গুরুত্ব অনেক বেশি। নবীজি জন্মগ্রহণের কারণে যেমন এই মাসের ফজিলত বেড়েছে, ঠিক তেমনি ফজিলত বেড়েছে সোমবার দিনেরও। হাদিস শরীফে এসেছে, আবূ কাতাদা আনসারি রা. থেকে বর্ণিত, ‘সোমবারের রোজা সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি, আর এই দিনেই আমাকে রাসুল হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে (কিংবা তিনি বলেছেন) এই দিনেই আমার ওপর (প্রথম) ওহী নাজিল করা হয়েছে।’-(মুসলিম: ১১৬২, আবু দাউদ: ২৪২৬) এই মাসের আগমনে মুমিনদের অন্তরে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা তাজা হয়। তাই রবিউল আওয়াল মাসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে বিভিন্ন আয়োজন। আল্লাহর বড় ধরনের কোনো নেয়ামতের স্মরণে আনন্দ প্রকাশ খারাপ জিনিস নয়। তবে এগুলো শরীয়তের গণ্ডির ভেতরে হওয়া আবশ্যক।
বর্তমানে একশ্রেণীর মানুষ এই মাসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রথা, রীতি-নীতি ও শরীয়ত পরিপন্থী কর্ম-কাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। দ্বীনের নামে বিদআতে লিপ্ত হচ্ছে। ইসলাম এসব কতটুকু সমর্থন করে সেদিকে তাদের বিন্দুমাত্রও ভ্রুক্ষেপ নেই। অথচ রবিউল আওয়াল মাসকে কেন্দ্র করে বর্তমানে যে আচার অনুষ্ঠান মেতে ওঠেন অনেকে ইসলামী শরীয়তে এসবের কোনো প্রমাণ নেই। এ সম্পর্কে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন‘আমাদের শরীয়তে নেই এমন বিষয় যারা আবিস্কার করে তারা আমাদের দলভুক্ত নয়।`-(বুখারী: ২৬৯৭) কোরআন হাদিসে এই মাসের জন্য আলাদা কোনো আমলের বর্ণনা পাওয়া যায় না। তাই নিজেদের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের আমলের বর্ণনা দেওয়া শরীয়তে বাড়াবাড়ি এবং হারাম কাজ। তবে নবীজির সিরাত আলোচনা করা একটি বড় ইবাদত। এমনকি এটি ঈমানের অংশও বটে। নবীজির জন্মের ঘটনার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হলো তার জীবনাদর্শের অনুসরণ। জন্মের বিষয়টি একান্তই তার ব্যক্তিগত। কিন্তু তার সিরাত বা জীবনাদর্শ সব যুগের, সব মানুষের জন্য। বিশ্ব মানবতার মুক্তির জন্য। আর নবীপ্রেমের প্রথম শর্ত হলো নবীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা। বাস্তব জীবনে এর প্রতিফলন না ঘটলে নবীপ্রেমের দাবি অর্থহীন।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম, শৈশব, নবী হিসেবে প্রেরণ, দাওয়াত, জিহাদ, ইবাদত, আখলাক-চরিত্র, নীতি-নৈতিকতা, তাকওয়া-তাহারত, দয়া-ভালোবাসা, রাগ-ক্রোধ, হাসি, উঠা-বসা, হাঁটা, ঘুম-জাগরণসহ যাবতীয় চালচলন ইত্যাদি মুসলিম উম্মাহর সামনে উপস্থাপন করা। এগুলো সামনে রেখে আলোচনা সভার অয়োজন করা, অবশ্যই ভালো এবং প্রশংসনীয় কাজ। রবিউল আওয়াল মাসে ইসলাম সমর্থন করে।

বিশ্ব নবী (সাঃ) এর জীবনদর্শন অহিংস দেশ গড়ার পথ দেখায়: রাহাত হুসাইন
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : ন্যাশনাল ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির (এনএফএস) সভাপতি রাহাত হুসাইন বলেছেন, ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) বা বিশ্ব নবী দিবস হচ্ছে প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) এর জন্ম ও ওফাত দিবস। বিশ্ব নবীর জীবনদর্শন আমাদের অহিংস দেশ ও সমাজ গড়ার শিক্ষা দেয়।

শনিবার (৮ অক্টোবর) সংগঠনের দফতর সম্পাদক মাহবুব আলম স্বাক্ষরিত গণমাধ্যম পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাহাত হুসাইন বলেন, বিশ্ব নবী (স.) দিবস উপলক্ষে দেশ-বিদেশের সকল মানুষকে প্রতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানাচ্ছি। পাশাপাশি তাৎপর্যময় কল্যাণকর এই দিবসে শান্তি, সম্প্রীতি ও অহিংস দেশ ও সমাজ গড়ার আহ্বান জানাচ্ছি। বাংলাদেশে সকল ধর্ম-বর্ণ ও গোত্রের মানুষে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান হোক নবী দিবসের অঙ্গিকার।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ৫৭০ খৃষ্টাব্দের এই পবিত্র দিনে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বিশ্ব শান্তি ও মুক্তির দূত হিসেবে বিশ্বনবীকে (সাঃ) দুনিয়ায় প্রেরণ করেছেন। পাপাচার, অত্যাচার, মিথ্যা, কুসংস্কার ও সংঘাত জর্জরিত পৃথিবীতে মহানবী (সাঃ) মানবতার মুক্তিদাতা ও ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। অন্ধকার যুগের সকল আঁধার দূর করে সত্যা ও ন্যায়ের আলো জ্বালিয়েছিলেন তিনি। অন্ধকারাচ্ছন্ন পৃথিবীতে আলোর দিশা দিয়েছিলেন হযরত মুহম্মদ (সাঃ)।

রাহাত হুসাইন বলেন, মহাবিশ্বের রহমত হিসেবে প্রেরিত বিশ্ব নবীর (সাঃ) এর শিক্ষা সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় এবং অনুকরণীয়। রাসুল (সাঃ) এর অনুপম চরিত্র আজীবন বিশ্ব শান্তির পথ দেখাবে। মহানবী (সাঃ) এর শিক্ষায় আমাদের জীবন আলোকিত হোক। মহানবীর (সাঃ) শিক্ষা অনুসরণে অশান্ত, দ্বন্দ-সংঘাতমুখর পৃথিবীতে শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত হোক।

জুমার প্রথম খুতবা : নবিজি (সা.) বিশ্ববাসীর জন্য রহমত
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : আজ শুক্রবার। জুমার দিন। ০৭ অক্টোবর ২০২২ ইংরেজি, ২২ আশ্বিন ১৪২৯ বাংলা, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি। রবিউল আউয়ালের দ্বিতীয় জুমা আজ। আগামী রোববার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি। আজকের জুমার আলোচ্য বিষয়- নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ্ববাসীর জন্য রহমত । এ প্রসঙ্গে ইসলামের দিকনির্দেশনা কী?

সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি একক, তার কোনো অংশীদার নেই। যিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক। যার পরে আর কোনো নবি নেই। আজ রবিউল আউয়াল মাসের দ্বিতীয় জুমা। আগামী রোববার পালিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি। এ মাসেই নবিজি রহমত নিয়ে দুনিয়ায় আগমন করেছেন। আল্লাহ তাআলা তার আগমন সম্পর্কে কোরআনুল কারিমে ঘোষণা করেছেন-

আর আমি তো আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ১০৭)

মানব, জিন, জীবজন্তু, উদ্ভিদ, জড় পদার্থসমূহ সবই এর অন্তর্ভুক্ত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবার জন্যেই রহমতস্বরূপ ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমন মানব জাতির জন্য আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমি তো আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রহমত।’ (তাবরানি, মুস্তাদরাকে হাকেম)

প্রিয় মুসল্লিগণ, যদি আখেরাতই সঠিক জীবন হয় তাহলে আখেরাতের আহবানকে প্রতিষ্ঠিত করতে কুফর ও শিরককে নিশ্চিহ্ন করার জন্যে কাফেরদের হীনবল করা এবং তাদের মোকাবেলায় জেহাদ করাও সাক্ষাত রহমত। এর ফলে আশা করা যায় যে, অবাধ্যদের জ্ঞান ফিরে আসবে এবং তারা ঈমান ও সৎকর্মের অনুসারী হয়ে যাবে। যারা রাসুলের উপর ঈমান আনবে ও তার কথায় বিশ্বাস করবে তারা অবশ্যই সৌভাগ্যবান হবে, আর যারা ঈমান আনবে না তারা দুনিয়াতে আগের উন্মতদের মত ভূমিধ্বস বা ডুবে মরা থেকে অন্তত নিরাপদ থাকবে। সুতরাং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বাবস্থায় রহমত। (কুরতুবি)


আয়াতের অর্থ হচ্ছে, আমরা আপনাকে সবার জন্যই রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি। কিন্তু এটা তাদের জন্যই যারা ঈমান আনবে এবং আপনাকে মেনে নিবে। কিন্তু যারা আপনার কথা মানবে না, তারা দুনিয়া ও আখেরাত সর্বত্রই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যেমন আল্লাহ অন্য আয়াতে বলেন-

আপনি কি তাদেরকে লক্ষ্য করেন না যারা আল্লাহর অনুগ্রহকে কুফরি দ্বারা পরিবর্তন করে নিয়েছে এবং তারা তাদের সম্প্রদায়কে নামিয়ে আনে ধবংসের ঘরে জাহান্নামে, যার মধ্যে তারা দগ্ধ হবে, আর কত নিকৃষ্ট এ আবাসস্থল!’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ২৮–২৯)

অন্য এক হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি মুশরিকদের উপর বদ-দোয়া করুন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

 

‘আমাকে অভিশাপকারী করে পাঠানো হয় নি, আমাকে রহমত হিসেবে পাঠানো হয়েছে।’ (মুসলিম ২৫৯৯)

অনুরূপ রাগান্বিত অবস্থায় কোনো মুসলিমকে তাঁর অভিশাপ বা গালিমন্দ করাকে কিয়ামতের দিন তার জন্য রহমতের কারণ হওয়ার দোয়া করাও তাঁর দয়ারই একটি অংশ। (মুসনাদে আহমাদ ২/৪৩৭, আবু দাউদ ৪৬৫৯)

এই কারণেই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি হাদিসে বলেছেন, ‘আমি রহমতের মূর্তপ্রতীক হয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশ্বজগতের জন্য একটি উপহার।’ (জামে ২৩৪৫)

সুতরাং যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রেসালতের উপর ঈমান আনবে সে আসলে উক্ত করুণা ও রহমতকে গ্রহণ করবে। পরিণামে দুনিয়া ও আখিরাতে সে সুখ ও শান্তি লাভ করবে। আর যেহেতু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রেসালাত বিশ্বজগতের জন্য, সেহেতু তিনি বিশ্বজগতের জন্য রহমত রূপে; অর্থাৎ নিজের শিক্ষা দ্বারা বিশ্ববাসীকে ইহ-পরকালের সুখের সন্ধান দিতে প্রেরিত হয়েছিলেন।

অনেক ওলামায়ে কেরাম নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই অর্থেও বিশ্বজগতের জন্য করুণা বলেছেন যে, তাঁর কারণেই এই উম্মত (তাঁর দাওয়াত গ্রহণ অথবা বর্জনকারী মুসলিম অথবা কাফের সকলেই) নির্মূলকারী ব্যাপক ধ্বংসের হাত থেকে রেহাই পেয়েছে। যেভাবে আগের বহু জাতিকে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে, উম্মাতে মুহাম্মাদিয়াকে সে রকম আজাব দিয়ে ধ্বংস করে নির্মূল করা হয়নি।

প্রিয় মুসল্লিগণ, রাহমাতুল্লিল আলামিন রাসুলুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মোৎসবের মাস তথা ঈদে মিলাদুন্নবি। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে ফিরে যাওয়ার মাস। প্রতি বছর এ মাসে মুসলিম উম্মাহ ক্ষণিকের জন্য হলেও ফিরে যায় প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্মৃতিবিজড়িত দিনগুলোয়। কারণ মাসটি যে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর মাস। বিশ্বনবির শুভাগমন উপলক্ষ্যে বিশ্বমানবতার আনন্দ-উৎসবের মাস।

১৪৪৪ হিজরির ১২ রবিউল আউয়াল হচ্ছে ০৯ অক্টোবর (রোববার)। দিনটি যথাযথযোগ্য মর্যাদায় দেশব্যাপী উদযাপন করা হবে। কেউ কেউ মাসব্যাপী প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম, বেড়ে ওঠা, নবুয়ত, হিজরত, রাষ্ট্রগঠন, ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন, রাজনৈতিক জীবন, আন্তর্জাতিক জীবন, সমাজ সংস্কারসহ জন্ম থেকে ইন্তেকাল পর্যন্ত জীবনের বিভিন্ন দিক ও বিষয় নিয়ে সীরাতুন্নবি ও উসওয়াতুন্নবী শিরোনামে অনুষ্ঠান উদযাপন করবেন। এছাড়া কেউ কেউ মাজিউন্নবী আবার কেউ কেউ ৩/৪ মাসব্যাপী ঈদে মিলাদুন্নবী শীর্ষক আলোচনা সভাও অব্যাহ রাখে। যা রবিউল আউয়াল মাসেই উদযাপন শুরু হয়।

দেড় হাজার বছর আগে হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র নগরী মক্কার বিখ্যাত বনু হাশিম বংশে রবিউল আউয়াল মাসের দ্বিতীয় সোমবার (ফীলের বছর) দিনের রাতের মহাসন্ধিক্ষণ ‘সুবহে সাদেক’-এ শুভ জন্মগ্রহণ করেন। আবার একই দিনে তিনি ইন্তেকাল করলেও মুসলিম উম্মাহর কাছে এ দিনটি ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পরিচিত।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুভ জন্মের দিন ও বছর নিয়ে হাদিসে পাকে আছে সুস্পষ্ট বক্তব্য। তিনি ইংরেজি পঞ্জিকার হিসেব মতে, ৫৭১ খ্রিস্টাব্দের ২০ অথবা ২২ এপ্রিল জন্ম গ্রহণ করেন।

প্রিয় মুসল্লিগণ! নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বার ও জন্ম বৎসর নিয়ে হাদিসে সুস্পষ্ট বক্তব্য থাকলেও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুনির্দিষ্ট জন্ম তারিখ সম্পর্কে হাদিসে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। এ কারণে পরবর্তী যুগের আলেম এবং ঐতিহাসিকগণ এ সম্পর্কে মতভেদ করেছেন।

প্রিয় নবির জন্ম সম্পর্কে মা আমিনার কথা

হজরত ইবনে সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যখন তাঁর জন্ম হয়েছিল তখন আমার শরীর থেকে এক জ্যোতি বের হয়েছিল; যাতে শামদেশের অট্টালিকাসমূহ আলোকিত হয়েছিল। ইমাম আহমাদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ইরবায বিন সারিয়া কর্তৃক অনুরূপ একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। (মুখতাসারুস সিরাহ)

জগৎ আলো করে প্রিয় নবির শুভাগমনে কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনাও ঘটেছিল। যা ছিল নবুওয়তের পূর্বাভাস। তা ছিল-

> তাঁর শুভ জন্মের মুহূর্তে কিসরার প্রাসাদের চৌদ্দটি সৌধচূড়া ভেঙ্গে পড়ে;

> প্রাচীন পারসিক ধর্ম যাজকমন্ডলীর উপাসনাগারগুলোতে যুগ যুগ ধরে প্রজ্জ্বলিত হয়ে আসা অগ্নিকুণ্ডগুলো নিভে যায়;

> বাহিরা পাদ্রীদের সরগম গীর্জাগুলো নিস্তেজ ও নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে। ইমাম বায়হাকি, তাবারি ও অন্যান্যরা তা উল্লেখ করেন।

আলেম-ওলামা এবং ঐতিহাসিকদের মতে ঈদে মিলাদুন্নবী

বিশ্ববিখ্যাত সীরাত গ্রন্থসমূহের মধ্যে ‘আত-তানবির ফি মাওলিদিল বাশির আন নাযির’; ইবনে সাদ : আত-তাবাকাতুল কুবরা; ইবনে কাসির : আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া; ইবনে ইসহাক : সীরাতে ইবনে হিশাম; কাস্তালানিসহ ঐতিহাসিক সীরাত গ্রন্থের তথ্য ও বিবৃতি থেকে যা জানা যায়; তাহলো-

১. দ্বিতীয় হিজরির ঐতিহাসিক মুহাদ্দিস আবু মাশার নাজিহ এর মতে, তিনি রবিউল আউয়াল মাসের ২ তারিখ (প্রথম সোমবার) পৃথিবীতে শুভাগমন করেন।

২. হজরত ইবনে আব্বাস এবং যুবাইর ইবনে মুতইম রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সাহাবাদ্বয় বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রবিউল আউয়াল মাসের ৮ তারিখ জন্মগ্রহণ করেন। মুহাম্মদ ইবনে যুবাইর ইবনে মুতইম, আল্লামা কাস্তালানি ও যারকানির বর্ণনার এ মতটি অধিকাংশ মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিকগণ এ মত গ্রহণ করেছেন। মিলাদের ওপর প্রথম গ্রন্থ রচনাকারী আল্লামা আবুল খাত্তাব ইবনে দেহিয়া (৬৩৩হি.) তার রচিত ‘আত-তানবির ফি মাওলিদিল বাশির আন নাজির’ গ্রন্থেও এ মতটিকে গ্রহণ করেছেন।

৩. তারিখে খুযরি ও রাহমাতুল্লিল আলামীন গ্রন্থদ্বয়ে ৯ রবিউল আউয়াল (ফিলের বছর) সোমবার দিন-রাতের মহাসন্ধিক্ষণে সুবহে সাদেকের সময় জন্মগ্রহণ করেন।

৪. হজরত ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর পৌত্র মুহাম্মদ ইবনে আলি আল বাকের (১১৪হি.) ও মুহাদ্দিস আমির ইবনে শারাহিল আশ-শাবি (১০৪হি.) বর্ণনায় তিনি ১০ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেন।

৫. হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দির প্রখ্যাত ঐতিহাসিক মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক-এর (১৫১হি.) বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ শুভাগমন করেন।

উল্লেখ্য, ইবনে ইসহাক রচিত সীরাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের সব বিষয়গুলো সাধারণত সনদসহ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ তথ্যটির কোনো সনদ তিনি উল্লেখ করেননি।

৬. হিজরি ৩য় শতকের ঐতিহাসিক যুবাইর ইবনে বাক্কার (২৫৬হি.)-এর মতে, তিনি রমজান মাসে জন্ম গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, যেহেতু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৪০ বৎসর বয়সে রমজান মাসে নবুয়্যতপ্রাপ্ত হন, সেহেতু তিনি অবশ্যই রমজান মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন।

৭. কারো কারো মতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মহররম, সফর, রবিউস সানি, রজব মাসে জন্ম গ্রহণ করেছেন মর্মে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন।

প্রিয় মুসল্লিগণ, উপমহাদেশের সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমান রবিউল আউয়াল মাস এবং ১২ তারিখকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মমাস ও দিন হিসেবে জানে এবং সর্বাধিক সনদে রচিত রাসুলের জীবনীগ্রন্থ প্রণেতা ইবনে ইসহাক রবিউল আউয়াল মাস এবং ১২ তারিখকে ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন, সে হিসেবে এ উপমহাদেশের অধিকাংশ মুমিন মুসলমান ১২ রবিউল আউয়ালকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম তারিখ হিসেবে বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, র‌্যালী ও দোয়া-মাহফিল উদযাপন করে থাকেন।

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম তারিখ ও মাস নিয়ে মতভেদ থাকলেও তিনি সোমবার সুবহে সাদেকে জন্ম গ্রহণ করেছেন এটি চিরন্তন সত্য। এ ব্যাপারে কারো কোনো দ্বিমত নেই। তবে অধিকাংশ ঐতিহাসিক ও বিশ্লেষকদের মতে তিনি রবিউল আউয়াল মাসে জন্ম গ্রহণ করেছেন মর্মে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

সুতরাং রবিউল আউয়াল মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য এক মহান মাস। এ মাসের একটি দিন প্রিয় নবির জন্ম উৎসবে আনন্দ নয় বরং মাস ও বছরজুড়ে প্রিয় নবির আদর্শে নিজেদের রঙিন করে সুন্নাতের আলোকে জীবন পরিচালনার উৎস হোক পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী।

ঈদে মিলাদুন্নবীর মাস, তারিখ নিয়ে যতই মতভেদ থাকুক না কেন; প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুভাগমন থেকে ইন্তেকাল পর্যন্ত পুরো জীবন হোক মুসলিম উম্মাহর জন্য আদর্শ।

আল্লাহ তাআলা বিশ্ব মানবতার সব ধর্ম বর্ণ গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবার জন্য প্রিয় নবির আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর পুরোপুরি অনুসরণ, অনুকরণ এবং তা নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অটুট বন্ধ বজায় রাখার তাওফিক দান করুন। প্রতিটি মানুষের হৃদয়কে রহমত দিয়ে ঢেকে দিন। আমিন।

আত্মশুদ্ধি অর্জনের গুরুত্ব
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : নফসের পরিশুদ্ধি দ্বীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নফসের পরিশুদ্ধি ছাড়া মানুষের ঈমান ও ইসলাম কখনো বিশুদ্ধ ও পরিপূর্ণ হয় না। মানুষের বাহ্যিক ও আত্মিক দুইটি দিক আছে। ইসলাম যেমন মানুষের বাহ্যিক তথা বাহিরের দিককে সুন্দর ও পরিপাটি করতে চায় তেমনি আভ্যন্তরীণ বা আত্মিক দিককেও করতে চায় সুন্দর ও সম্পূর্ণ কুলুষমুক্ত। মানুষের আভ্যন্তরীণ তথা আত্মিক দিকের পরিশুদ্ধিকেই কোরআনের ভাষায় বলা হয় তাযকিয়াতুন নফস।

নফসের পরিশুদ্ধি কত বেশি প্রয়োজন তা এটাক উদাহরণের মাধ্যমে আমরা বোঝার চেষ্টা করতে পারি। যেমন- যদি কেউ বাহ্যিকভাবে প্রচলিত নিয়মে নামাজ রোজা হজ জাকাত পালন করে থাকে কিন্তু তার নফস পবিত্র ও পরিশুদ্ধ না হয়; তবে তার সে আমল হবে ওই ফুলের মতো, যার রং সুন্দর এবং দেখতে আকর্ষণীয় কিন্তু তার কোনো সুঘ্রাণ নেই। এগুলো হয়ে যাবে নিষ্প্রাণ ইবাদত।

ইসলামের আলোকে যদি কোনো ব্যক্তিকে পরিমাপ করতে হয় তবে দেখতে হবে তার নফস কতখানি পুতঃপবিত্র এবং কুলুষমুক্ত। কেননা মহান আল্লাহ বান্দার অন্তরকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন, তার বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানকে নয়।

মনে রাখতে হবে, একজন মানুষ তার নফসকে পবিত্রকরণ ও মনের কুলুষ দূরীকরনের মাধ্যমে নিজের আবেগ অনুভূতিকে আল্লাহ তাআলার সুন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এমনভাবে নিয়োজিত করতে পারে যে, দ্বীনের বাহ্যিক ইবাদত-বন্দেগি তার আগে ও নফসের দাবিতে রূপায়িত হয়ে যাবে। কাজেই নফস পরিশুদ্ধ করা এবং এ উদ্দেশ্যে তার ওপর সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণ ও শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা দ্বীনের একটি অতি অপরিহার্য কর্তব্য এবং সবচেয়ে বড় জিহাদ।

দেহের যেমন রয়েছে দুটি অবস্থা সুস্থতা ও অসুস্থতা। ঠিক তেমনি আত্মারও রয়েছে সুস্থতা ও অসুস্থতা। দেহ অসুস্থ হলে যেমন চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে সুস্থ করে তুলতে হয়, তেমনি আত্মা রোগাক্রান্ত হলেও তাকে সুস্থ বা পরিশুদ্ধ করে তুলতে হয়। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘আর শপথ নাফসের এবং তাঁর, যিনি তাকে সুঠাম করেছেন। এরপর তাকে অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন। অবশ্যই সেই সফলকাম হবে যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করবে। আর অবশ্যই সেই ব্যর্থ মনোরথ হবে যে নিজকে কলুষিত করবে।’ (সুরা আশ-শামস : আয়াত ৭-১০)

এ আয়াত থেকে বুঝা যায়, আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার জন্য প্রথমে জ্ঞানের প্রয়োজন আর মানুষকে দুই রকম জ্ঞান দেয়া হয়েছে। এক. অসৎকর্মের জ্ঞান, দুই. সৎকর্মের জ্ঞান। আয়াতের আলোকে পরিশুদ্ধির বিষয়টি দুইভাবে চিন্তা করা যায়-
১. মন্দদিক : যা আখলাকে সায়্যিয়াহ বা মন্দ চরিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য যাবতীয় পাপ, অন্যায় ও অপবিত্র কাজ থেকে মুক্ত হওয়া অর্থাৎ যাবতীয় অসৎ গুণাবলী বর্জন করা। যেমন- শিরক, রিয়া, অহংকার, আত্মকেন্দ্রিকতা, স্বার্থপরতা, হিংসা, ঘৃণা, কৃপণতা, ক্রোধ, গিবত, পরনিন্দা, চোগলখুরি, কুধারণা, দুনিয়ার প্রতি মোহ, আখেরাতের উপর দুনিয়াকে প্রাধান্য দেওয়া, জীবনের প্রতি অসচেতনতা, অর্থহীন কাজ করা, অনধিকার চর্চা প্রভৃতি হতে নিজেকে এবং দেহ ও আত্মাকে মুক্ত রাখা। আত্মা মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রুতে পরিণত হয় যখন সে তাকে পাপাচার ও সীমালংঘনের দিকে আহবান করে। কেননা এই অপরিশুদ্ধ, পাপাচারী, ব্যাধিগ্রস্ত অন্তর মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। মহান আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা আলাইহিস সালামকে এই মর্মে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে-

‘তুমি ফেরাউনের কাছে যাও, নিশ্চয় সে সীমালংঘন করেছে’। এরপর তাকে বল ‘তোমার কি ইচ্ছা আছে যে, তুমি পবিত্র হবে? ‘আর আমি তোমাকে তোমার রবের দিকে পথ দেখাব, যাতে তুমি তাঁকে ভয় কর?’ (সুরা আন নাযিআত : আয়াত ১৭-১৯)

২. ভালোদিক : যা আখলাকে হাসানা বা সচ্চরিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। উত্তম গুণাবলী দ্বারা আত্মার উন্নতি সাধন করা। প্রশংসনীয় গুণাবলী অর্জনের মাধ্যমে পরিত্যাগকৃত অসৎ গুণাবলীর শূন্যস্থান পূরণ করা। সৎ গুণাবলী হল তাওহিদ, ইখলাছ, ধৈর্যশীলতা, তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা, তওবা, শুকর বা কৃতজ্ঞতা, আল্লাহভীতি, আশাবাদিতা, লজ্জাশীলতা, বিনয়-নম্রতা, মানুষের সাথে উত্তম আচরণ প্রদর্শন, পরস্পরকে শ্রদ্ধা-সম্মান ও স্নেহ, মানুষের প্রতি দয়া, ভালবাসা ও সহানুভূতি প্রদর্শন, ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ, পরোপকার প্রভৃতির মাধ্যমে সর্বোত্তম চরিত্র অর্জন করা। হাদিসে পাকে এসেছে-
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহ আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলা হলো-

কোন ব্যক্তি সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ‘প্রত্যেক বিশুদ্ধ অন্তরের অধিকারী সত্যভাষী ব্যক্তি। তারা বলেন, সত্যভাষীকে তো আমরা চিনি, কিন্তু বিশুদ্ধ অন্তরের ব্যক্তি কে? তিনি বলেনঃ সে হলো পূত-পবিত্র, নিষ্কলুষ চরিত্রের মানুষ, যার নাই কোন পাপাচার এবং নাই কোন দুশমনি, হিংসা-বিদ্বেষ, আত্মহমিকা ও কপটতা। (ইবনে মাজাহ)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য দোয়া করতেন। হাদিসে পাকে এসেছে-
হজরত যায়িদ ইবনু আরকাম রাদিয়াল্লাহ আনহু বর্ণনা করেন, আমি কি তোমাদের কাছে তেমনই বলবো যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন-

‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই, অক্ষমতা, অলসতা, কাপূরষতা, কৃপণতা, বার্ধক্য এবং কবরের আজাব থেকে। হে আল্লাহ! তুমি আমার নফসে (অন্তরে) তাকওয়া দান কর এবং একে পরিশুদ্ধ করে দাও। তুমি সর্বোত্তম পরিশোধনকারী, মালিক ও আশ্রয়স্থল। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই অনুপোকারী ইলম থেকে ও ভয় ভীতিহীন কলব থেকে; অতৃপ্ত নফসের অনিষ্ট থেকে ও এমন দোয়া থেকে যা কবুল হয় না।’ (মুসলিম)

অন্তর যদি পবিত্র ও পরিশুদ্ধ হয়, তাহলে মানবদেহের বহ্যিক কার্যক্রমও পরিচ্ছন্ন, নির্মল ও কল্যাণকর হয়। আর যদি অন্তর অপবিত্র ও কলুষিত থাকে, তাহলে মানুষের বহ্যিক আচার-আচরণসহ তার সব কার্যাবলী অপরিচ্ছন্নতা ও অকল্যাণের কালো ছায়া পাওয়া যায়। নাফসের পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমে একজন ব্যক্তির ঈমান, আমল ও আখলাক পরিশুদ্ধ হয়। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-

‘নিশ্চয়ই সে সাফল্য লাভ করবে যে নিজেকে পরিশুদ্ধি করবে, আর তার রবের নাম স্মরণ করবে, এরপর নামাজ আদায় করবে। বরং তোমরা দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দাও। অথচ পরকালের জীবন সর্বোত্তম ও স্থায়ী।’ (সুরা আল-আলা : আয়াত ১৪-১৭)

নিজেকে পরিশুদ্ধির তিনটি দিক এ আয়াতে ওঠে এসেছে, তাহলো- এক. আল্লাহকে অধিক স্মরণ (জিকির) করা; দুই. নামাজ আদায় করা; তিন. পরকালকে প্রাধান্য দেওয়া এবং দুনিয়ার জীবনকে তুচ্ছ মনে করা। অন্য আয়াতে জানা যায়, দেহ ও আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য প্রথমে মুমিন হতে হবে। বিষয়টি মহান আল্লাহ এভাবে ঘোষণা করেন-

‘আর যারা তাঁর কাছে আসবে মুমিন অবস্থায়, অবশ্যই সৎকর্ম করে তাদের জন্যই রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদা। স্থায়ী জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, তারা সেখানে স্থায়ী হবে আর এটা হল তাদের পুরষ্কার যারা পরিশুদ্ধ হয়।’ (সুরা ত্বহা : আয়াত ৭৫-৭৬)

এ আয়াতেও মহান আল্লাহ ব্যক্তিকে পরিশুদ্ধ হওয়ার জন্য প্রথমেই আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ ঈমান আনার কথা বলেছেন, তারপর অবশ্যই সৎকর্ম করতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন, তবেই তাদের জন্য উচ্চ মর্যাদা, স্থায়ী জান্নাত সুনিশ্চিত।

আয়াতের আলোকে আরও বোঝা যায়, ঈমান বিষয়টি অন্তরের সাথে সম্পর্কিত। আর মানবদেহ পরিচালিত হয় তার কলব বা অন্তরের মাধ্যমে। এ কারণেই হাদিসে পাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন-

‘জেনে রাখো! দেহের মধ্যে এক টুকরা গোশত আছে। যখন তা সুস্থ থাকে তখন পুরো শরীরই সুস্থ থাকে। আর যখন তা নষ্ট হয়ে যায় তখন পুরো শরীরই নষ্ট হয়ে যায়। স্মরণ রেখো! তাহলো কালব বা অন্তর।’

আল্লাহ তাআলা সবাইকে এ অন্তর পরিশুদ্ধির তাওফিক দান করুন। দুনিয়া ও পরকালের সফলতা অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী কবে জানা যাবে সন্ধ্যায়
                                  

অনলাইন ডেস্ক : পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) তারিখ জানা যাবে আজ (সোমবার) সন্ধ্যায়। রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখতে আজ সভায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ১৪৪৪ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা ও ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) তারিখ নির্ধারণে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় (বাদ মাগরিব) ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এ সময় সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ ও ০২-৪১০৫০৯১৭ টেলিফোন ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ ও ০২-৯৫৫৫৯৫১ ফ্যাক্স নম্বরে বা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

ঈদে মিলাদুন্নবীর তারিখ জানা যাবে সোমবার
                                  

অনলাইন ডেস্ক : ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) তারিখ জানা যাবে সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর)। পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখতে ওইদিন সন্ধ্যায় সভায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ১৪৪৪ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা ও ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) তারিখ নির্ধারণে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় (বাদ মাগরিব) ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ ও ০২-৪১০৫০৯১৭ টেলিফোন ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ ও ০২-৯৫৫৫৯৫১ ফ্যাক্স নম্বরে বা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

দেশবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন হাফেজ তাকরিম
                                  

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশের হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিম মাত্র ১৩ বছর বয়সে বিশ্ব দরবার থেকে দেশের জন্য তিনটি বড় অর্জন নিয়ে এসেছেন। এরমধ্যে পবিত্র মক্কায় ৪২তম বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয়, লিবিয়ায় অনুষ্ঠিত ১০ম আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় সপ্তম এবং তেহরানে অনুষ্ঠিত ৩৮তম আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে।

চলতি বছরে বিশ্ব থেকে কুড়িয়ে আনা বড় এই তিনটি সাফল্যের কারণে দেশব্যাপী নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন তাকরিম। অভিবাদন জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও ইসলামিক স্কলাররা।

ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম পুরস্কার হাতে তাকরিমের একটি ছবি পোস্ট করে ইংরেজিতে ক্যাপশন লিখেছেন। যার অর্থ : ‘মাশাআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ। তোমাকে নিয়ে গর্বিত ছোট ভাই। দয়া করে আমাদের জন্য দোয়া করো।’

সাবেক ক্রিকেটার আব্দুর রাজ্জাক রাজ লিখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ। মহান অর্জন। আল্লাহ তোমাকে একজন সঠিক মুসলমান হিসেবে কবুল করুক।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তাকরিমকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইসলামি আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারি। তিনি লেখেন, সাবাস তাকরিম! দোয়া ও অভিনন্দন তোমায়। ওর তেলাওয়াতে একটা বিশেষ আবেদন আছে। রীতিমতো মন ছুঁয়ে যায়। আমার ভালো লাগে খুব। সাফল্যের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক। তাকরিমরা বেশি বেশি জন্ম নিক এ ভূখণ্ডে। ছড়িয়ে দিক কোরআনের সুধা বিশ্বময়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এবং লন্ডন প্রবাসী বিশিষ্ট স্কলার ড. মাহমুদুল হাসান লিখেছেন, কিশোর সালেহ তাকরিমের লাজুক বিজয়ী ও বিনয়ী হাসি অন্তরে যেমন ভালোলাগা-বোধ সৃষ্টি করে, তেমনি তার সুমিষ্ট তেলাওয়াত মন স্পর্শ করে; পবিত্রতা-বোধ তৈরি করে। শুধু দোয়া করি, তাকরিমদের চারকিকে যেন তৈরি হয় প্রজ্ঞাপূর্ণ অভিভাবকত্বের দুর্ভেদ্য দুর্গ— যাতে খ্যাতি ও সম্পদের আগ্রাসী হাতছানিতে হারিয়ে না যায় তাদের বিজয় ও অর্জন। হুজুগের দমকা হাওয়ায় চারাগুলো যেন অঙ্কুরে বিনষ্ট হয়ে না যায়। তাদের বিনয় যেন দম্ভে রূপ না নেয়। আল্লাহর কাছে তাদের সুরক্ষা কামনা করছি।

তাকরিমের এই অর্জনে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় লেখক আনিসুল হক। শুক্রবার সকালে পাঠকপ্রিয় উপন্যাস ‘মা’-এর রচয়িতা নিজের ফেসবুক পেজে তাকরিমকে নিয়ে প্রকাশিত প্রথম আলোর একটি নিউজের ছবি পোস্ট করেন। ক্যাপশনে লেখেন, অভিনন্দন, সালেহ আহমাদ তাকরিম।

এ ছাড়াও ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে হাফেজ তাকরিমকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি লিখেন, তাকে ও তার শিক্ষক-অভিভাবকদের অভিনন্দন। মহান আল্লাহ তার কল্যান দান করুন। তার সম্মানিত শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ, তাকে খুব বেশি পাবলিক প্রোগ্রামে উপস্থাপন করে তার সামনে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলে দেবেন না। এবার তাকে নিবিড়ভাবে ভালো আলেম ও উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ দিন। আমাদের নিজেদের সামান্য স্বার্থে ব্যবহার কিংবা অতি মাতামাতির কারণে এ ধরনের সম্ভাবনাময় ছেলেরা হারিয়ে যায়।

এভাবে আরও অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানাভাবে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তাকরিমকে।

যাদের নেক আমল ধূলিকনায় পরিণত হবে
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : নেক আমল। মানুষের জন্য অনেক মূল্যবান। মহান আল্লাহ মানুষের প্রতিটি ভালো কাজের জন্যই নেক দান করেন। অথচ গোপনে কিছু অপরাধের (হারাম কাজ করার) কারণে মানুষের মূল্যবান অর্জিত পাহাড়সম নেক আমলও ধূলিকনায় পরিণত হবে। যে কারণে পাহাড়সম নেক আমলও ধূলিকণায় পরিণত হবে সে সম্পর্কে হাদিসে পাকে কী বলেছেন নবিজি?

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন সাহাবিদের সঙ্গে কেয়ামতের ভয়াবহতা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছিলেন। এমন সময় আলোচনা প্রসঙ্গে নিজ নিজ পাপের স্মরণে সতর্কতামূলক হাদিসটির বর্ণনা এভাবে তুলে ধরেন-

হজরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আমি আমার উম্মাতের কিছু দল সম্পর্কে অবশ্যই জানি; যারা কেয়ামতের দিন তিহামার শুভ্র পর্বতমালার সমতুল্য নেক আমলসহ উপস্থিত হবে। মহামহিম আল্লাহ সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করে দেবেন। হজরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! তাদের পরিচয় পরিষ্কারভাবে আমাদের কাছে বর্ণনা করুন, যাতে অজ্ঞাতসারে (মনের অজান্তে) আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত না হই। তিনি (নবিজি) বললেন, তারা তোমাদেরই ভাই এবং তোমাদের সম্প্রদায়ভুক্ত। তারা রাতের বেলা তোমাদের মতোই ইবাদত করবে। কিন্তু তারা এমন লোক যে, একান্ত গোপনে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ে (হারাম কাজে) লিপ্ত হবে।’ (ইবনে মাজাহ)

সুতরাং সাবধান! রাত জেগে ইবাদত করে একান্ত গোপনে আল্লাহর হারামকৃত কথা ও কাজে জড়িয়ে নিজেদের পাহাড়সম নেক ধ্বংস করা থেকে বিরত থাকি। বাস্তব জীবনে হালাল-হারাম মেনে জীবন গড়ি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

কুরআন প্রতিযোগিতায় ১১১ দেশের মধ্যে ৩য় বাংলাদেশের তাকরিম
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশি হাফেজ সালেহ আহমাদ তাকরিম।

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কার হারাম শরিফে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১১১ দেশের ১৫৩ জন হাফেজ অংশ নেয়। তাদের মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করে সালেহ আহমাদ তাকরিম।


সৌদির স্থানীয় সময় বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে পবিত্র মক্কায় হারাম শরিফে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

তৃতীয় স্থান অর্জন করায় হাফেজ তাকরিমের হাতে এক লাখ রিয়াল পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ টাকা। এছাড়া সনদ ও সম্মাননা ক্রেস্টও দেওয়া হয় তাকে।

‘৪২তম বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা’ শীর্ষক এ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মক্কার গভর্নর খালেদ আল ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া সৌদির ইসলাম ও দাওয়াহবিষয়ক মন্ত্রী ড. আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজ আল শেখসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।

সালেহ আহমাদ তাকরিম টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার ভাদ্রা গ্রামের হাফেজ আব্দুর রহমানের ছেলে। সে ঢাকার ‘মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামি’র হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। গত ৯ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবে যায় তাকরিম।

এর আগে গত মে মাসে আন্তর্জাতিক কিরাত সংস্থা বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে তাকরিম। ২০২০ সালের পবিত্র রমজান মাসে বেসরকারি টেলিভিশন বাংলাভিশন আয়োজিত হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয় সালেহ আহমাদ তাকরিম।

এছাড়া লিবিয়ায় অনুষ্ঠিত দশম আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায়ও বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেয় সালেহ আহমাদ তাকরিম। ওই প্রতিযোগিতায় সপ্তম স্থান অর্জনের পাশাপাশি সর্বকনিষ্ঠ প্রতিযোগী হিসেবে বিশেষ সম্মাননাও অর্জন বাংলাদেশি এ হাফেজের।


   Page 1 of 15
     ইসলাম
মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার পরিণাম কী?
.............................................................................................
জুমার প্রথম খুতবা : জুমার দিন উম্মতের জন্য বিশেষ উপহার
.............................................................................................
ক্ষমা প্রার্থনায় যে দোয়া পড়তে ভালোবাসতেন নবিজি (সা.)
.............................................................................................
আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সুসম্পর্ক হবে ৬ আমলে
.............................................................................................
আসমান-জমিনের মধ্যবর্তী স্থান সওয়াবে পূর্ণ হয় যে আমলে
.............................................................................................
সচ্ছলতার জন্য যেসব আমল করবেন
.............................................................................................
পাপকে তুচ্ছ মনে করার ভয়াবহতা
.............................................................................................
আজ পবিত্র ঈদ-ই- মিলাদুন্নবী (সা.)
.............................................................................................
বিশ্ব নবী (সাঃ) এর জীবনদর্শন অহিংস দেশ গড়ার পথ দেখায়: রাহাত হুসাইন
.............................................................................................
জুমার প্রথম খুতবা : নবিজি (সা.) বিশ্ববাসীর জন্য রহমত
.............................................................................................
আত্মশুদ্ধি অর্জনের গুরুত্ব
.............................................................................................
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী কবে জানা যাবে সন্ধ্যায়
.............................................................................................
ঈদে মিলাদুন্নবীর তারিখ জানা যাবে সোমবার
.............................................................................................
দেশবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন হাফেজ তাকরিম
.............................................................................................
যাদের নেক আমল ধূলিকনায় পরিণত হবে
.............................................................................................
কুরআন প্রতিযোগিতায় ১১১ দেশের মধ্যে ৩য় বাংলাদেশের তাকরিম
.............................................................................................
আজ পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা
.............................................................................................
মন জয় করার ১১ টি সহজ উপায়
.............................................................................................
শুধু উপদেশ নয়, আমলও করতে হবে
.............................................................................................
হজরত আবু বকর (রা.) যে দোয়াটি পড়তেন
.............................................................................................
মানুষের জন্য আল্লাহর ক্ষমা
.............................................................................................
যে আমলে পাবেন পরকালে পছন্দের পুরস্কার
.............................................................................................
বাবা-মার অবাধ্যতার পরিণতি
.............................................................................................
জুমার নামাজ সম্পর্কে আল্লাহ যেসব নির্দেশ দিয়েছেন
.............................................................................................
পবিত্র আশুরা আজ
.............................................................................................
কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন নতুন ওসি মোঃ মামুন অর রশীদ
.............................................................................................
১০ মহররমের ঐতিহাসিক ২০ ঘটনা
.............................................................................................
আশুরায় নবিজির (সা.) রোজা পালনের কারণ ও ফজিলত
.............................................................................................
জুমার দিন ও নামাজের ফজিলতপূর্ণ যত ঘোষণা
.............................................................................................
জুমার মুসল্লিদের জন্য যেসব পুরস্কার নির্ধারিত
.............................................................................................
পবিত্র হজ আজ : ক্ষমার আশায় আরাফায় হাজিদের প্রার্থনা
.............................................................................................
আরাফাতের ময়দানে খুতবা দেবেন শায়খ আবদুল করিম আল ঈসা
.............................................................................................
লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা` ধ্বনিতে এখন মক্কা মুকাররামা মুখরিত
.............................................................................................
ঈদুল আজহা কবে, জানা যাবে সন্ধ্যায়
.............................................................................................
কোরবানির আগে যেসব কাজ করতে হবে
.............................................................................................
হজে নারীদের তাওয়াফ ও সায়ী
.............................................................................................
নবিজী (সা.) তিন তাসবিহ ৩ কুল কেন পড়তেন?
.............................................................................................
নামাজ যখন মর্যাদা বৃদ্ধি ও গুনাহ মাফের কারণ
.............................................................................................
জোহরের সঙ্গে জুমার নামাজের পার্থক্য কী?
.............................................................................................
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ইবাদত তাহাজ্জুদ
.............................................................................................
রোগ-ব্যাধি-মহামারিমুক্ত থাকতে নবিজীর আমল
.............................................................................................
জুমার নামাজ কত রাকাত ও পড়ার নিয়ম কী?
.............................................................................................
৬ রোজা রাখার সময় ও নিয়ম
.............................................................................................
পবিত্র জুমাতুল বিদা আজ
.............................................................................................
সারাদেশে ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত
.............................................................................................
পবিত্র শবে কদর আজ
.............................................................................................
ইতেকাফকারী মসজিদের ভেতর কী করবেন, কী করবেন না?
.............................................................................................
জুমার দিন সহজ আমলের বিশেষ প্রতিদান
.............................................................................................
রমজানে অধিক দোয়ার গুরুত্ব
.............................................................................................
অসুস্থ ব্যক্তির কি রোজা রাখতেই হবে?
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Dynamic Scale BD